ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি একশো টাকার আশেপাশে, ভোগাচ্ছে কাঁচামরিচের দাম

টানা বৃষ্টি ও কিছু এলাকায় বন্যার পর থেকেই অস্থিরতা চলছে নিত্যপণ্যের বাজারে। এরমধ্যে সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে কাঁচামরিচের দাম। কিছুদিন বাদেই পেরিয়ে যাচ্ছে শতকের একটি করে ধাপ।

এছাড়া নতুন করে বাড়ছে পেঁয়াজ ও ডিমের দাম। আর সবজির দাম চড়া হয়ে আটকে আছে দুই সপ্তাহ ধরেই। অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি একশো টাকার আশেপাশে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর শান্তিনগর ও সেগুণবাগিচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

দুই বাজারের খুচরা ও পাইকারি বাজারের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন বাজারে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। প্রতি একশো গ্রাম ৪০ টাকা ও আড়াইশো গ্রাম ১০০ টাকা দরে। তবে আধাকেজি বা এক কেজি মরিচ নিলে ২০-৩০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে।

সেগুনবাগিচা বাজারের বিক্রেতা বুলু মিয়া বলেন, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তার আগে সপ্তাহে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা ছিল

অন্যদিকে, দেড়-দুই সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়। চারদিন আগেও ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

শান্তিনগর বাজারে বিক্রেতারা এনামুল হক বলেন, পাইকারি বাজারে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেশি। যে কারণে এক সপ্তাহ আগেও যে পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, তা এখন ৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পাবনার ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ ৬৫ টাকাও বিক্রি করতে হচ্ছে।

পেঁপে-ঢ্যাঁড়স-পটল ছাড়া অন্যান্য সবজি ১০০

এ মাস শুরুর কয়েকদিন পর থেকেই টানা বৃষ্টি ও কিছু এলাকায় বন্যায় সবজি বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক চড়া দামে। দু-একটি সবজির দাম খানিকটা কমলেও এখনো বেশিরভাগ সবজির দামই বেশি।

সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। গোলাকৃতির কালো বেগুনের দাম উঠেছে ১৮০ টাকায় এবং সাদাটা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। কোথাও কোথাও মানভেদে বেগুনের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি দেখা গেছে। তবে ধুন্দল ও পটলের দাম একটু কমেছে। ১০০ টাকা থেকে কমে পণ্য দুটির দাম বাজারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এছাড়া করল্লা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা এবং চিচিঙা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই-তিনটা সবজিতে অল্প দাম কমেছে। আবার সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনসহ কয়েকটি পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।

ডিমের দাম বেড়েছে, স্থিতিশীল মুরগি

ডিম-মুরগির বাজারে গিয়ে দেখা গেলো, গত সপ্তাহের তুলনায় আরও কিছুটা বেড়েছে ফার্মের ডিমের দাম। গত সপ্তাহে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা ডজন দরে ডিম বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। আর একমাস আগে এ ডিমের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

অন্যদিকে, প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ও সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয়

অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি একশো টাকার আশেপাশে, ভোগাচ্ছে কাঁচামরিচের দাম

Update Time : ০৬:০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও কিছু এলাকায় বন্যার পর থেকেই অস্থিরতা চলছে নিত্যপণ্যের বাজারে। এরমধ্যে সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে কাঁচামরিচের দাম। কিছুদিন বাদেই পেরিয়ে যাচ্ছে শতকের একটি করে ধাপ।

এছাড়া নতুন করে বাড়ছে পেঁয়াজ ও ডিমের দাম। আর সবজির দাম চড়া হয়ে আটকে আছে দুই সপ্তাহ ধরেই। অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি একশো টাকার আশেপাশে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর শান্তিনগর ও সেগুণবাগিচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

দুই বাজারের খুচরা ও পাইকারি বাজারের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন বাজারে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। প্রতি একশো গ্রাম ৪০ টাকা ও আড়াইশো গ্রাম ১০০ টাকা দরে। তবে আধাকেজি বা এক কেজি মরিচ নিলে ২০-৩০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে।

সেগুনবাগিচা বাজারের বিক্রেতা বুলু মিয়া বলেন, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তার আগে সপ্তাহে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা ছিল

অন্যদিকে, দেড়-দুই সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়। চারদিন আগেও ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

শান্তিনগর বাজারে বিক্রেতারা এনামুল হক বলেন, পাইকারি বাজারে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেশি। যে কারণে এক সপ্তাহ আগেও যে পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, তা এখন ৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পাবনার ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ ৬৫ টাকাও বিক্রি করতে হচ্ছে।

পেঁপে-ঢ্যাঁড়স-পটল ছাড়া অন্যান্য সবজি ১০০

এ মাস শুরুর কয়েকদিন পর থেকেই টানা বৃষ্টি ও কিছু এলাকায় বন্যায় সবজি বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক চড়া দামে। দু-একটি সবজির দাম খানিকটা কমলেও এখনো বেশিরভাগ সবজির দামই বেশি।

সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। গোলাকৃতির কালো বেগুনের দাম উঠেছে ১৮০ টাকায় এবং সাদাটা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। কোথাও কোথাও মানভেদে বেগুনের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি দেখা গেছে। তবে ধুন্দল ও পটলের দাম একটু কমেছে। ১০০ টাকা থেকে কমে পণ্য দুটির দাম বাজারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এছাড়া করল্লা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা এবং চিচিঙা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই-তিনটা সবজিতে অল্প দাম কমেছে। আবার সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনসহ কয়েকটি পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।

ডিমের দাম বেড়েছে, স্থিতিশীল মুরগি

ডিম-মুরগির বাজারে গিয়ে দেখা গেলো, গত সপ্তাহের তুলনায় আরও কিছুটা বেড়েছে ফার্মের ডিমের দাম। গত সপ্তাহে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা ডজন দরে ডিম বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। আর একমাস আগে এ ডিমের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

অন্যদিকে, প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ও সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।