গত বছর সংক্রমণের প্রথম ঢেউ মোকাবেলায় ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার দুই দফায় বিধি নিষেধ আরোপ করে। এরমধ্যে গত ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে ১৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর গত ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত চলাচল ও কাজে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ১১ দফা বিধি নিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৯ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত রবিবার সরকার ঘোষিত চলমান নিষেধাজ্ঞা ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। দুই দফায় এসব বিধি-নিষেধ জারি করা হলেও কার্যত তাতে সুফল আসেনি। এসব বিধি-নিষেধের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে নতুন করে ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়ে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এবারের প্রজ্ঞাপনে নতুন একটি বিষয় যুক্ত করা হয়েছে।
নির্দেশনায় যা আছে:
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে ১৩টি নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। (তবে গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে)। সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং এ সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদনব্যবস্থা ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না। শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা, যেমন, কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা নেওয়ার জন্য যাতায়াত করা যাবে। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত শুধু খাবার বিক্রি/সরবরাহ (কিনে নিয়ে যাওয়া/অনলাইন) করা যাবে। শপিং মলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে। বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।
শ্রমিকদের আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা না করলে জরিমানা:
শিল্পকারখানা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ, সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অবশ্যই নিজস্ব পরিবহন দিয়ে আনা-নেওয়া করতে হবে। সম্ভব হলে কারখানার মধ্যে আবাসন ব্যবস্থা করে রাখতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজস্ব পরিবহনে আনা-নেওয়া না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হবে। নিয়ম না মানলে এসব প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদন করতে দেওয়া হবে না।
মসজিদে ২০ জনের বেশি মুসল্লি নয়:
গত বছরের মতো এবারও পবিত্র রমজানে তারাবির নামাজে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন। এ ছাড়া মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ক্ষেত্রেও এই সংখ্যার বেশি মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন না। বুধবার থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত উল্লিখিত দুটি বিষয় বহাল থাকবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, সব নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিরা অংশ নেবেন। মুসল্লিদের পবিত্র রমজানে তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদমুক্তির জন্য দোয়া করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
পণ্য পরিবহনে সহায়তা দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়:
চলমান লকডাউনে পণ্য পরিবহনে যে কোনো ধরনের সমস্যার সমাধানে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দেশের যে কোনো প্রান্তে পণ্য পরিবহনের সমস্যার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিত্যপণ্য উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন ও বিপণনে কোনো সমস্যা হলে সহযোগিতার জন্য এসব নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল সেল: ০১৭১২১৬৮৯১৭, ০১৭৩৮১৯৫১০৬, ০১৭৫৬১৭৩৫৬০।
কৃষিপণ্য ও পার্সেল পরিবহনে বিশেষ ট্রেন:
চলমান কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যে সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি আজ থেকে কৃষিজাত পণ্য ও পার্সেল পরিবহনে চার জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। গতকাল মঙ্গলবার রেলভবনে ‘লকডাউন এবং কোভিডকালীন পণ্যবাহী ও পার্সেল ট্রেন পরিচালনা’ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। রেলমন্ত্রী বলেন, আমাদের কৃষকরা যাতে মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলের সুবিধা নিতে পারে, সেজন্য গতবারও ম্যাংগো ট্রেন, লাগেজ ভ্যান ও কোরবানির সময় পশুবাহী ট্রেন চলানো হয়েছিল। এবার পরিকল্পিতভাবে এসব পার্সেল ট্রেন চালানো হবে।
শিরোনাম
কঠোর বিধি-নিষেধ: ঘরে থাকা শুরু
-
অনলাইন ডেস্ক - Update Time : ০৮:৩৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১
- ৪৩৮ Time View
আজ বুধবার ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত ১৩ দফা কঠোর বিধি-নিষেধের আওতায় চলাচল ও কাজে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। এই আটদিন জরুরি সেবা ছাড়া সব কিছু বন্ধ থাকবে। এজন্য অতিজরুরি দরকার ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে কার্ড দেখিয়ে টিকা নিতে যাওয়া যাবে। এ সময় সব ধরনের অফিস, গণপরিবহণ, শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ থাকবে। তবে খোলা থাকবে ব্যাংক ও শিল্পকারখানা। কাঁচাবাজারে কেনাবেচা হবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। হোটেল-রেস্তোরাঁ নির্দিষ্ট সময় শুধু খাবার সরবরাহ করতে পারবে। নতুন করে এই আট দিনের বিধি-নিষেধ জারি করা হলেও এর সময়সীমা আরো বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিধি-নিষেধের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা ও মাঠ প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত টহল জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন বিধিনিষেধগুলো বাস্তবায়ন করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল দেবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন। এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
Tag :
জনপ্রিয়
অনলাইন ডেস্ক 



















