ঢাকা ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী বাড়ল সরকারি ছুটি, পরিপত্র জারি ফরিদপুরে গ্রাম আদালত বিষয়ক জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কর্মশালা অনুষ্ঠিত প্রতি বছর ৭ নভেম্বর জাতীয়ভাবে পালিত হবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, পরিপত্র জারি যুদ্ধবিরতি বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেনি, বরং বেড়েছে হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস ইরানের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ আজকের নামাজের সময়সূচি: ২২ এপ্রিল ২০২৬

প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হেনস্তার পর থানায় হস্তান্তর: নথি চুরির অভিযোগ

প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামকে হেফাজতে নিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ। সোমবার (১৭ মে) রাত ৯টার দিকে তাকে সচিবালয় থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ মুহূর্তে তাকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে রাখা হয়েছে।
সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলা এবং আরো কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ এনেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তারা এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। একইসঙ্গে তারা একটি লিখিত অভিযোগ থানায় জমা দিয়েছেন। সেখানে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথির ছবি তোলা এবং আরো কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগটি গ্রহণ করেছি।
রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার (১৭ মে) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। পরে খবর পাওয়া যায় তাকে সেখানে কর্মকর্তারা একটি কক্ষে আটকে রেখেছেন।

রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই ভবনে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রোজিনাকে আটকে রাখার কারণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি।

একপর্যায়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু নথি সরানোর অভিযোগ এনে পুলিশ ডাকা হয়েছে। পরে রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে থানায় আনা হয়েছে।

প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রোজিনা ইসলাম এই মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু রিপোর্ট করছিলেন। যার মধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির রিপোর্ট ছিল। আমরা মনে করছি, এতে তিনি মন্ত্রণালয়ের আক্রোশের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর খান ফেসবুকে লেখেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রথম আলোর রিপোর্টার রোজিনা ইসলামের সঙ্গে স্বাস্থ্য সচিবের অফিস স্টাফদের অসদাচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।’

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে বিস্তারিত কেউ জানাতে রাজি হননি।

এদিকে রোজিনার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু বলেন, রোজিনা একজন সৎ সাংবাদিক। বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ করার জন্য এর আগেও তাকে একাধিকবার নাজেহাল হতে হয়েছিল। এটিও তেমন কোনো ঘটনা হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য রোজিনা ইসলামের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি আছে। এমন একজন সাংবাদিককে হেনস্তা করা অন্যায়, অনভিপ্রেত। কী কারণে আটকে রাখা হয়েছে বিষয়টির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
রোজিনার মুক্তি চেয়ে ওসির কক্ষের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান
প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামকে পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন সাংবাদিকরা।
সোমবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ১০টার এ রিপোট লেখার সনময় দিকে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মামুন অর রশীদের কক্ষের সামনে অবস্থান নেন অর্ধশতাধিক সাংবাদিক। এ সময় তারা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে মুক্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের শাস্তি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত রোজিনাকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছাড়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন।
Tag :
জনপ্রিয়

বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হেনস্তার পর থানায় হস্তান্তর: নথি চুরির অভিযোগ

Update Time : ০৫:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মে ২০২১
প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামকে হেফাজতে নিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ। সোমবার (১৭ মে) রাত ৯টার দিকে তাকে সচিবালয় থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ মুহূর্তে তাকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে রাখা হয়েছে।
সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলা এবং আরো কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ এনেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তারা এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। একইসঙ্গে তারা একটি লিখিত অভিযোগ থানায় জমা দিয়েছেন। সেখানে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথির ছবি তোলা এবং আরো কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগটি গ্রহণ করেছি।
রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার (১৭ মে) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। পরে খবর পাওয়া যায় তাকে সেখানে কর্মকর্তারা একটি কক্ষে আটকে রেখেছেন।

রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই ভবনে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রোজিনাকে আটকে রাখার কারণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি।

একপর্যায়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু নথি সরানোর অভিযোগ এনে পুলিশ ডাকা হয়েছে। পরে রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে থানায় আনা হয়েছে।

প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রোজিনা ইসলাম এই মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু রিপোর্ট করছিলেন। যার মধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির রিপোর্ট ছিল। আমরা মনে করছি, এতে তিনি মন্ত্রণালয়ের আক্রোশের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর খান ফেসবুকে লেখেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রথম আলোর রিপোর্টার রোজিনা ইসলামের সঙ্গে স্বাস্থ্য সচিবের অফিস স্টাফদের অসদাচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।’

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে বিস্তারিত কেউ জানাতে রাজি হননি।

এদিকে রোজিনার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু বলেন, রোজিনা একজন সৎ সাংবাদিক। বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ করার জন্য এর আগেও তাকে একাধিকবার নাজেহাল হতে হয়েছিল। এটিও তেমন কোনো ঘটনা হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য রোজিনা ইসলামের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি আছে। এমন একজন সাংবাদিককে হেনস্তা করা অন্যায়, অনভিপ্রেত। কী কারণে আটকে রাখা হয়েছে বিষয়টির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
রোজিনার মুক্তি চেয়ে ওসির কক্ষের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান
প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামকে পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন সাংবাদিকরা।
সোমবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ১০টার এ রিপোট লেখার সনময় দিকে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মামুন অর রশীদের কক্ষের সামনে অবস্থান নেন অর্ধশতাধিক সাংবাদিক। এ সময় তারা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে মুক্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের শাস্তি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত রোজিনাকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছাড়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন।