ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ফরিদপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অর্থ মন্ত্রণালয় রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের জুট মিল পরিদর্শন তেহরান কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মানবে না: ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৩ জনের মৃত্যু বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম এখন ১০০ টাকার বেশি ছুটির দিনে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, অলিগলিতেও যানজট এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের, একটিতে থাকছে ছুটি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর দিয়েছে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ১০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ফরিদপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে

ছবি:জোবাইদা ফিলিং স্টেশন ফরিদপুর (করিম গ্রুপ ফেসবুক পেজ)

ফরিদপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রল, ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না যানবাহন চালকরা। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন ও গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ী থেকে ভাঙাগামী প্রাইভেটকার চালক সোহাগ মিয়া ২০ লিটার তেল চাইলেও পাম্প থেকে তাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪ লিটার। একইভাবে মোটরসাইকেল আরোহীদের ২০০ টাকার বেশি তেল দিতে অপরাগতা প্রকাশ করছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আরিফ জানান, মাঠপর্যায়ে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত তেলের প্রয়োজন হলেও পাম্প থেকে তা পাওয়া যাচ্ছে না, যা তাদের পেশাগত কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

পাম্পগুলোতে তেলের জন্য মানুষের এই হাহাকার আর উপচে পড়া ভিড় দেখে রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে যান স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী অধরা স্মৃতি। ভিড়ের তীব্রতা দেখে তিনি অভিভূত ও শঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “পাম্পের এই অবস্থা দেখে আমি নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছি না! আমি এর আগে বহু ঈদ দেখেছি, কিন্তু ঈদের চরম মৌসুমেও তেলের পাম্পে এমন জনসমুদ্র কখনও দেখিনি। মানুষের এই অসহায়ত্ব আর তেলের জন্য এই হাহাকার প্রমাণ করছে আমরা কত বড় সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছি। এটা যেন কোনো সাধারণ সংকট নয়, এক মহাবিপর্যয়!”

জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের মতে, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পাম্পগুলোতে। যমুনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। এই সপ্তাহে সামান্য তেল পাওয়া গেলেও আগামী সপ্তাহের সরবরাহ নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পর্যাপ্ত তেল বিক্রি করতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়ছেন ফিলিং স্টেশনের মালিকরা। অন্যদিকে, সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, তেলের অভাবে তাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন স্থবির হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা অধরা স্মৃতির মতে, ঈদের সময় ছাড়া পাম্পগুলোতে আগে কখনও এমন উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়নি।

ভুক্তভোগী চালক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার যেন দ্রুত বিকল্প পন্থায় জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করে এই সংকট নিরসন করে।

Tag :
জনপ্রিয়

ফরিদপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অর্থ মন্ত্রণালয় রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের জুট মিল পরিদর্শন

ফরিদপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে

Update Time : ০৬:১৮:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রল, ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না যানবাহন চালকরা। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন ও গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ী থেকে ভাঙাগামী প্রাইভেটকার চালক সোহাগ মিয়া ২০ লিটার তেল চাইলেও পাম্প থেকে তাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪ লিটার। একইভাবে মোটরসাইকেল আরোহীদের ২০০ টাকার বেশি তেল দিতে অপরাগতা প্রকাশ করছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আরিফ জানান, মাঠপর্যায়ে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত তেলের প্রয়োজন হলেও পাম্প থেকে তা পাওয়া যাচ্ছে না, যা তাদের পেশাগত কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

পাম্পগুলোতে তেলের জন্য মানুষের এই হাহাকার আর উপচে পড়া ভিড় দেখে রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে যান স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী অধরা স্মৃতি। ভিড়ের তীব্রতা দেখে তিনি অভিভূত ও শঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “পাম্পের এই অবস্থা দেখে আমি নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছি না! আমি এর আগে বহু ঈদ দেখেছি, কিন্তু ঈদের চরম মৌসুমেও তেলের পাম্পে এমন জনসমুদ্র কখনও দেখিনি। মানুষের এই অসহায়ত্ব আর তেলের জন্য এই হাহাকার প্রমাণ করছে আমরা কত বড় সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছি। এটা যেন কোনো সাধারণ সংকট নয়, এক মহাবিপর্যয়!”

জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের মতে, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পাম্পগুলোতে। যমুনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। এই সপ্তাহে সামান্য তেল পাওয়া গেলেও আগামী সপ্তাহের সরবরাহ নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

পর্যাপ্ত তেল বিক্রি করতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়ছেন ফিলিং স্টেশনের মালিকরা। অন্যদিকে, সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, তেলের অভাবে তাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন স্থবির হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা অধরা স্মৃতির মতে, ঈদের সময় ছাড়া পাম্পগুলোতে আগে কখনও এমন উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়নি।

ভুক্তভোগী চালক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার যেন দ্রুত বিকল্প পন্থায় জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করে এই সংকট নিরসন করে।