ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন জাতীয় সংসদে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে, পদার্থ বিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর: শিক্ষামন্ত্রী একটানা বর্ষণে ফরিদপুরে জলাবদ্ধতা: চরম ভোগান্তিতে পৌরসভার ২৫ নং ওয়ার্ডের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের পাশে আন্দোলনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও শিক্ষার্থীদের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহতিন দফা দাবিতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছে এইচএসসির শতাধিক পরীক্ষার্থী এম‌সি কলেজে স্বামীকে আটকে স্ত্রীকে ধর্ষণ ১ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ঘিরে উত্তাপ, পুরো আটলান্টা শহরজুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে চিঠি পাঠিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে তিনি আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও বিশ্বে জ্বালানির সরবরাহ ঠিক রাখা নিয়ে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ফের যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

এই নতুন যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের আগাম অনুমোদন ছাড়াই ইরানে আরও ৬০ দিন সামরিক অভিযান চালানোর আইনি বৈধতা ও সুযোগ পেয়েছে।

কংগ্রেসকে দেওয়া ১০ জুলাইয়ের এক চিঠিতে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলাগুলো মূলত দেশ-বিদেশে মার্কিন নাগরিক ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্বেরই অংশ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই অনিয়মিত যুদ্ধ বা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান করা ট্রাম্পের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি করতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির নেতারা।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার (১৩ জুলাই) ইরানের ওপর সামরিক চাপ আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করবে ও প্রণালিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেবে। এর জন্য সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল বা ফি ধার্য করবে ওয়াশিংটন।

আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো এই নোটিশটি মূলত ইরানের সঙ্গে দুই মাসের যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পর পাঠানো হলো। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি উভয় দেশের ঘন ঘন হামলার কারণে শুরু থেকেই অত্যন্ত নড়বড়ে ছিল, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করে আসছিল যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এখনো শুরু হয়নি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের অব্যাহত শত্রুতার জবাবে গত এক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ৩০০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এমনকি সোমবারও (১৩ জুলাই) মার্কিন কমান্ডারের সরাসরি নির্দেশনায় ইরানের ওপর এই অতিরিক্ত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সেন্ট্রাল কমান্ড।

ট্রাম্পের এই নতুন যুদ্ধ ঘোষণার ফলে কংগ্রেসের যুদ্ধ বন্ধ করার চলমান প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। গত মাসে মার্কিন সিনেট এই যুদ্ধ অবসানের পক্ষে ৫০-৪৮ ভোটে একটি প্রতীকী প্রস্তাব পাস করে, যেখানে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন। সিনেটর ডেভ ম্যাককর্মিক এবং মিচ বার্থেলোমিউ-এর অনুপস্থিতির কারণে প্রস্তাবটি পাস হয়।

চিঠির শেষে ট্রাম্প লিখেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিন বা ইরানের যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় ও তেহরান যাতে মার্কিন মিত্রদের জন্য হুমকি না হয়ে ওঠে তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র: পলিটিকো

Tag :
জনপ্রিয়

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

Update Time : ০৬:০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে চিঠি পাঠিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে তিনি আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও বিশ্বে জ্বালানির সরবরাহ ঠিক রাখা নিয়ে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ফের যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

এই নতুন যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের আগাম অনুমোদন ছাড়াই ইরানে আরও ৬০ দিন সামরিক অভিযান চালানোর আইনি বৈধতা ও সুযোগ পেয়েছে।

কংগ্রেসকে দেওয়া ১০ জুলাইয়ের এক চিঠিতে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলাগুলো মূলত দেশ-বিদেশে মার্কিন নাগরিক ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্বেরই অংশ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই অনিয়মিত যুদ্ধ বা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান করা ট্রাম্পের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি করতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির নেতারা।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার (১৩ জুলাই) ইরানের ওপর সামরিক চাপ আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করবে ও প্রণালিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেবে। এর জন্য সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল বা ফি ধার্য করবে ওয়াশিংটন।

আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো এই নোটিশটি মূলত ইরানের সঙ্গে দুই মাসের যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পর পাঠানো হলো। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি উভয় দেশের ঘন ঘন হামলার কারণে শুরু থেকেই অত্যন্ত নড়বড়ে ছিল, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করে আসছিল যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এখনো শুরু হয়নি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের অব্যাহত শত্রুতার জবাবে গত এক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ৩০০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এমনকি সোমবারও (১৩ জুলাই) মার্কিন কমান্ডারের সরাসরি নির্দেশনায় ইরানের ওপর এই অতিরিক্ত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সেন্ট্রাল কমান্ড।

ট্রাম্পের এই নতুন যুদ্ধ ঘোষণার ফলে কংগ্রেসের যুদ্ধ বন্ধ করার চলমান প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। গত মাসে মার্কিন সিনেট এই যুদ্ধ অবসানের পক্ষে ৫০-৪৮ ভোটে একটি প্রতীকী প্রস্তাব পাস করে, যেখানে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন। সিনেটর ডেভ ম্যাককর্মিক এবং মিচ বার্থেলোমিউ-এর অনুপস্থিতির কারণে প্রস্তাবটি পাস হয়।

চিঠির শেষে ট্রাম্প লিখেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিন বা ইরানের যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় ও তেহরান যাতে মার্কিন মিত্রদের জন্য হুমকি না হয়ে ওঠে তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র: পলিটিকো