বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ বসন্তকাল, ১৮ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি
ব্রেকিং নিউজ
২০৩৫ সাল নাগাদ দেশে ২ কোটি ২০ লাখ হতে পারে ডায়াবেটিস রোগী রিজার্ভ বাড়াতে আসছে অফশোর ব্যাংকিং, হচ্ছে আইন রোজায় সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সকল প্রকার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে পিএসসির প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির পবিত্র রমজানে অফিস সকাল ৯ টা থেকে সাড়ে ৩ টা রমজান মাসে সরকারিভাবে বড় ধরনের কোনও ইফতার পার্টি না করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দালাল ধরতে বিভিন্ন হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান, আটক ৩৬ দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নিয়েছেন দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের পরীক্ষায় বার বার উত্তীর্ণ হয়েছে পুলিশ পুলিশ বাহিনী আজ একটি আধুনিক, যুগোপযোগী, দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব বাহিনী

টাঙ্গাইল শাড়িকে নিজেদের পণ্য হিসেবে দাবি করেছে ভারত; বাংলাদেশের বিস্ময়

অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ২৩ Time View
টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশে একটি বহুল পরিচিত পণ্য। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে টাঙ্গাইল জেলার নাম। তবে সম্প্রতি এটিকে নিজেদের পণ্য হিসেবে দাবি করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে টাঙ্গাইল শাড়িকে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এটি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের বহিঃপ্রকাশ। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক।
ওই পোস্টের নিচে অনেক বাংলাদেশিকে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। তাদের বক্তব্য টাঙ্গাইল বাংলাদেশের একটি জেলার নাম এবং ওই শাড়ির উৎপত্তি এই জেলায়। কিন্তু এই বিতর্কের প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছে আরও এক মাস আগে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শাড়িকে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতে টাঙ্গাইল শাড়িকে ধরা হয় নদীয়া ও পূর্ববর্ধমানের পণ্য হিসেবে।
এদিকে বিভিন্ন গবেষণা এবং এই শিল্পের আদি ধারার সাথে সম্পৃক্তদের বয়ানে এই শাড়ির উৎপত্তিস্থল হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে উঠে আসছে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার পাথরাইল, নলশোধা, ঘারিন্দাসহ বাইশ-তেইশটি গ্রামের নাম। সেখানকার তাঁতীদের বংশধরের একজন হরিপদ বসাক। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ‘পূর্ব বাংলায়’ হলেও বর্তমানে বসবাস করছেন পশ্চিম বঙ্গের নদীয়ায়।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের ওইসব গ্রামকে একসঙ্গে বাইশগ্রাম বলে চিহ্নিত করা হতো। এসব গ্রামই ঠিকানা ছিলো তাঁতীদের। যাদের পদবি ছিল ‘বসাক’।
উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের ব্রিটিশ ভারতে টাঙ্গাইল ছিল ময়মনসিংহ জেলার এক মহকুমা।
হরিপদ বসাক জানান, ১৮৫০ সাল বা তার কাছাকাছি সময়ে তৎকালীন ধামরাই এবং চৌহট্ট নামে দুটি গ্রামে মসলিনের উত্তরসূরী কিছু তাঁতি বসবাস করতেন। সন্তোষ, করটিয়া, দেলদুয়ারে জমিদারি পত্তনের সময় অন্যান্য পেশাজীবীদের পাশাপাশি ওই তাঁতিদেরও সেসব জায়গায় নিয়ে বসতি স্থাপন করা হয়। এসব গ্রামের মানুষেরা যে শাড়ি বয়ন করতেন তাই ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
২০১৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার তাঁতীদের নিয়ে একটি গবেষণা করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন গবেষক সুব্রত ব্যানার্জি, মো. মনিরুজ্জামান মুজিব ও সুমনা শারমিন।
গবেষণায় দেখা যায়, পাকিস্তান পর্বে তো বটেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরেও বসাক সম্প্রদায়ের পরিবারের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। স্বাধীনতার পর পুরো টাঙ্গাইলের নলশোধা গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে তাঁত থাকলেও ২০১৪ সালে সরেজমিনে তারা দেখতে পান মাত্র ২২টি পরিবার এই পেশায় যুক্ত আছে।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাঁতশিল্প গবেষক নিলয় কুমার বসাক বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর বসাক সম্প্রদায়ের বড় অংশই ভারতে চলে যান। তাদের ভিড়টা বেশি হয় নদীয়া জেলার ফুলিয়া গ্রাম এবং পূর্ব বর্ধমানের ধাত্রী গ্রাম ও সমুদ্রগড়ে। তাদের বদৌলতে নদীয়া ও পূর্ব-বর্ধমানে ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’ পরিচিতি লাভ করে।
তিনি আরও বলেন, দেশভাগের বলি হয়ে ভারতে চলে এলেও ‘টাঙ্গাইল’ শব্দটি ছিল বসাক তাঁতিদের অস্থিমজ্জাগত। ফলে উদ্বাস্তু এই তাঁতিরা নিজেদের বয়নীকৃত শাড়ির নাম বা বয়ন কৌশল পরিবর্তন করার কথা কল্পনাও করেননি।
এদিকে টাইঙ্গাইল শাড়িকে ভারত নিজেদের পণ্য দাবি করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, বিসিক এর বিপণন শাখার মহাব্যবস্থাপক অখিল রঞ্জন তরফদার। যিনি ঢাকাই জামদানি, রংপুরের শতরঞ্জি ও শীতলপাটির মত পণ্যগুলোর জিআই প্রাপ্তির সময় এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন
তিনি বলেন, এটা যৌক্তিক নয়। এটার নামই কিন্তু জিওগ্রাফিক্যাল, অর্থাৎ, ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এই পণ্যটার একটা স্বীকৃতি। শাড়িটার যেহেতু টাঙ্গাইলেই উৎপত্তিস্থল, এখানেই উৎকর্ষ। এই স্থানের ভিত্তিতেই কিন্তু এটার স্বীকৃতি হওয়া উচিত।
এদিকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালেয়ের গবেষকদের সুব্রত ব্যানার্জি ও সুমনা শারমিনও এই ধারণাটাকেই সমর্থন করেন। অবশ্য, নিলয় কুমার ও হরিপদ বসাকও এ বিষয়ে বিতর্কের অবকাশ থেকে যায় বলে মনে করেন।
কোনো একটি দেশের পরিবেশ, আবহাওয়া ও সংস্কৃতি যদি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, তাহলে সেটিকে ওই দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জিআই পণ্যের সংখ্যা ১৭ টি। এগুলো হলো- জামদানি, ইলিশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম, নেত্রকোনার সাদামাটি, দিনাজপুরের কাটারীভোগ চাল, কালিজিরা চাল, রংপুরের শতরঞ্জি, রাজশাহী সিল্ক, ঢাকাই মসলিন, রাজশাহী-চাপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম, বাগদা চিংড়ি, শীতল পাটি, বগুড়ার দই, শেরপুরের তুলশীমালা ধান, চাপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আম এবং নাটোরের কাঁচাগোল্লা। এগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসাবে বিশ্বে পরিচিতি পাচ্ছে।
More News Of This Category
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102