আল জাজিরা জানায়, আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনা ‘অপরাধমূলক কাজ’ হিসেবে গণ্য হবে না এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে ইসরায়েলি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। বুধবার এর নিন্দা করে ফিলিস্তিনরা।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চুক্তি মোতাবেক মুসলিমরা আল-আকসা মসজিদে ও ইসরায়েলিরা পশ্চিম দেওয়ালের কাছে প্রার্থনা করে আসছিল।
ইসরায়েলি রাব্বি আরেহ লিপ্পো ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্র স্থানটিতে প্রার্থনা করতে চাইলে ইসরায়েলি পুলিশ বাধা দেয়। এরপর তিনি মসজিদে ইহুদিদের প্রবেশের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আদালতে যাওয়ার পর বিচারিক সিদ্ধান্তটি আসে।
ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইব্রাহিম শতায়েহ এ অঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে চুক্তি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একত্ব হতে বলেন আরব দেশগুলোকে।
এত দিন আল-আকসা প্রাঙ্গণের টেম্পল মাউন্টে ইহুদিরা প্রবেশের অনুমতি পেলেও প্রার্থনা করতে পারত না।
১৯৪৮ সাল থেকে জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদ আল-আকসার দেখভাল করছে জর্ডান। ১৯৯৪ সালে আম্মান ও তেল আবিবের মধ্য এ বিষয়ে শান্তি চুক্তি হয়। ইসরায়েলি আদালতের এই রায়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জর্ডান সরকার পরিচালিত জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াক্ফ। তারা বলছে, আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদার গুরুতর লঙ্ঘন এটি।
আইনজীবী এবং জেরুজালেম ও আল-আকসা বিশেষজ্ঞ খালেদ জাবারকা এ বিষয়ে আল জাজিরাকে বলেন, আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা ও স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের কোনো আইনগত এখতিয়ার ইসরায়েলি আদালতের নেই। আইনি দিক থেকে এ সিদ্ধান্ত বাতিলযোগ্য।
ইসরায়েলের বিচার বিভাগের এ রায়ে মুসলমানদের পবিত্রতম স্থানটিতে ইহুদি অধিগ্রহণের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
ইহুদিদের আল-আকসায় প্রবেশের কারণে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। ফিলিস্তিনিরা ইহুদিদের প্রবেশকে উসকানি হিসেবে দেখে। যাকে চুক্তি লঙ্ঘনের পরিকল্পিত চেষ্টা বলা হয়।
জেরুজালেমের প্রাচীর ঘেরা পুরোনো শহর ও এ অঞ্চলের অনেকটা অংশ ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে দখল করে নেয় ইসরায়েল। এরপর ১৯৮০ সালে পূর্ব জেরুজালেমে দখল সম্প্রসারিত করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনো এর স্বীকৃতি দেয়নি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















