ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওমিক্রন উদ্বেগ যেন জাঁকিয়ে বসছে লন্ডনে, রাস্তাঘাট শুনশান

ওমিক্রন উদ্বেগ যেন আরও জাঁকিয়ে বসছে লন্ডনে। রাস্তাঘাট শুনশান। হোটেল, রেস্তরাঁ এবং পাবগুলো গ্রাহকের জন্য চাতকের মতো অপেক্ষা করছে। সেই চেনা ভিড় উধাও। আর এক সপ্তাহ পরই বড়দিনের উৎসবে মাতবে গোটা বিশ্ব। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে লন্ডন-সহ গোটা ব্রিটেন উৎসবমুখর হতে পারবে কিনা তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবারই ইংল্যান্ডের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ক্রিস উইটি জনগণকে পরামর্শ দিয়েছেন খুব প্রয়োজন এবং কাজের গুরুত্ব বুঝে তবেই তাঁরা যেন বাড়ির বাইরে বের হন। অযথা জমায়েত না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ সামলে যখন ব্রিটেনে ব্যবসা বাণিজ্য মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই ওমিক্রনের হানা ফের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়কার ছবি ফিরিয়ে এনেছে। লন্ডনে নিত্যদিনের চেনা ছবি যেন এক লহমায় উধাও হয়ে গিয়েছে। বাস, ট্রাম, ট্রেনে ভিড় নেই। ব্রিটেনের সবচেয়ে ব্যস্তবহুল পর্যটকস্থল লন্ডন সেতু, ওয়েস্টমিনস্টার সেতু এবং লন্ডন ওয়াটারলু স্টেশনে যেন একটা রহস্যময় নিস্তব্ধতা।

দক্ষিণ লন্ডনের এক রেস্তরাঁ মালিক বলেন, ‘ভেবেছিলাম বড়দিনের আগে ব্যবসা ভাল হবে। কিন্তু গত শীতের লকডাউনের মতো এ বারও সেই একই দৃশ্য ফিরে আসতে চলেছে বলে মনে হচ্ছে। অনেকেই বুকিং বাতিল করছেন। যা একটা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সঙ্কেত দিচ্ছে’।

ওমিক্রন মোকাবিলায় ব্রিটেনের বহু জায়গায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে ইতিমধ্যেই। পাব, রেস্তোরাঁ এবং বাণিজ্যক্ষেত্রগুলো খোলা থাকলেও পর্যাপ্ত গ্রাহকের দেখা মিলছে না বলে জানিয়েছেন ম্যাট ওয়ার্ড নামে এক ব্যবসায়ী। ওয়াল্টিং স্ট্রিট, ল্যানডেলহল মার্কেটে ডিসেম্বরে পাবগুলো ভিড়ে ঠাসা থাকে। কিন্তু সেই ছবি উধাও ওমিক্রন সংক্রমণের জেরে।

ওদিকে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণে নতুন রেকর্ড গড়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে বৃহস্পতিবার ৮৮ হাজার ৩৭৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

এ নিয়ে দেশটিতে পরপর দ্বিতীয় দিন কভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের রেকর্ড সৃষ্টি হলো। বুধবার আক্রান্ত হয়েছিল ৭৮৬১০ জন। আগের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ছিল গত ৮ জানুয়ারির ৬৮০৫৩ জন।

করোনাভাইরাসের আগের ধরন ডেল্টা এবং নতুন ওমিক্রন ধরন উভয়েই একই সঙ্গে দেশটির মানুষকে আক্রান্ত করে চলেছে বলে দেশটির শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চিফ মেডিকেল অফিসার ক্রিস হুইটি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে আরো রেকর্ড ভাঙার ঘটনা ঘটতে চলেছে। তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহে বারবার রেকর্ড ভাঙার  ঘটনা ঘটবে, কারণ সংক্রমণের হার অবিশ্বাস্যভাবে বাড়ছে’।

বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চলতি মাসের শেষদিকে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণের হার এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ মহামারী চলাকালে যুক্তরাজ্যে সংক্রমণের মোট সংখ্যা বেড়ে প্রায় এক কোটি ১১ লাখে দাঁড়িয়েছে।

দেশটিতে করোনাভাইরাসে আরও ১৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় এক লাখ ৪৭ হাজারে দাঁড়ালো।

Tag :

ওমিক্রন উদ্বেগ যেন জাঁকিয়ে বসছে লন্ডনে, রাস্তাঘাট শুনশান

Update Time : ০৩:৩৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২১

ওমিক্রন উদ্বেগ যেন আরও জাঁকিয়ে বসছে লন্ডনে। রাস্তাঘাট শুনশান। হোটেল, রেস্তরাঁ এবং পাবগুলো গ্রাহকের জন্য চাতকের মতো অপেক্ষা করছে। সেই চেনা ভিড় উধাও। আর এক সপ্তাহ পরই বড়দিনের উৎসবে মাতবে গোটা বিশ্ব। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে লন্ডন-সহ গোটা ব্রিটেন উৎসবমুখর হতে পারবে কিনা তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবারই ইংল্যান্ডের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ক্রিস উইটি জনগণকে পরামর্শ দিয়েছেন খুব প্রয়োজন এবং কাজের গুরুত্ব বুঝে তবেই তাঁরা যেন বাড়ির বাইরে বের হন। অযথা জমায়েত না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ সামলে যখন ব্রিটেনে ব্যবসা বাণিজ্য মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই ওমিক্রনের হানা ফের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়কার ছবি ফিরিয়ে এনেছে। লন্ডনে নিত্যদিনের চেনা ছবি যেন এক লহমায় উধাও হয়ে গিয়েছে। বাস, ট্রাম, ট্রেনে ভিড় নেই। ব্রিটেনের সবচেয়ে ব্যস্তবহুল পর্যটকস্থল লন্ডন সেতু, ওয়েস্টমিনস্টার সেতু এবং লন্ডন ওয়াটারলু স্টেশনে যেন একটা রহস্যময় নিস্তব্ধতা।

দক্ষিণ লন্ডনের এক রেস্তরাঁ মালিক বলেন, ‘ভেবেছিলাম বড়দিনের আগে ব্যবসা ভাল হবে। কিন্তু গত শীতের লকডাউনের মতো এ বারও সেই একই দৃশ্য ফিরে আসতে চলেছে বলে মনে হচ্ছে। অনেকেই বুকিং বাতিল করছেন। যা একটা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সঙ্কেত দিচ্ছে’।

ওমিক্রন মোকাবিলায় ব্রিটেনের বহু জায়গায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে ইতিমধ্যেই। পাব, রেস্তোরাঁ এবং বাণিজ্যক্ষেত্রগুলো খোলা থাকলেও পর্যাপ্ত গ্রাহকের দেখা মিলছে না বলে জানিয়েছেন ম্যাট ওয়ার্ড নামে এক ব্যবসায়ী। ওয়াল্টিং স্ট্রিট, ল্যানডেলহল মার্কেটে ডিসেম্বরে পাবগুলো ভিড়ে ঠাসা থাকে। কিন্তু সেই ছবি উধাও ওমিক্রন সংক্রমণের জেরে।

ওদিকে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণে নতুন রেকর্ড গড়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে বৃহস্পতিবার ৮৮ হাজার ৩৭৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

এ নিয়ে দেশটিতে পরপর দ্বিতীয় দিন কভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের রেকর্ড সৃষ্টি হলো। বুধবার আক্রান্ত হয়েছিল ৭৮৬১০ জন। আগের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ছিল গত ৮ জানুয়ারির ৬৮০৫৩ জন।

করোনাভাইরাসের আগের ধরন ডেল্টা এবং নতুন ওমিক্রন ধরন উভয়েই একই সঙ্গে দেশটির মানুষকে আক্রান্ত করে চলেছে বলে দেশটির শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চিফ মেডিকেল অফিসার ক্রিস হুইটি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে আরো রেকর্ড ভাঙার ঘটনা ঘটতে চলেছে। তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহে বারবার রেকর্ড ভাঙার  ঘটনা ঘটবে, কারণ সংক্রমণের হার অবিশ্বাস্যভাবে বাড়ছে’।

বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চলতি মাসের শেষদিকে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণের হার এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ মহামারী চলাকালে যুক্তরাজ্যে সংক্রমণের মোট সংখ্যা বেড়ে প্রায় এক কোটি ১১ লাখে দাঁড়িয়েছে।

দেশটিতে করোনাভাইরাসে আরও ১৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় এক লাখ ৪৭ হাজারে দাঁড়ালো।