ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রায় দুই সপ্তাহ পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার অভিযান শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) উদ্ধার অভিযান শেষ হবে বলে জানিয়েছে তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ার) দেশটির দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের (এএফএডি) বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক-সিরিয়ায় চলতি মাসের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের প্রায় দুই সপ্তাহ পর তুরস্কের বেশিরভাগ প্রদেশে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।
তবে সংস্থাটির প্রধান ইউনুস সেজারের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, কাহরামানমারাশ ও হাতায় প্রদেশের ৪০টি ভবনে এখনো অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
ইউনুস সেজার বলেন, আশা করি সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতের মধ্যেই আমরা উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি শেষ করতে পারব।
এদিকে ভূমিকম্পের পর লম্বা সময় কেটে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো জীবিত মানুষ উদ্ধার করা হচ্ছে। গত শনিবার হাতায় প্রদেশে এক দম্পতি ও তাদের ১২ বছরের সন্তানকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। যদিও পরে শিশুটি মারা যায়।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের দুর্যোগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ইলান কেলম্যান সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেছেন, ভূমিকম্পের পর অনেক দিন ধরে বেঁচে থাকার নজির থাকলেও, ‘এই ঘটনা অস্বাভাবিক’।
‘সাধারণত, আমাদের শরীর স্থিতিস্থাপক হতে পারে। কিন্তু অনেক কিছু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে’- কেলম্যান যোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘বেঁচে থাকার জন্য কিছু জিনিস দরকার হয়। মানুষ অক্সিজেন ছাড়া তিন মিনিট, পানি ছাড়া তিন দিন, খাবার ছাড়া তিন সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ’
গত ৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে হাতায় অন্যতম। প্রদেশটির মেয়র লুৎফু সাভাস রবিবার বলেন, এখানকার অন্তত ৮০ শতাংশ ভবন ভেঙে ফেলে পুনর্নির্মাণ করতে হবে।
ভূমিকম্পে তুরস্ক-সিরিয়ায় মৃত্যু এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। এর শুধু তুরস্কেই মারা গেছেন ৪০ হাজার ৬৮৯ জন।
আন্তজার্তিক ডেস্ক 



















