ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ ও যুদ্ধবিরতির দাবিতে নিউইয়র্কে লাখো জনতার বিক্ষোভ

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভে নেমেছে লাখো মানুষ। এ সময় ইসরায়েলকে অন্ধ সমর্থন দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ফিলিস্তিনে গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

টানা প্রায় এক মাস ধরে চালানো ইসরায়েলের হামলায় নারী ও শিশুসহ এখন পর্যন্ত সাড়ে ৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধে যুদ্ধ বিরতির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভকারীরা সোমাবার হোয়াইট হাউজের কাছে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এ বিক্ষোভ হোয়াইট হাউজের কাছে ফ্রিডম প্লাজা থেকে পূর্ব দিকে ইউএস ক্যাপিটলের দিকে বেশ কয়েকটি ব্লক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এ সময় কেউ কেউ ইসরায়েলের প্রতি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অন্ধ সমর্থনেরও তীব্র সমালোচনা করেন।

বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা ও প্ল্যাকার্ডও বহন করেন। এসব প্ল্যাকার্ডে ‘প্যালেস্টানিয়ান লাইভস ম্যাটার’ এবং ‘এখনই গাজা অবরোধ অবসান ঘটান’-এর মতো স্লোগান লেখা ছিল। এ বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ছিল লক্ষ্য করার মতো। তারা ‘বাইডেন, বাইডেন, আপনি লুকাতে পারবেন না; আমরা আপনাকে গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত করছি,’ বলেও স্লোগান দেন।

ইসরায়েলের নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণের কারণ গাজায় গণহত্যার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। জাতিসংঘের ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ এ গণহত্যার সংজ্ঞায়, একটি পুরো জাতি বা এর অংশ, জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত কর্মকাণ্ডকে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যার পাশাপাশি জন্ম প্রতিরোধের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলকে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে, তবে মার্কিন মিত্র হিসাবে তারা কিভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সীমারেখার উল্লেখ করেনি। এছাড়া গাজার বর্তমান যুদ্ধে তহবিল সহায়তার জন্য বাইডেন কংগ্রেসের কাছে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন। সোমাবারের বিক্ষোভ সমাবেশে অনেক বিক্ষোভকারী ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তা দেয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজায় ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলার বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ বহু দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। বাদ যায়নি বাংলাদেশ, ভারত, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইয়েমেন, জর্ডান, মিসর, কাতার, ইরাক, ইরান, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, আফ্রিকার সেনেগালসহ তুরস্ক, জার্মানি ও ইতালি। এসব বিক্ষোভ থেকে গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত হামলার বিরোধিতা এবং অবিলম্বে অস্ত্রবিরতির দাবি জানানো হয়েছে।

Tag :

গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ ও যুদ্ধবিরতির দাবিতে নিউইয়র্কে লাখো জনতার বিক্ষোভ

Update Time : ০৬:০৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০২৩

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভে নেমেছে লাখো মানুষ। এ সময় ইসরায়েলকে অন্ধ সমর্থন দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ফিলিস্তিনে গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

টানা প্রায় এক মাস ধরে চালানো ইসরায়েলের হামলায় নারী ও শিশুসহ এখন পর্যন্ত সাড়ে ৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধে যুদ্ধ বিরতির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভকারীরা সোমাবার হোয়াইট হাউজের কাছে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এ বিক্ষোভ হোয়াইট হাউজের কাছে ফ্রিডম প্লাজা থেকে পূর্ব দিকে ইউএস ক্যাপিটলের দিকে বেশ কয়েকটি ব্লক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এ সময় কেউ কেউ ইসরায়েলের প্রতি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অন্ধ সমর্থনেরও তীব্র সমালোচনা করেন।

বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা ও প্ল্যাকার্ডও বহন করেন। এসব প্ল্যাকার্ডে ‘প্যালেস্টানিয়ান লাইভস ম্যাটার’ এবং ‘এখনই গাজা অবরোধ অবসান ঘটান’-এর মতো স্লোগান লেখা ছিল। এ বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ছিল লক্ষ্য করার মতো। তারা ‘বাইডেন, বাইডেন, আপনি লুকাতে পারবেন না; আমরা আপনাকে গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত করছি,’ বলেও স্লোগান দেন।

ইসরায়েলের নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণের কারণ গাজায় গণহত্যার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। জাতিসংঘের ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ এ গণহত্যার সংজ্ঞায়, একটি পুরো জাতি বা এর অংশ, জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত কর্মকাণ্ডকে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যার পাশাপাশি জন্ম প্রতিরোধের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলকে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে, তবে মার্কিন মিত্র হিসাবে তারা কিভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সীমারেখার উল্লেখ করেনি। এছাড়া গাজার বর্তমান যুদ্ধে তহবিল সহায়তার জন্য বাইডেন কংগ্রেসের কাছে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন। সোমাবারের বিক্ষোভ সমাবেশে অনেক বিক্ষোভকারী ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তা দেয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজায় ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলার বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ বহু দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। বাদ যায়নি বাংলাদেশ, ভারত, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইয়েমেন, জর্ডান, মিসর, কাতার, ইরাক, ইরান, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, আফ্রিকার সেনেগালসহ তুরস্ক, জার্মানি ও ইতালি। এসব বিক্ষোভ থেকে গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত হামলার বিরোধিতা এবং অবিলম্বে অস্ত্রবিরতির দাবি জানানো হয়েছে।