ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের ওপর গুলি, আহত ৯

গাজীপুরের টঙ্গীতে ঈদের ছুটির দাবিতে বিক্ষোভরত হা-মীম গ্রুপের পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও শটগানের গুলিতে বেশকয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১০ মে) সকাল ১১টার দিকে টঙ্গী নিশাতনগর মেইলগেট হা-মীম গ্রুপের সিসিএল নামে পোশাক কারখানায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে মহাসড়কের দু’পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজটের তৈরি হয়। প্রায় আধ ঘন্টা অবরোধ থাকার পর পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পুলিশ জানায়, শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে চাইলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে। পুলিশও জবাবে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, বর্ধিত ১০ দিনের ছুটি দাবি করে আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নিলে আন্দোলন ত্যাগ করে শ্রমিকরা।

আহতরা জানায়, সাধারণত ঈদের ছুটির ২-৩দিন আগেই ছুটির নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়। তবে এবার তাদের কারখানায় কবে থেকে কতদিন ছুটি দেওয়া হবে তা এখনও কোনো নোটিশ টানানো হয়নি। এজন্য আজ শ্রমিকরা সকালে কারখানায় গেলেও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাজ বন্ধ করে কারখানার নিচেই অবস্থান নেয়। এসময় মালিকপক্ষ সাত দিনের ছুটির ঘোষণা করলেও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ১০দিনের ছুটির দাবি জানানো হয়। পরে দাবি না মানায় কারখানার নিচেই অবস্থান করে আন্দোলন করছিল তারা।

শ্রমিকরা দাবি করেন, এর মধ্যে তাদের একজন শ্রমিক কারখানা থেকে বের হয়ে রাস্তায় গেলে পুলিশ তাকে আহত করে। পরে মাথায় আঘাত পাওয়া ওই শ্রমিককে নিয়া তারা সবাই রাস্তায় পুলিশের কাছে গিয়ে এর জবাব চাইলে তখন পুলিশ তাদের উপর চড়াও হয়। পরে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজন সৃষ্টি হলে পুলিশ গেটের সামনে শটগানের গুলি চালায়। এতে তাদের প্রায় অর্ধশত শ্রমিক আহত হন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদশর্ক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে আহত ৯ জনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। তারা হলেন- মিজানুর রহমন (২২), মামুন মিয়া (২৫), রনি ইসলাম (২৪), জাহিদ হোসেন (২৬), সোহেল রানা (২২), রুবেল মিয়া (২২), রুবেল হোসেন (২৪), হাসান (২৬) , ইমরান হোসেন (১৯)।

Tag :

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের ওপর গুলি, আহত ৯

Update Time : ১২:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ মে ২০২১

গাজীপুরের টঙ্গীতে ঈদের ছুটির দাবিতে বিক্ষোভরত হা-মীম গ্রুপের পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও শটগানের গুলিতে বেশকয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১০ মে) সকাল ১১টার দিকে টঙ্গী নিশাতনগর মেইলগেট হা-মীম গ্রুপের সিসিএল নামে পোশাক কারখানায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে মহাসড়কের দু’পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজটের তৈরি হয়। প্রায় আধ ঘন্টা অবরোধ থাকার পর পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পুলিশ জানায়, শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে চাইলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে। পুলিশও জবাবে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, বর্ধিত ১০ দিনের ছুটি দাবি করে আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নিলে আন্দোলন ত্যাগ করে শ্রমিকরা।

আহতরা জানায়, সাধারণত ঈদের ছুটির ২-৩দিন আগেই ছুটির নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়। তবে এবার তাদের কারখানায় কবে থেকে কতদিন ছুটি দেওয়া হবে তা এখনও কোনো নোটিশ টানানো হয়নি। এজন্য আজ শ্রমিকরা সকালে কারখানায় গেলেও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাজ বন্ধ করে কারখানার নিচেই অবস্থান নেয়। এসময় মালিকপক্ষ সাত দিনের ছুটির ঘোষণা করলেও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ১০দিনের ছুটির দাবি জানানো হয়। পরে দাবি না মানায় কারখানার নিচেই অবস্থান করে আন্দোলন করছিল তারা।

শ্রমিকরা দাবি করেন, এর মধ্যে তাদের একজন শ্রমিক কারখানা থেকে বের হয়ে রাস্তায় গেলে পুলিশ তাকে আহত করে। পরে মাথায় আঘাত পাওয়া ওই শ্রমিককে নিয়া তারা সবাই রাস্তায় পুলিশের কাছে গিয়ে এর জবাব চাইলে তখন পুলিশ তাদের উপর চড়াও হয়। পরে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজন সৃষ্টি হলে পুলিশ গেটের সামনে শটগানের গুলি চালায়। এতে তাদের প্রায় অর্ধশত শ্রমিক আহত হন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদশর্ক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে আহত ৯ জনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। তারা হলেন- মিজানুর রহমন (২২), মামুন মিয়া (২৫), রনি ইসলাম (২৪), জাহিদ হোসেন (২৬), সোহেল রানা (২২), রুবেল মিয়া (২২), রুবেল হোসেন (২৪), হাসান (২৬) , ইমরান হোসেন (১৯)।