ভারতীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় তাউকটে। ক্রমেই শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপটি পরিণত হচ্ছে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে। কয়েকদিন আগেই আইএমডি জানিয়েছিল যে আরব সাগরে তৈরি হচ্ছে বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় তাউকটে।
আইএমডি থেকে জানা যায়, শক্তি বাড়িয়ে এই ঘূর্ণিঝড় তাউকটে পরিণত হতে চলেছে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে। আগামী তিনদিনের মাথায় এটি ৪টি স্টেজ পার করে শক্তি বাড়াবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এদিকে এই ঘূর্ণিঝড়ে শক্তি বৃদ্ধির জন্য পরিবেশ অনুকূল বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। জানা গেছে ১৮ মে গুজরাত ও পাকিস্তান উপকূলে পৌঁছতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়টি।
মে মাসের গরম হাওয়ার ভারত সাগরের উত্তরে সাধারণত ঘূর্ণিঝড় তৈরির জন্য অনুকূল হয়। বর্তমানে আরব সাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। এই আবহে এটি যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, তা নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত আবহাওয়াবিদরা। আর এই ঘূর্ণাবর্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেই এর নাম হয়ে যাবে তাউকটে। এই ঝড়ের নামকরণ করেছে মিয়ানমার।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আগে থেকেই তাউকটের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। আরব সাগরে তৈরি ঘূর্ণাবর্তের জেরে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে কেরলে। এর জেরে সেখানে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত কেরলে প্রবল বর্ষণ চলার পূর্বাভাস রয়েছে। তার আগে ১৪ মে আরও ঘনীভূত হবে এই ঘূর্ণাবর্ত। এর জেরে কেরল ছাড়াও কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র ও গোয়ার উপকূল ভআসতে চলেছে আগামী পাঁচদিন ধরে। তবে ঝড়টি আছড়ে পড়তে পারে গুজরাতের কচ্ছ এলাকায়। তবে এই ঘূর্ণাবর্তটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর গতিপ্রকৃতি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এই কারণে আবহাওয়া দফতর এখনও গুজরাতকে সরাসরি সতর্কবার্তা পাঠায়নি।
তবে ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোকিবিলার প্রস্তুতির স্বার্থে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক সেরেছেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি। ঘূর্ণিঝড়টি ওমান উপকূল অতিক্রম করতে পারে। অর্থাৎ গুজরাতের কিছুটা অংশ এর জেরে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। আপাতত আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের সব থেকে বেশি প্রভাব পড়তে পারে গুজরাতের কচ্ছ এবং সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের জেরে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করতে পারে। ১৫ মে সেই হাওয়ার গতি বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হতে পারে। ১৬ মে তা ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার বেগে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
ভারত মহাসাগরে কোনও ঘূর্ণিঝড় সংগঠিত হলে নামকরণ করে বিশ্বের ১৩টি দেশ ৷ উত্তর ভারতের ৪০-৪৫ ডিগ্রি পূর্ব থেকে ৯৫-১০০ ডিগ্রি পূর্বে অবস্থিত ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর বা আইএমডি ৷ ১৩টি দেশের পক্ষ থেকেও ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়ে থাকে ৷ যেমন ভারত, ইরান, কাতার, ওমান, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মায়ানমার, আরব আমির শাহি, মলদ্বীপ, থাইল্যান্ড, ইয়েমেন ৷
আন্তজার্তিক ডেস্ক 


















