ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিট আচমকা ম্যাচের ফল নির্ধারক গোল ঘানার, পানামার হৃদয় ভাঙা পর্তুগালের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হলো হতাশাজনক ড্র দিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সই করলেন ট্রাম্প আমি-ই বস: জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৮ জুন ২০২৬ আলজেরিয়ার গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ‘মাস্কম্যান’ কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান আজ মৌলভীবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেসি’র তাণ্ডব! লন্ডভন্ড আলজেরিয়া ওয়ার্ল্ড কাপের ওল টাইম টপ স্কোরার মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে মেসি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মেসির হ্যাটট্রিক!

রোহিঙ্গাদের ২১ বাসে করে নিয়ে যাচ্ছে ভাসানচর

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:৪৮:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • ৪৬৬ Time View

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে চতুর্থ ধাপে (প্রথম অংশ) রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভাসানচরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে ২১টি বাস।

রোববার বেলা ১২টায় উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে চট্টগ্রামের পথে তাদের নিয়ে ২১টি বাস রওনা দিয়েছে। তার মধ্যে প্রায় হাজার খানেক রোহিঙ্গা রয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ আরেকটি দল যাওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার ও শনিবার সকালে এই রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে বাসে করে আনা হয়।

জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে যাওয়ার উদ্দেশে শনিবার রাত থেকেই রোহিঙ্গারা সপরিবারে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আসতে থাকেন।  রোববার সকালের মধ্যে সেখানে হাজারখানেক রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে। তারা সকালে বাসে করে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

জানা গেছে, তাদের নাম নিবন্ধন চলছে। যাদের নিবন্ধন সম্পন্ন হচ্ছে তাদের মালপত্র ট্রাকে তুলে পরিবারের সদস্যদের বাসে ওঠানো হচ্ছে। প্রথম ধাপে ২১টি বাসে তাদের ওঠানো হয়।  বাসগুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, আজ সন্ধ্যা বা রাতের মধ্যে বাসে ওঠা নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামের বিএন শাহীন কলেজের ট্রানিজট ক্যাম্পে পৌঁছাবেন। সেখানে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষে নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সোমবার তাদের জাহাজে তোলা হবে। ১৫ ফেব্রুয়ারি তারা ভাসানচরে পৌঁছাবেন।

এ বিষয়ে  ভাসানচর প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩) উপ-প্রকল্পের পরিচালক কমান্ডার এম আনোয়ারুল কবির জানান,  চতুর্থ ধাপে (প্রথম অংশ)  হাজারখানেক রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশে উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে রওনা দিয়েছেন। এবার ৩-৪ হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরে স্বেচ্ছায় আসতে রাজি হয়েছেন।

এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে পৌঁছান। সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি সকালে ১ হাজার ৭৭৮ রোহিঙ্গা নতুন করে ভাসানচরে পৌঁছান। এ ছাড়া অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে গত মে মাসে ভাসানচরে নিয়ে যায় সরকার, তারাও সেখানে রয়েছেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আগে আশ্রয় নেওয়াসহ বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে বাস করছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

Tag :

ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিট আচমকা ম্যাচের ফল নির্ধারক গোল ঘানার, পানামার হৃদয় ভাঙা

রোহিঙ্গাদের ২১ বাসে করে নিয়ে যাচ্ছে ভাসানচর

Update Time : ০৮:৪৮:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে চতুর্থ ধাপে (প্রথম অংশ) রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভাসানচরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে ২১টি বাস।

রোববার বেলা ১২টায় উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে চট্টগ্রামের পথে তাদের নিয়ে ২১টি বাস রওনা দিয়েছে। তার মধ্যে প্রায় হাজার খানেক রোহিঙ্গা রয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ আরেকটি দল যাওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার ও শনিবার সকালে এই রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে বাসে করে আনা হয়।

জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে যাওয়ার উদ্দেশে শনিবার রাত থেকেই রোহিঙ্গারা সপরিবারে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আসতে থাকেন।  রোববার সকালের মধ্যে সেখানে হাজারখানেক রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে। তারা সকালে বাসে করে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

জানা গেছে, তাদের নাম নিবন্ধন চলছে। যাদের নিবন্ধন সম্পন্ন হচ্ছে তাদের মালপত্র ট্রাকে তুলে পরিবারের সদস্যদের বাসে ওঠানো হচ্ছে। প্রথম ধাপে ২১টি বাসে তাদের ওঠানো হয়।  বাসগুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, আজ সন্ধ্যা বা রাতের মধ্যে বাসে ওঠা নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামের বিএন শাহীন কলেজের ট্রানিজট ক্যাম্পে পৌঁছাবেন। সেখানে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষে নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সোমবার তাদের জাহাজে তোলা হবে। ১৫ ফেব্রুয়ারি তারা ভাসানচরে পৌঁছাবেন।

এ বিষয়ে  ভাসানচর প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩) উপ-প্রকল্পের পরিচালক কমান্ডার এম আনোয়ারুল কবির জানান,  চতুর্থ ধাপে (প্রথম অংশ)  হাজারখানেক রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশে উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে রওনা দিয়েছেন। এবার ৩-৪ হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরে স্বেচ্ছায় আসতে রাজি হয়েছেন।

এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে পৌঁছান। সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি সকালে ১ হাজার ৭৭৮ রোহিঙ্গা নতুন করে ভাসানচরে পৌঁছান। এ ছাড়া অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে গত মে মাসে ভাসানচরে নিয়ে যায় সরকার, তারাও সেখানে রয়েছেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আগে আশ্রয় নেওয়াসহ বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে বাস করছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।