ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী শনিবারের মধ্যে ইরানে একটি ব্যাপক ও বিস্তৃত সামরিক হামলা চালানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন: পেন্টাগন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:১৩:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০৬ Time View

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় যুদ্ধের শঙ্কা দানা বাঁধছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, পেন্টাগন আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানে একটি ব্যাপক ও বিস্তৃত সামরিক হামলা চালানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এরই মধ্যে গত বুধবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য এ হামলার সময়সূচি ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। তবে এ অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

সিবিএস নিউজ ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে এরই মধ্যে আকাশ ও নৌপথে উপস্থিতি জোরদার করেছে। নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল ছেড়ে পারস্য উপসাগরের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরী এবং তার সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলো আগে থেকেই ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, এবারের প্রস্তুতি কেবল প্রতীকী কোনো হামলা নয়, বরং এটি কয়েক সপ্তাহব্যাপী টানা বিমান অভিযানের পরিকল্পনা।

গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানও তাদের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কংক্রিট ও মাটি দিয়ে ঢেকে সুরক্ষিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, কূটনীতিই ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ হলেও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পথ পুরোপুরি খোলা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পরিচালিত ‘অত্যন্ত সফল অভিযানের’ পর এবার আরও বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলতে পারে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ নেতানিয়াহুর: যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতার সমান্তরালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার দেশের সেনাবাহিনীকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ‘ইয়েডিওথ আহরোনোথ’ জানিয়েছে, নেতানিয়াহু দেশটির বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থা ও হোম ফ্রন্ট কমান্ডকে যুদ্ধের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোতে বর্তমানে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। যদিও বৃহস্পতিবারের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকটি হঠাৎ স্থগিত করে আগামী রোববার নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তবে সামরিক তৎপরতায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় যুদ্ধের দামামা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল: ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘কান’ (কেএএন)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সম্ভাব্য ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর মূল্যায়নে দেখা গেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দিকেই ধাবিত হচ্ছেন।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজের খবরে বলা হয়েছে, জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের পর এবার তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত সীমার অত্যন্ত কাছাকাছি। এই সক্ষমতাকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করে ইসরায়েল এখন যে কোনো মূল্যে তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে চাইছে।

সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: মধ্যপ্রাচ্যে যখন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হচ্ছে, ঠিক তখনই সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়ায় মোতায়েন থাকা প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনার সবাইকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে ইরাক ও জর্ডান সীমান্তের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-তানফ ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনারা সরে যাচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই প্রত্যাহারকে একটি ‘সুশৃঙ্খল রূপান্তর’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। যদিও অনেক বিশ্লেষক একে ইরানের বিরুদ্ধে মূল যুদ্ধের প্রস্তুতির কৌশল হিসেবে দেখছেন, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই প্রত্যাহারের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। বরং এটি সিরিয়ার জাতীয় ঐক্য ও পুনর্মিলনের একটি অংশ, যেখানে কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের সঙ্গে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর একীভূতকরণের বিষয়ে ২৯ জানুয়ারি একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ হবে।

ইরানে নতুন মার্কিন হামলা গুরুতর পরিণতি বয়ে আনতে পারে, সতর্কতা রাশিয়ার: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। সৌদি আরবের আল-আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানে যে কোনো ধরনের মার্কিন হামলা ওই অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ এবং গুরুতর পরিণতি বয়ে আনবে। ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা স্থাপনাগুলোতে এর আগেও হামলা হয়েছে, যা পারমাণবিক দুর্ঘটনার প্রকৃত ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এটি একটি বিপজ্জনক ‘আগুন নিয়ে খেলা’। তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলো স্পষ্টতই সংযমের আহ্বান জানাচ্ছে এবং তারা চায় না এই উত্তেজনা যুদ্ধের দিকে মোড় নিক। ল্যাভরভ আরও যোগ করেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের নেতাদের নিয়মিত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং ইরান শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করতে চায়। কিন্তু ওয়াশিংটনের একতরফা সামরিক হুমকি গত কয়েক বছরের কূটনৈতিক অর্জনগুলোকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়ার ঘোষণা ইরান রাশিয়া ও চীনের: মার্কিন হুমকির মুখে তেহরানও তাদের সামরিক পেশি প্রদর্শনে পিছিয়ে নেই। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়া ‘মেরিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট’ মহড়া এবার আরও বড় পরিসরে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এই মহড়ায় ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগ দিচ্ছে রাশিয়া ও চীনের শক্তিশালী নৌ-ইউনিটগুলো। কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’তে এই যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।

এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার ও জলদস্যুতাবিরোধী অভিযানের কথা বলা হলেও, এটি মূলত মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।

Tag :

আগামী শনিবারের মধ্যে ইরানে একটি ব্যাপক ও বিস্তৃত সামরিক হামলা চালানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন: পেন্টাগন

Update Time : ০৪:১৩:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় যুদ্ধের শঙ্কা দানা বাঁধছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, পেন্টাগন আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানে একটি ব্যাপক ও বিস্তৃত সামরিক হামলা চালানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এরই মধ্যে গত বুধবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য এ হামলার সময়সূচি ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। তবে এ অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

সিবিএস নিউজ ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে এরই মধ্যে আকাশ ও নৌপথে উপস্থিতি জোরদার করেছে। নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল ছেড়ে পারস্য উপসাগরের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরী এবং তার সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলো আগে থেকেই ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, এবারের প্রস্তুতি কেবল প্রতীকী কোনো হামলা নয়, বরং এটি কয়েক সপ্তাহব্যাপী টানা বিমান অভিযানের পরিকল্পনা।

গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানও তাদের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কংক্রিট ও মাটি দিয়ে ঢেকে সুরক্ষিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, কূটনীতিই ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ হলেও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পথ পুরোপুরি খোলা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পরিচালিত ‘অত্যন্ত সফল অভিযানের’ পর এবার আরও বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলতে পারে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ নেতানিয়াহুর: যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতার সমান্তরালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার দেশের সেনাবাহিনীকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ‘ইয়েডিওথ আহরোনোথ’ জানিয়েছে, নেতানিয়াহু দেশটির বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থা ও হোম ফ্রন্ট কমান্ডকে যুদ্ধের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোতে বর্তমানে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। যদিও বৃহস্পতিবারের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকটি হঠাৎ স্থগিত করে আগামী রোববার নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তবে সামরিক তৎপরতায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় যুদ্ধের দামামা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল: ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘কান’ (কেএএন)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সম্ভাব্য ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর মূল্যায়নে দেখা গেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দিকেই ধাবিত হচ্ছেন।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজের খবরে বলা হয়েছে, জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের পর এবার তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত সীমার অত্যন্ত কাছাকাছি। এই সক্ষমতাকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করে ইসরায়েল এখন যে কোনো মূল্যে তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে চাইছে।

সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: মধ্যপ্রাচ্যে যখন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হচ্ছে, ঠিক তখনই সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়ায় মোতায়েন থাকা প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনার সবাইকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে ইরাক ও জর্ডান সীমান্তের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-তানফ ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনারা সরে যাচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই প্রত্যাহারকে একটি ‘সুশৃঙ্খল রূপান্তর’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। যদিও অনেক বিশ্লেষক একে ইরানের বিরুদ্ধে মূল যুদ্ধের প্রস্তুতির কৌশল হিসেবে দেখছেন, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই প্রত্যাহারের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। বরং এটি সিরিয়ার জাতীয় ঐক্য ও পুনর্মিলনের একটি অংশ, যেখানে কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের সঙ্গে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর একীভূতকরণের বিষয়ে ২৯ জানুয়ারি একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ হবে।

ইরানে নতুন মার্কিন হামলা গুরুতর পরিণতি বয়ে আনতে পারে, সতর্কতা রাশিয়ার: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। সৌদি আরবের আল-আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানে যে কোনো ধরনের মার্কিন হামলা ওই অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ এবং গুরুতর পরিণতি বয়ে আনবে। ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা স্থাপনাগুলোতে এর আগেও হামলা হয়েছে, যা পারমাণবিক দুর্ঘটনার প্রকৃত ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এটি একটি বিপজ্জনক ‘আগুন নিয়ে খেলা’। তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলো স্পষ্টতই সংযমের আহ্বান জানাচ্ছে এবং তারা চায় না এই উত্তেজনা যুদ্ধের দিকে মোড় নিক। ল্যাভরভ আরও যোগ করেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের নেতাদের নিয়মিত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং ইরান শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করতে চায়। কিন্তু ওয়াশিংটনের একতরফা সামরিক হুমকি গত কয়েক বছরের কূটনৈতিক অর্জনগুলোকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়ার ঘোষণা ইরান রাশিয়া ও চীনের: মার্কিন হুমকির মুখে তেহরানও তাদের সামরিক পেশি প্রদর্শনে পিছিয়ে নেই। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়া ‘মেরিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট’ মহড়া এবার আরও বড় পরিসরে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এই মহড়ায় ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগ দিচ্ছে রাশিয়া ও চীনের শক্তিশালী নৌ-ইউনিটগুলো। কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’তে এই যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।

এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার ও জলদস্যুতাবিরোধী অভিযানের কথা বলা হলেও, এটি মূলত মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।