ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
তিন দলের দুইজন করে প্রতিনিধি নিয়ে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা যেকোনো প্রকার মব ভায়োলেন্স অগ্রহণযোগ্য: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদ থেকে নামিয়ে আমরা ঘরে ফিরবো: মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী হাদিকে গুলির প্রতিবাদে সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ আজ আগামী ৭২ ঘণ্টা হাদির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, নতুন ইন্টারভেনশন করা হবে না: বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি সহ আরও আটজন অধিকারকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ইরান হাদির চিকিৎসার সকল ব্যয় বহন করবে সরকার গুলি ওসমান হাদির ডান দিক দিয়ে ঢুকে বামে বেরিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যের ডিজি এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে দুর্ঘটনার শিকার উড়োজাহাজের ও হেলিকপ্টারের আরোহী কেউই বেঁচে নেই

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মাঝ আকাশে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ও সামরিক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের পর নদীতে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার শিকার উড়োজাহাজের ৬৪ আরোহী ও হেলিকপ্টারের তিন সেনার কেউই বেঁচে নেই।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে মাঝ আকাশে আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী প্লেনের সঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ হয়। পরে উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারটি হিমশীতল পটোম্যাক নদীতে বিধ্বস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ বছর পর কোনো যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনার শিকার হলো।

আমেরিকান এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, উড়োজাহাজটিতে ৬৪ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ৬০ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু। আর এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, হেলিকপ্টারটিতে তিন সেনা ছিলেন। সামরিক হেলিকপ্টারটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট ছিল।

সংঘর্ষ হওয়ার আগে হেলিকপ্টারটিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তারা হেলিকপ্টারের পাইলটের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে আমেরিকান এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজটিকে দেখা যাচ্ছে কি না।

নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে হেলিকপ্টারের পাইলটের উদ্দেশে বলা হয়, পিএটি টু-ফাইভ, আপনি কি সিআরজে প্লেনটিকে দেখতে পাচ্ছেন?’ এরপর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে আবারও বলা হয়, ‘পিএটি টু-ফাইভ, সিআরজে উড়োজাহাজের পেছন দিক দিয়ে পার হোন।

সংঘর্ষের আগ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণকক্ষের আরেকটি অডিওতে হেলিকপ্টারের পাইলটকে বলতে শোনা যায়, উড়োজাহাজটিকে দেখতে পেয়েছি পিএটি টু-ফাইভ, ভিজ্যুয়াল সেপারেশনের অনুরোধ জানাচ্ছি। এরপর ১৩ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে অডিওতে হাঁপানোর মতো কিছু শব্দ শোনা যায়। জোরে ‘ওহ’ বলে একটি শব্দও শোনা গেছে। বিধ্বস্ত হওয়ার সময় ওই শব্দগুলো ধারণ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অডিওটিতে অন্য একটি উড়োজাহাজের পাইলটের কথাও শোনা গেছে, যিনি ওই সংঘর্ষ ও বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি দেখেছেন এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষকে নিশ্চিত করেছেন। আরেক পাইলটকে বলতে শোনা গেছে, হ্যাঁ, আমরা রানওয়ের কাছে ছিলাম ও পটোম্যাক নদীর অপর পাশে আগুনের শিখা দেখেছি।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে কোনো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেনি। এর আগে ১৯৮২ সালে পটোম্যাক নদীর ওপর ফোরটিনথ স্ট্রিট ব্রিজে এয়ার ফ্লোরিডা ফ্লাইট ৯০ বিধ্বস্ত হয়েছিল। এই ঘটনায় ৭০ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিহত হন। শুধু চার যাত্রী এবং একজন ক্রু বেঁচে গিয়েছিলেন।

সূত্র : সিএনএন, রয়টার্স

Tag :
জনপ্রিয়

তিন দলের দুইজন করে প্রতিনিধি নিয়ে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রে দুর্ঘটনার শিকার উড়োজাহাজের ও হেলিকপ্টারের আরোহী কেউই বেঁচে নেই

Update Time : ০৩:৩৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মাঝ আকাশে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ও সামরিক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের পর নদীতে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার শিকার উড়োজাহাজের ৬৪ আরোহী ও হেলিকপ্টারের তিন সেনার কেউই বেঁচে নেই।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে মাঝ আকাশে আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী প্লেনের সঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ হয়। পরে উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারটি হিমশীতল পটোম্যাক নদীতে বিধ্বস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ বছর পর কোনো যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনার শিকার হলো।

আমেরিকান এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, উড়োজাহাজটিতে ৬৪ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ৬০ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু। আর এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, হেলিকপ্টারটিতে তিন সেনা ছিলেন। সামরিক হেলিকপ্টারটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট ছিল।

সংঘর্ষ হওয়ার আগে হেলিকপ্টারটিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তারা হেলিকপ্টারের পাইলটের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে আমেরিকান এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজটিকে দেখা যাচ্ছে কি না।

নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে হেলিকপ্টারের পাইলটের উদ্দেশে বলা হয়, পিএটি টু-ফাইভ, আপনি কি সিআরজে প্লেনটিকে দেখতে পাচ্ছেন?’ এরপর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে আবারও বলা হয়, ‘পিএটি টু-ফাইভ, সিআরজে উড়োজাহাজের পেছন দিক দিয়ে পার হোন।

সংঘর্ষের আগ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণকক্ষের আরেকটি অডিওতে হেলিকপ্টারের পাইলটকে বলতে শোনা যায়, উড়োজাহাজটিকে দেখতে পেয়েছি পিএটি টু-ফাইভ, ভিজ্যুয়াল সেপারেশনের অনুরোধ জানাচ্ছি। এরপর ১৩ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে অডিওতে হাঁপানোর মতো কিছু শব্দ শোনা যায়। জোরে ‘ওহ’ বলে একটি শব্দও শোনা গেছে। বিধ্বস্ত হওয়ার সময় ওই শব্দগুলো ধারণ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অডিওটিতে অন্য একটি উড়োজাহাজের পাইলটের কথাও শোনা গেছে, যিনি ওই সংঘর্ষ ও বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি দেখেছেন এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষকে নিশ্চিত করেছেন। আরেক পাইলটকে বলতে শোনা গেছে, হ্যাঁ, আমরা রানওয়ের কাছে ছিলাম ও পটোম্যাক নদীর অপর পাশে আগুনের শিখা দেখেছি।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে কোনো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেনি। এর আগে ১৯৮২ সালে পটোম্যাক নদীর ওপর ফোরটিনথ স্ট্রিট ব্রিজে এয়ার ফ্লোরিডা ফ্লাইট ৯০ বিধ্বস্ত হয়েছিল। এই ঘটনায় ৭০ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিহত হন। শুধু চার যাত্রী এবং একজন ক্রু বেঁচে গিয়েছিলেন।

সূত্র : সিএনএন, রয়টার্স