রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৪০ অপরাহ্ন
১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ বসন্তকাল, ১৪ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি
ব্রেকিং নিউজ
জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে কাতারে প্রতিনিধি পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল গুচ্ছভুক্ত ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সময় একদিন বাড়ানো হয়েছে মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনা তদারকি করতে মঙ্গলবার অভিযান শুরু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে দেশটিতে তুমুল বিক্ষোভ চলছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুন মাসের শেষের দিকে হতে পারে শবে বরাত বা লাইলাতুল শবে বরাতের আমল ও ফজিলত আজ পবিত্র শবেবরাত আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা পবিত্র শবে বরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবকল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সু চির জনগণকে অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামার আহ্বান

আন্তজার্তিক ডেস্ক
  • Update Time : সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
  • ১৩৩ Time View

গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তির মধ্যদিয়ে মিয়ানমারে বছর দশেক আগে যে ‘স্বাধীন যুগ’ শুরু হয়েছিল তা আবার শেষ হলো তাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে।

সোমবার মিয়ানমার সেনাবাহিনী ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও দলটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের আটক করে। একই সঙ্গে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে জনগণকে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন সু চি। দেশটির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সোমবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের জনগণের সামরিক অভ্যুত্থান মেনে নেয়া উচিত নয় এবং এর বিরুদ্ধে অবশ্যই বিক্ষোভ করা উচিত। খবর রয়টার্সের।

সোমবার সকালে আটকের পর থেকেই সু চি এবং তার দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা কর্মীদের আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি। দেশের সেনাবাহিনী যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার ফলে দেশে আবারও স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চালু হবে বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে এনএলডি। সু চির নাম নিয়েই এসব বিবৃতি দেয়া হলেও সেখানে তার স্বাক্ষর ছিল না।

সু চির পক্ষ থেকে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই সামরিক অভ্যুত্থান মেনে না নিতে আমি লোকজনকে আহ্বান জানাচ্ছি। আন্তরিকভাবে সবাই এই বিক্ষোভের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’

এনএলডির চেয়ারম্যান উইন হেইন একটি বিবৃতি জারি করেছেন। তার হাতে লেখা ওই বিবৃতিকে নির্ভরযোগ্য এবং এটি সু চির ইচ্ছার প্রতিফলন বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। উইন হেইন বলেন, আমার জীবনের দিব্যি দিয়ে বলছি এটা অং সান সুচির নির্ভরযোগ্য বিবৃতি যা তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, মিয়ানমারে সব ধরনের আর্থিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংক। সোমবার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি এবং ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ার পরেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মিয়ানমার ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান রাজনৈতি পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট সেবা ব্যহত হওয়ায় দেশটির সব ব্যাংক তাদের সব ধরনের আর্থিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব ব্যাংকের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়ে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নেয়া হবে এবং কবে থেকে সব কার্যক্রম আবারও শুরু হবে সে বিষয়টি পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

সোমবার সকালে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ বেশ কয়েকজনকে আটকের পর পরই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

এনএলডির মুখপাত্র মিও নিয়ুন্ট জানিয়েছেন, সোমবার সকালে অভিযান চালিয়ে এসব নেতাকে আটক করা হয়েছে। গত নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলকে জালিয়াতি বলে উল্লেখ করেই মূলত ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হ্লেইংয়ের কাছে দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।

জরুরি অবস্থার মধ্যেই রাজধানী নাইপিদোতে মোবাইল ফোন ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং রেডিওর প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন মায়াবতির সম্প্রচার চালু রয়েছে। সোমবার সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের বিষয়টি মায়াবতির মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়েছে। টেলিভিশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হ্লেইং দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন।

গার্ডিয়ানের এক নিবন্ধে সু চির গ্রেপ্তারের ঘটনাটিকে ‘মিয়ানমারের ১০ বছরের স্বাধীনতার অবসান’ হিসেবে মন্তব্য করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০১০ সালের নভেম্বরে এমনই এক শীতের সন্ধ্যায় মিয়ানমারে শুরু হয়েছিল এক ইতিহাসের। যে দেয়াল সাধারণ মানুষ থেকে সু চিকে আলাদা করে রেখেছিল, সেই দেয়াল তুলে তাকে ‘মুক্তি’ দেয় সেনাবাহিনী।

সু চির গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। মিয়ানমারের জাতির পিতা অং সানের মেয়ে সু চি কথা বলেন গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা নিয়ে।

গণতন্ত্রের জন্য জান্তা শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম করেন সু চি। এ জন্য তাকে প্রায় ১৫ বছর গৃহবন্দি থাকতে হয়। তিনি ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পান। ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পান।

২০১৫ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত প্রথম অবাধ নির্বাচনে সু চির এনএলডি বিপুল জয় পায়। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে ক্ষমতায় বসে এনএলডি। সু চির সরকারের সময়েই মিয়ানমারের রাখাইনে বর্বরতার শিকার হয় রোহিঙ্গারা। লাখো রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে।

সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ঘিরে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার ও প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর মধ্যে কয়েকদিন ধরে দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা চলছিল।

এরই এক পর্যায়ে সোমবার সেনাবাহিনী দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করে। সামরিক বাহিনী পরিচালিত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিও ভাষণে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিং অং লাইংয়ের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।

More News Of This Category
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102