ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারের প্রধান বিচারপতিসহ আটজনকে যুক্তরাষ্ট্রসহ তিন দেশের নিষেধাজ্ঞা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ২৩৭ Time View

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিনষ্ট, বিরোধীদের দমন ও প্রহসনের বিচারে সহযোগী ভূমিকার জন্য মিয়ানমারের প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ আট ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার টাইমস, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) তিন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতিতে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি জানিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন মিয়ানমারের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি টুন টুন ও, অ্যাটর্নি জেনারেল থিডা ও, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান টিন ও, প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেইন সোয়ে, জান্তার সহযোগী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি তে যা, তার দুই ছেলে টু টেট তে যা এবং পি ফিয়ো তে যা এবং জান্তার আরেক সহযোগী ব্যবসায়ী জনাথন মিয়ো কিয়াউ থং। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তিনটি অর্থনৈতিক সংস্থা এবং সাবেক সেনাদের একটি সংস্থা।

তিন দেশের পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সামরিক শাসনের এক বছর পূর্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। দেশটির এসব ব্যক্তি দায়িত্ব পালনের সময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে অবমূল্যায়ন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, মিয়ানমারের জনগণের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন, অভ্যুত্থানকারীদের অভ্যুত্থান ও সহিংসতার আরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও কানাডাকে নিয়ে আমরা সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছি।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেন, গত এক বছরজুড়ে মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা দেশটির জনগণকে আতঙ্কিত করে আত্মসমর্পণের চেষ্টা করেছেন। সহিংসতা ও ভীত-সন্ত্রস্ত করার মাধ্যমে তারা সমাজে বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি করেছেন।

গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চি’র প্রশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিয়ানমারের জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করে। দেশটির জনগণ শুরু থেকেই মেনে নিতে পারেনি সামরিক শাসন। গত এক বছর ধরে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে থাকে এবং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গুলিতে অসংখ্য বিক্ষোভকারী ও বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।
Tag :

মিয়ানমারের প্রধান বিচারপতিসহ আটজনকে যুক্তরাষ্ট্রসহ তিন দেশের নিষেধাজ্ঞা

Update Time : ০৫:০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২২

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিনষ্ট, বিরোধীদের দমন ও প্রহসনের বিচারে সহযোগী ভূমিকার জন্য মিয়ানমারের প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ আট ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার টাইমস, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) তিন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতিতে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি জানিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন মিয়ানমারের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি টুন টুন ও, অ্যাটর্নি জেনারেল থিডা ও, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান টিন ও, প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেইন সোয়ে, জান্তার সহযোগী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি তে যা, তার দুই ছেলে টু টেট তে যা এবং পি ফিয়ো তে যা এবং জান্তার আরেক সহযোগী ব্যবসায়ী জনাথন মিয়ো কিয়াউ থং। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তিনটি অর্থনৈতিক সংস্থা এবং সাবেক সেনাদের একটি সংস্থা।

তিন দেশের পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সামরিক শাসনের এক বছর পূর্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। দেশটির এসব ব্যক্তি দায়িত্ব পালনের সময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে অবমূল্যায়ন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, মিয়ানমারের জনগণের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন, অভ্যুত্থানকারীদের অভ্যুত্থান ও সহিংসতার আরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও কানাডাকে নিয়ে আমরা সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছি।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেন, গত এক বছরজুড়ে মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা দেশটির জনগণকে আতঙ্কিত করে আত্মসমর্পণের চেষ্টা করেছেন। সহিংসতা ও ভীত-সন্ত্রস্ত করার মাধ্যমে তারা সমাজে বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি করেছেন।

গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চি’র প্রশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিয়ানমারের জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করে। দেশটির জনগণ শুরু থেকেই মেনে নিতে পারেনি সামরিক শাসন। গত এক বছর ধরে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে থাকে এবং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গুলিতে অসংখ্য বিক্ষোভকারী ও বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।