ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়সূচক গোলের আগে কেন বাতিল হলো স্পেনের দুটি গোল?

আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল হয়নি। পরে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
তবে ম্যাচে আরও দুটি গোলের দেখা পেতে পারত স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে বল জালে পাঠালেও রেফারির সিদ্ধান্তে বাতিল হয়ে যায় স্প্যানিশদের সেই দুই গোল।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। ম্যাচের ৯৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস গোল করলেও সেটি বাতিল করেন রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। তার সিদ্ধান্ত ছিল, গোলের আগে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিকে ফাউল করেছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে। মেরিনোর চাপের মুখে ওতামেন্দি মাটিতে পড়ে যান। এরপর আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সঙ্গে বলের দখল নিয়ে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন মেরিনো। মার্তিনেজ প্রথম শট ঠেকিয়ে দিলেও বল পুরোপুরি দূরে সরাতে পারেননি। সেই ফিরতি বল পেয়ে নিকো উইলিয়ামস সহজেই জালে পাঠান। তবে গোল উদযাপনের আগেই রেফারি বাঁশি বাজিয়ে সেটি বাতিল করেন।
রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচের পর থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে। গোল বাতিলের ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) আলাদাভাবে পর্যালোচনা করেনি। মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, মেরিনো ওতামেন্দির খুব কাছাকাছি ছিলেন এবং সামান্য সংস্পর্শ হয়েছিল। তবে রেফারি মনে করেন, বল দখলের লড়াইয়ে মেরিনোর পা ওতামেন্দির পায়ে লেগেছিল, যা ফাউল হিসেবে বিবেচিত হয়।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, ঘটনাটি ছিল ‘সফট ফাউল’। অর্থাৎ, চাইলে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারতেন।
তবে নিকোর বাতিল হওয়া গোলের ১০ মিনিট পরই এগিয়ে যায় স্পেন। ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের পাস থেকে গোল করেন ফেরান তোরেস। তার সেই গোলেই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয় স্পেন।
এরপর ১১৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ তৈরি হয়। ফেরান তোরেস আবারও বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল করেন রেফারি।
Tag :
জনপ্রিয়

জয়সূচক গোলের আগে কেন বাতিল হলো স্পেনের দুটি গোল?

Update Time : ০৭:৪৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল হয়নি। পরে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
তবে ম্যাচে আরও দুটি গোলের দেখা পেতে পারত স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে বল জালে পাঠালেও রেফারির সিদ্ধান্তে বাতিল হয়ে যায় স্প্যানিশদের সেই দুই গোল।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। ম্যাচের ৯৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস গোল করলেও সেটি বাতিল করেন রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। তার সিদ্ধান্ত ছিল, গোলের আগে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিকে ফাউল করেছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে। মেরিনোর চাপের মুখে ওতামেন্দি মাটিতে পড়ে যান। এরপর আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সঙ্গে বলের দখল নিয়ে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন মেরিনো। মার্তিনেজ প্রথম শট ঠেকিয়ে দিলেও বল পুরোপুরি দূরে সরাতে পারেননি। সেই ফিরতি বল পেয়ে নিকো উইলিয়ামস সহজেই জালে পাঠান। তবে গোল উদযাপনের আগেই রেফারি বাঁশি বাজিয়ে সেটি বাতিল করেন।
রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচের পর থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে। গোল বাতিলের ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) আলাদাভাবে পর্যালোচনা করেনি। মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, মেরিনো ওতামেন্দির খুব কাছাকাছি ছিলেন এবং সামান্য সংস্পর্শ হয়েছিল। তবে রেফারি মনে করেন, বল দখলের লড়াইয়ে মেরিনোর পা ওতামেন্দির পায়ে লেগেছিল, যা ফাউল হিসেবে বিবেচিত হয়।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, ঘটনাটি ছিল ‘সফট ফাউল’। অর্থাৎ, চাইলে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারতেন।
তবে নিকোর বাতিল হওয়া গোলের ১০ মিনিট পরই এগিয়ে যায় স্পেন। ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের পাস থেকে গোল করেন ফেরান তোরেস। তার সেই গোলেই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয় স্পেন।
এরপর ১১৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ তৈরি হয়। ফেরান তোরেস আবারও বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল করেন রেফারি।