মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশের তাকরিম

অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২৬ Time View

আবারো আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় দেশের নাম উজ্জ্বল করলো ছোট্ট হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত ‘৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা’য় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে সে।

স্থানীয় সময় বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে মক্কার পবিত্র হারাম শরিফে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত বিজয়ীদের মধ্যে তৃতীয় বিজয়ী হিসেবে তাকরিমের নামও ঘোষণা করা হয়। এ সময় তার হাতে এক লাখ রিয়াল (প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা) পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার উপদেষ্টা ও মক্কা নগরীর গভর্নর খালেদ আল ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ এবং দেশটির ইসলাম ও দাওয়াহ বিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে শেখসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।

কুরআন হিফজের বড় এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১১১টি দেশের ১৫৩ জন হাফেজ অংশ নেয়। তাদের মধ্যে তাকরিম এই বিরাট গৌরব অর্জন করল।

সালেহ আহমাদ তাকরিম টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ভাদ্রা গ্রামের হাফেজ আব্দুর রহমানের ছেলে। সে রাজধানীর ‘মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী মাদরাসা’র কিতাব বিভাগের শিক্ষার্থী।

পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতার বৃহৎ এ আসরে অংশ নিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে ফয়জুল কুরআনের প্রধান শিক্ষক হাফেজ কারী মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন সালেহ আহমাদ তাকরিমকে নিয়ে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

নয়া দিগন্তকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক হাফেজ মাওলানা হোসাইন রাহমানী। তিনি জানান, এর আগে লিবিয়ায় আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ সালেহ আহমাদ তাকরিম সপ্তম স্থান অর্জন করে। এ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সপ্তম স্থান অর্জন করার পাশাপাশি সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে বিশেষ সম্মাননা অর্জন করে সে।

একইসাথে গত ২২ মে আন্তর্জাতিক কিরাত সংস্থা বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে লিবিয়ার বন্দরনগরী বেনগাজিতে অনুষ্ঠিত ১০ম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় তাকরিম।

তারও আগে তেহরানের আন্দিশাহ (আল-ফিকির) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ৩৮তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় তাকরিম বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা বিশ্ব দরবারে সমুন্নত করে। ২০২০ সালের পবিত্র রমজান মাসে বাংলাভিশন টেলিভিশন আয়োজিত হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় সালেহ আহমাদ তাকরিম।

মক্কায় অনুষ্ঠিত এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সালেহ আহমাদ তাকরিম ১৫ পারা গ্রুপে (চতুর্থ গ্রুপ) অংশ নেয়। এই গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করেছে লিবিয়ার যিয়াদ মোহাম্মদ খলিল হাবিশ। পুরস্কার হিসেবে সে পেয়েছে এক লাখ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে কেনিয়ার আব্দুর রহমান মুসা আব্দুল্লাহ। সে পেয়েছে এক লাখ ১০ হাজার সৌদি রিয়াল। আর তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বাংলাদেশের সালেহ আহমাদ তাকরিম। সে এক লাখ সৌদি রিয়াল পুরস্কার পেয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা।

এবারের ‘৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা’ সর্বমোট পাঁচটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পুরস্কার দেয়া হয়েছে অন্তত ২৭ লাখ রিয়াল।

প্রথম গ্রুপ : কিরাতে সাব’আ-সহ সম্পূর্ণ কুরআন। এই গ্রুপে প্রথম হয়েছেন মিসরের বেলাল আস-সাইয়েদ মোহাম্মদ মোহাম্মদ আল সানহুরি। তিনি পেয়েছেন তিন লাখ ৫০ হাজার রিয়াল। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন সুদানের আব্দুল লতিফ উসমান আব্দুল হামিদ মালিক। তিনি পেয়েছেন তিন লাখ ২৫ হাজার রিয়াল। তৃতীয় হয়েছেন সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন ইবরাহিম আব্দুস সালাম ইদরিস। তার পুরস্কারের অংক তিন লাখ রিয়াল।

দ্বিতীয় গ্রুপ : তাজবীদ ও তাফসীরসহ সম্পূর্ণ কুরআন। এই গ্রুপে প্রথম হয়েছেন কিরগিজস্তানের মোহাম্মদ আলি আমারুফ। পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন দুই লাখ ৫০ হাজার রিয়াল। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন সৌদি আরবের খালিদ বিন সুলাইমান সালেহ আল বারাকানি। তিনি জিতিছেন দুই লাখ ৩০ হাজার রিয়াল। তৃতীয় হয়েছেন বাহরাইনের আব্দুর রহামান বাদী মুহাহহির মুকাররিদ কালিব। তিনি পেয়েছেন দুই লাখ ১০ হাজার রিয়াল।

তৃতীয় গ্রুপ : তাজবীদসহ সম্পূর্ণ কুরআন। এই গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মরক্কোর আহমাদ আশারি। পুরস্কার স্বরূপ তিনি পেয়েছেন দুই লাখ রিয়াল। দ্বিতীয় হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার জাহরান আওজান। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৮৫ হাজার রিয়াল এবং তৃতীয় হয়েছেন গাম্বিয়ার আব্দুল্লাহ আনজাঈ। তিনি জিতেছেন এক লাখ ৭০ হাজার রিয়াল।

পঞ্চম গ্রুপ : পাঁচ পারা গ্রুপ। (এই গ্রুপে ওআইসির সদস্য নয়- এমন দেশের হিফজ প্রতিনিধিরা অংশ নেয়) এই গ্রুপে প্রথম হয়েছে থাইল্যান্ডের আহমাদ সামুহ। সে পেয়েছে ৫৫ হাজার সৌদি রিয়াল। দ্বিতীয় হয়েছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ইদরিস মোহাম্মদ জেইন। সে পেয়েছে ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে জার্মানির আমিন কানান। সে ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল পুরস্কার পেয়েছে।

সূত্র : সাবাক ও অন্যান্য

More News Of This Category
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102