ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করছে নিউজিল্যান্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩০:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • ৪৪৮ Time View

নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসন জারির প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের নিউজিল্যান্ড সফরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন এক ঘোষণায় এ তথ্য জানান। খবর রয়টার্সের

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, মঙ্গলবারে তার এই ঘোষণা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করতে নেয়া প্রথম কোনো উদ্যোগ।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডার্ন বলেন, সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের সঙ্গে উচ্চ-পর্যায়ের সব রাজনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে।মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কঠোর বার্তা দিতে চাই। আমরা বলতে চাই, এখানে, নিউজিল্যান্ডে বসে যা যা করা সম্ভব, তার সবই আমরা করব। এর মধ্যে একটি হচ্ছে এখন থেকে উচ্চ পর্যায়ের সব আলোচনা আমরা স্থগিত করব। এমন কোনো সাহায্য আমরা মিয়ানমারে দেব না, যেটা সামরিক সরকারকে সুবিধা দেবে।

২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারকে ৩ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

এদিকে ফেসবুকের সরাসরি সম্প্রচার থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ দমনে জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে।
কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থানের অবসানে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম টেলিভিশন ভাষণে নতুন করে অভ্যুত্থানের সাফাই গেয়ে ফের নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার করেছেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং।
সোমবার তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন জান্তা আবার নতুন করে নির্বাচন দেবে এবং বিজয়ীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেবে।
গত নভেম্বরের নির্বাচন সুষ্ঠু ছিল না অভিযোগ করে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেতা স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ অধিকাংশ আইনপ্রণেতাকে আটক করে সেনাবাহিনী।
এর প্রতিবাদে সেনাবাহিনীর নিন্দা-প্রতিবাদে মুখর হয়ে দেশজুড়ে শহরে-নগরে মানুষ বিক্ষোভে নেমেছে। রাস্তায় রাস্তায় সোমবার তৃতীয়দিনের মতো বিক্ষোভ করছে জনতা।
বন্দি সু চির মুক্তিরও দাবি জানাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ তাদের আন্দোলন স্তব্ধ করে দিতে খড়গহস্ত হয়েছে। আন্দোলন ছেড়ে চলে যাওয়া নয়ত কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার হুমকি দিচ্ছে পুলিশ।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল এবং নির্বাচিত সরকারের নেত্রী অং সান সু চিসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের বন্দি করার প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে টানা চারদিন ধরে প্রতিবাদ চলছে।

এদিকে, সেনা অভ্যুত্থানের পর সোমবার প্রথম জনসমক্ষে আসেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি অভ্যুত্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয়

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করছে নিউজিল্যান্ড

Update Time : ০৭:৩০:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১

নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসন জারির প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের নিউজিল্যান্ড সফরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন এক ঘোষণায় এ তথ্য জানান। খবর রয়টার্সের

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, মঙ্গলবারে তার এই ঘোষণা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করতে নেয়া প্রথম কোনো উদ্যোগ।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডার্ন বলেন, সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের সঙ্গে উচ্চ-পর্যায়ের সব রাজনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে।মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কঠোর বার্তা দিতে চাই। আমরা বলতে চাই, এখানে, নিউজিল্যান্ডে বসে যা যা করা সম্ভব, তার সবই আমরা করব। এর মধ্যে একটি হচ্ছে এখন থেকে উচ্চ পর্যায়ের সব আলোচনা আমরা স্থগিত করব। এমন কোনো সাহায্য আমরা মিয়ানমারে দেব না, যেটা সামরিক সরকারকে সুবিধা দেবে।

২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারকে ৩ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

এদিকে ফেসবুকের সরাসরি সম্প্রচার থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ দমনে জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে।
কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থানের অবসানে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম টেলিভিশন ভাষণে নতুন করে অভ্যুত্থানের সাফাই গেয়ে ফের নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার করেছেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং।
সোমবার তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন জান্তা আবার নতুন করে নির্বাচন দেবে এবং বিজয়ীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেবে।
গত নভেম্বরের নির্বাচন সুষ্ঠু ছিল না অভিযোগ করে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেতা স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ অধিকাংশ আইনপ্রণেতাকে আটক করে সেনাবাহিনী।
এর প্রতিবাদে সেনাবাহিনীর নিন্দা-প্রতিবাদে মুখর হয়ে দেশজুড়ে শহরে-নগরে মানুষ বিক্ষোভে নেমেছে। রাস্তায় রাস্তায় সোমবার তৃতীয়দিনের মতো বিক্ষোভ করছে জনতা।
বন্দি সু চির মুক্তিরও দাবি জানাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ তাদের আন্দোলন স্তব্ধ করে দিতে খড়গহস্ত হয়েছে। আন্দোলন ছেড়ে চলে যাওয়া নয়ত কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার হুমকি দিচ্ছে পুলিশ।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল এবং নির্বাচিত সরকারের নেত্রী অং সান সু চিসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের বন্দি করার প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে টানা চারদিন ধরে প্রতিবাদ চলছে।

এদিকে, সেনা অভ্যুত্থানের পর সোমবার প্রথম জনসমক্ষে আসেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি অভ্যুত্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।