ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কৌশলগত কারনেই ফিনল্যন্ডের কাছে আইসব্রেকার জাহাজ অর্ডার দিয়েছে ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গ্রীনল্যন্ডের মালিকানার বিষয়টি বারবার জোর দিয়ে আলোচনার মাঝখানে আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত মালিকানার কৌশল হিসেবে ফিনল্যন্ডের কাছে আইসব্রেকার জাহাজ অর্ডার দিয়েছে ওয়াশিংটন। কৌশলগত কারনেই দেশটি দারস্থ হয়েছে বিশ্বের শীর্ষ আইসব্রেকার জাহাজ তৈরি কারী দেশ ফিনল্যন্ডের। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিসিবি এক প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে।

ফিনল্যন্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে অবস্থিত আকার আর্কটিক ট্যাকনোলজি ল্যবরেটরিতে চলছে পরীক্ষা। সেখানে একটি আইসব্রেকারের ক্ষুদ্র মডেল ৭০ মিটার দীর্ঘ পরীক্ষামূলক ট্যাঙ্কে চলাচল করছে। জাহাজটি পানির জমাট পৃষ্ঠ ভেঙে সুন্দর একটি পথ তৈরি করে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি ফিনল্যান্ডের পরবর্তী প্রজন্মের আইসব্রেকার নকশার পরীক্ষা।

প্রকৌশলী রিয়িকা মাতালা বলেন, জাহাজের কার্যক্ষমতা ও ইঞ্জিনের শক্তির কার্যক্ষমতা যথেষ্ট হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মিকা হোভিলাইনেন যোগ করেন, জাহাজের আকৃতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, এ ধরনের হাল দরকার যা বরফকে নিচের দিকে বাঁকিয়ে ভাঙবে- এটা কাটা বা চেরা নয়।

আইসব্রেকার তৈরিতে ফিনল্যান্ড বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী । বিশ্বের তৈরিকৃত ৮০ শতাংশ আইসব্রেকার জাহাজের নকশা ফিনিশ কোম্পানির ও ৬০ শতাংশ জাহাজ ফিনল্যান্ডের শিপইয়ার্ডে তৈরি।

ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্টান আর্টিকার প্রধান নির্বাহী মাউনু ভিসরি বলেন, ফিনল্যান্ড বিশ্বে একমাত্র দেশ যেখানে শীতে সব বন্দর জমে যেতে পারে। দেমের আমদানি করা ৯৭ শতাংশ পণ্য আসে বন্দর ব্যবহার করে।  আইসব্রেকার শীতের কঠিন দিনগুলোতে বন্দরের স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ঠিক রাখে। ফিনল্যান্ডের জন্য এটি খুব প্রয়োজনীয় বিষয়।

দেশটি আইসব্রেকার তৈরিতে বিশ্বে সুনাম থাকায় গত অক্টোবরে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র উপকূলরক্ষী বাহিনীর জন্য ফিনল্যান্ড থেকে চারটি আইসব্রেকার অর্ডার করবে। আরও সাতটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রেই নির্মিত হবে তবে তা ফিনিশ নকশা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্র এগুলোকে ‘আর্কটিক সিকিউরিটি কাটার’ নামে অভিহিত করছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, আমরা বিশ্বের সেরা আইসব্রেকার কিনছি, আর ফিনল্যান্ড এগুলো তৈরির জন্য বিখ্যাত। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী নৌ ও উপকূলরক্ষী জাহাজ দেশেই নির্মিত হওয়ার কথা।

কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ট্রাম্প এই শর্ত শিথিল করেছেন। তিনি রাশিয়া ও চীনের আক্রমণাত্মক সামরিক তৎপরতা ও অর্থনৈতিক অনুপ্রবেশের কথা উল্লেখ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক মহাসাগর ধীরে ধীরে নৌ চলাচলের জন্য সহজ হয়ে উঠছে। আইসব্রেকার পথ তৈরি করলে এশিয়া থেকে ইউরোপে নতুন বাণিজ্যপথ খুলে যাচ্ছে, রাশিয়ার ওপর দিয়ে কিংবা আলাস্কা ও কানাডার উত্তর পাশ ঘুরে গ্রিনল্যান্ড পেরিয়ে। বরফ কমে যাওয়ায় আর্কটিকের নিচে থাকা তেল-গ্যাস ক্ষেত্রেও প্রবেশ সহজ হচ্ছে।

হেলসিঙ্কিভিত্তিক আর্কটিক বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌ কর্মকর্তা পিটার রিবস্কি বলেন, ওই অঞ্চলে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি যান চলাচল হচ্ছে। রাশিয়ায় সক্রিয় তেল-গ্যাস শিল্প রয়েছে, পাশাপাশি ইউরোপ থেকে এশিয়ায় নতুন ট্রান্সশিপমেন্ট রুটও তৈরি হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয়

কৌশলগত কারনেই ফিনল্যন্ডের কাছে আইসব্রেকার জাহাজ অর্ডার দিয়েছে ওয়াশিংটন

Update Time : ০৪:২৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গ্রীনল্যন্ডের মালিকানার বিষয়টি বারবার জোর দিয়ে আলোচনার মাঝখানে আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত মালিকানার কৌশল হিসেবে ফিনল্যন্ডের কাছে আইসব্রেকার জাহাজ অর্ডার দিয়েছে ওয়াশিংটন। কৌশলগত কারনেই দেশটি দারস্থ হয়েছে বিশ্বের শীর্ষ আইসব্রেকার জাহাজ তৈরি কারী দেশ ফিনল্যন্ডের। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিসিবি এক প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে।

ফিনল্যন্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে অবস্থিত আকার আর্কটিক ট্যাকনোলজি ল্যবরেটরিতে চলছে পরীক্ষা। সেখানে একটি আইসব্রেকারের ক্ষুদ্র মডেল ৭০ মিটার দীর্ঘ পরীক্ষামূলক ট্যাঙ্কে চলাচল করছে। জাহাজটি পানির জমাট পৃষ্ঠ ভেঙে সুন্দর একটি পথ তৈরি করে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি ফিনল্যান্ডের পরবর্তী প্রজন্মের আইসব্রেকার নকশার পরীক্ষা।

প্রকৌশলী রিয়িকা মাতালা বলেন, জাহাজের কার্যক্ষমতা ও ইঞ্জিনের শক্তির কার্যক্ষমতা যথেষ্ট হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মিকা হোভিলাইনেন যোগ করেন, জাহাজের আকৃতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, এ ধরনের হাল দরকার যা বরফকে নিচের দিকে বাঁকিয়ে ভাঙবে- এটা কাটা বা চেরা নয়।

আইসব্রেকার তৈরিতে ফিনল্যান্ড বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী । বিশ্বের তৈরিকৃত ৮০ শতাংশ আইসব্রেকার জাহাজের নকশা ফিনিশ কোম্পানির ও ৬০ শতাংশ জাহাজ ফিনল্যান্ডের শিপইয়ার্ডে তৈরি।

ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্টান আর্টিকার প্রধান নির্বাহী মাউনু ভিসরি বলেন, ফিনল্যান্ড বিশ্বে একমাত্র দেশ যেখানে শীতে সব বন্দর জমে যেতে পারে। দেমের আমদানি করা ৯৭ শতাংশ পণ্য আসে বন্দর ব্যবহার করে।  আইসব্রেকার শীতের কঠিন দিনগুলোতে বন্দরের স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ঠিক রাখে। ফিনল্যান্ডের জন্য এটি খুব প্রয়োজনীয় বিষয়।

দেশটি আইসব্রেকার তৈরিতে বিশ্বে সুনাম থাকায় গত অক্টোবরে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র উপকূলরক্ষী বাহিনীর জন্য ফিনল্যান্ড থেকে চারটি আইসব্রেকার অর্ডার করবে। আরও সাতটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রেই নির্মিত হবে তবে তা ফিনিশ নকশা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্র এগুলোকে ‘আর্কটিক সিকিউরিটি কাটার’ নামে অভিহিত করছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, আমরা বিশ্বের সেরা আইসব্রেকার কিনছি, আর ফিনল্যান্ড এগুলো তৈরির জন্য বিখ্যাত। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী নৌ ও উপকূলরক্ষী জাহাজ দেশেই নির্মিত হওয়ার কথা।

কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ট্রাম্প এই শর্ত শিথিল করেছেন। তিনি রাশিয়া ও চীনের আক্রমণাত্মক সামরিক তৎপরতা ও অর্থনৈতিক অনুপ্রবেশের কথা উল্লেখ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক মহাসাগর ধীরে ধীরে নৌ চলাচলের জন্য সহজ হয়ে উঠছে। আইসব্রেকার পথ তৈরি করলে এশিয়া থেকে ইউরোপে নতুন বাণিজ্যপথ খুলে যাচ্ছে, রাশিয়ার ওপর দিয়ে কিংবা আলাস্কা ও কানাডার উত্তর পাশ ঘুরে গ্রিনল্যান্ড পেরিয়ে। বরফ কমে যাওয়ায় আর্কটিকের নিচে থাকা তেল-গ্যাস ক্ষেত্রেও প্রবেশ সহজ হচ্ছে।

হেলসিঙ্কিভিত্তিক আর্কটিক বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌ কর্মকর্তা পিটার রিবস্কি বলেন, ওই অঞ্চলে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি যান চলাচল হচ্ছে। রাশিয়ায় সক্রিয় তেল-গ্যাস শিল্প রয়েছে, পাশাপাশি ইউরোপ থেকে এশিয়ায় নতুন ট্রান্সশিপমেন্ট রুটও তৈরি হচ্ছে।