সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও বাঁধা অপেক্ষা করেই ঈদের আগে ঘরে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মানুষ। ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে রাত আর দিন এক হয়ে গেছে। দেশের সব সড়ক-মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। বিজিবি মোতায়েনের পরেও শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড় ঠেকানো যাচ্ছে না। ঈদ সামনে রেখে রাজধানী ছেড়ে ঘরে ফেরা মানুষের চাপে দিন ও রাত এখন এক হয়ে গেছে।
ঢাকা থেকে গাজীপুর, আশুলিয়া, মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত পথে পথে মানুষের ঢল নেমেছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও, পুলিশ বাধা দিলেও কোনোভাবেই এসব মানুষকে ঠেকানো যাচ্ছে না। পণ্যবাহী ট্রাক, মিনি ট্রাক, পিকআপ এর পাশাপাশি হিউম্যান হলার বা লেগুনা এখন বিভিন্ন কৌশলে যাত্রী পরিবহন করে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় ছুটে যাচ্ছে। গাড়িতে উঠতে পেরেই এসব মানুষ স্বস্তিতে নিঃশ্বাস ছাড়ছেন।
গতকাল রবিবার অফিস ছুটি সঙ্গে সঙ্গে সব সড়কে মানুষের ঢল নেমেছে। রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সব সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনের চাপও বিগত কয়েকদিনের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। রবিবার দুপুরের পর থেকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পথে পথে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ ঘরে ফিরতে শিমুলিয়া ফেরিঘাটে ছুটতে শুরু করে। শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে বিজিবি মোতায়ন এরপরেও মানুষের ঢল থামানো সম্ভব হয়নি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ ব্যস্ততম এই ফেরিঘাটে এসে জড়ো হতে থাকে। সারারাত এই ঘাটে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতির কারণে বিচ্ছিরি অবস্থা সৃষ্টি হয়। রাতে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মানুষ পারাপারের আশায় অপেক্ষা করতে থাকে। রাতেই কয়েক দফায় অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন পারাপারের সময় লোকজন এসে ফেরিতে উঠে পড়ে। বিজিবি সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন কে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি। ফেরিগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে তিল ধারণের ঠাঁই ছিলো না।
গভীর রাতেই যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের পরিস্থিতি আজ অনেকটাই বদলে গেছে। গতকাল রবিবার সারাদিন এই ফেরিঘাটে মানুষের চাপ না থাকলেও রাত থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটের মানুষ ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। জরুরি পরিবহনের জন্য চারটি ফেরি চালু রাখা হয়েছে। ফেরি ঘাটে ভিড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের মতো লোকজন ফেরিতে হুমরি খেয়ে পড়ছে। রাতে যে কয়টি ফেরি চলাচল করেছে সবগুলোতেই জরুরি যানবাহনের চেয়ে হাজার হাজার মানুষের ভিড় ছিলো।
আজ সোমবার সকাল ৯ টার দিকে চন্দ্রমল্লিকা নামের একটি ফেরি পাটুরিয়া ঘাট ছেড়ে যায়। এই ফেরিতে শুধু চারটি এম্বুলেন্স তোলা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া পুরো ফেরিটি নানান বয়সী ঘরমুখো মানুষে ঠাসা ছিলো। অন্য কোনো যানবাহন উঠানো সম্ভব হয়নি। এই সড়কের ধরলা ব্রিজ ও টেপরা এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হলেও মানুষের ঢল ঠেকানো যাচ্ছে না। যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা-আরিচা সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও রবিবার বিকেল থেকে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কটি উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার সঙ্গে যাতায়াতের প্রধান সড়ক। টঙ্গী, চান্দনা, জয়দেবপুর চৌরাস্তা, আশুলিয়া এলাকা থেকে পণ্যবাহী ট্রাক, মিনি ট্রাক, পিকআপ, হিউম্যান হলার ও লেগুনায় শত শত মানুষ ঘরে ফিরছে। গণপরিবহন না থাকায় লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টাকি বাড়ি ফিরছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ীর চাপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। টঙ্গী, জয়দেবপুর চৌরাস্তা, আশুলিয়া, চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, সরিষাবাড়ী, নেত্রকোনা, শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলার লোকজন প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন করা যানবাহনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
আজ সকাল থেকে পথে পথে মানুষের চাপ যেমন বেড়েছে, তেমনি সড়কেও যানবাহনের চাপ গত কয়েক দিনের তুলনায় অনেক বেশি। দূরত্ব অনুযায়ী ৩০০ থেকে হাজার টাকা ভারা হাকাছে অবৈধ সব পরিবহনের চালকরা। যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নানান ধরনের পরিবহনের লোকজনের এখন পোয়াবারো অবস্থা। রাজধানীর গাবতলীতে আসা ঘরমুখো মানুষ কোন ধরনের যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটেই আমিনবাজার ছুটে যাচ্ছে। আমিনবাজার ব্রীজের সামনে থেকে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারসহ পণ্যবাহী ট্রাক ও মিনি ট্রাক যাত্রী নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ছুটছে। এই দুই গন্তব্যে পৌঁছাতে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চালকরা ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া যাওয়া হচ্ছে। যাদের পকেটে টাকা আছে তারা গাড়ি পাওয়া মাত্রই উঠে পড়েছেন। যাদের পকেটে একটু টাকা কম তারা পণ্যবাহী ট্রাকের সাওয়ার হয়েই বাড়ি ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
অনলাইন ডেস্ক 























