ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দামই আবার বেড়েছে, কমেছে ডিম ও মুরগির বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ১৮ জুন ২০২৬ আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৮ জুন ২০২৬ ফরিদপুরে পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন-সিবিএ -এর শিল্প বিরোধ উত্থাপন সভা জিয়া সৈনিক দলের কেন্দ্রীয় নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি’র ফরিদপুর জেলা ও বিভাগীয় সম্মেলন -কে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে সাবেক মন্ত্রী ও সংবিধান রচয়িতা গৌর চন্দ্র বালার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তির পরও হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের দারুণ শুরু

গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস বাসা বাঁধলে মিউটেশনের আশঙ্কা বাড়ছে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:৫৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১
  • ২৭৩ Time View

তবে কি এইচআইভি রোগীর শরীর থেকেই নতুনতর রূপে প্রকাশিত হলো করোনাভাইরাস? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু যার নাম দিয়েছে ওমিক্রন! এমন আশঙ্কা কথা উড়িয়ে দিতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। এমনকী শুধু এইডস নয়, দীর্ঘস্থায়ী কোভিড-১৯-এর থেকেও ঘটে থাকতে পারে ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন, মনে করছেন গবেষকদের একটি দল।

খুব সহজ করে বলতে গেলে বলতে হয় এ যেন ছোটখাট ভুল যা লেখার সময় হামেশাই হয়ে যায় মানুষের। ভাইরাসও যখন নিজের প্রতিলিপি রেখে যায়, তখন কিছু ভুল যেন তার অজান্তেই হয়ে যায় জিনের গঠনগত ক্ষেত্রে। অনেক সময় এই পরিবর্তন তৈরি হয় ভাইরাসের প্রোটিনে। তার ফলে ভাইরাসটি যেকোনো একটি দিকে ব্যপক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হয় তার সংক্রামক ক্ষমতা বাড়ে, অথবা রোগের মারণ ক্ষমতা। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে এই ধরণের যেকোনো পরিবর্তনই মানব শরীরের ভিতরে ঘটছে। কারণ, বিজ্ঞানীরা দেখেছেন ধারক কোষের বাইরে কোনো রকম প্রতিলিপি তৈরি করতে পারছে না সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি।

এই দীর্ঘ সময়ে ২৩ বার ওই ব্যক্তির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক তাদের গবেষণায় দেখেছিলেন খুব সহজে ওই ব্যক্তির শরীরে একের পর এক মিউটেশন ঘটিয়েছিল ভাইরাস। অথবা তারা শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।

কিন্তু, কেন এমন হলো?

গবেষকদের দাবি, ওই ব্যক্তির শরীরের অবস্থাই এ জন্য দায়ী ছিল। ৭০ বছরের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে (লিম্ফোমা) ভুগছিলেন এবং সে জন্য তার কেমো চিকিৎসা চলছিল। লিম্ফোমা হলো রক্ত লসিকার ক্যানসার। লসিকা যা শরীরকে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতার যোগ সূত্র হিসাবে কাজ করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই যেখানে দুর্বল সেখানে মারাত্মক আঘাত হানে করোনা।

প্রায় ৫৭ দিন ধরে ওই রোগীর শরীরে দু’দফায় রেমডিসিভির প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু তা কোনো কাজে দেয়নি। তারপর তার ওপর প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। তখন পর্যন্ত করোনার চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির কার্যকারিতা সম্পর্কে নিঃসংশয় ছিলেন না চিকিৎসক গবেষকেরা। ওই ব্যক্তির ওপর প্লাজমা থেরাপি শুরু করার পর বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন ভাইরাস দ্রুত তার রূপ বদলাতে শুরু করছে। গবেষকদের দাবি, লিম্ফোমা ক্যানসার এবং তার চিকিৎসায় চলা কেমো থেরাপির কারণেই ওই ব্যক্তির রক্ত কোষগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। রক্ত যা শরীরে রোগ প্রতিরোধী শক্তি তৈরি করে, তা-ই দুর্বল হওয়ায় ভাইরাস সুযোগ পেয়ে যায় নিজেকে ক্রমশ বদলে আর ভয়াল রূপ ধারণ করার।

আবার গত বছর এনইজেএম (নিউ ইংল্যান্ড জর্নাল অব মেডিসিন)-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হাভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকেরা দাবি করেছিলেন, এক দুর্বল রোগ প্রতিরোধী রোগীর শরীরে ১৫২ দিন ধরে প্রায় ১২টি জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়েছে করোনা ভাইরাস। তার মধ্যে বেশির ভাগই ঘটেছিল স্পাইক প্রোটিনে। গবেষকরা দেখিয়েছিলেন, এই ১২টি পরিবর্তনের মধ্যে এমন বেশ কয়েকটি ছিল যারা মূলত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে তৈরি হয়েছিল।

নানা গবেষণা থেকে উঠে এসেছে, ইমিউনোসাপ্রেশনের বিষয়টি, যা ভাইরাসের মিউটেশনে সহায়ক হয়। ইমিউনোসাপ্রেশন হলো এমন ব্যবস্থা যা শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে দমিয়ে রাখে। হয়তো খানিকটা ইচ্ছাকৃতভাবেই। কেন এমন করা হয়? দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এমনটা করা হয়। যেমন ধরা যাক কোনো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের আগে ওষুধ প্রয়োগ করে শরীরকে এমন করে তোলা হয়। যাতে শরীর অন্যের অঙ্গকে সাদরে গ্রহণ করতে পারে। স্বাভাবিকভাবে একজনের শরীরে অন্যের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হলে শরীর তাকে শত্রু ভেবে ত্যাগ করতে চাইবে।

তা ছাড়া, ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রেও রোগ প্রতিরোধী শক্তি কমে যায়। কমে যায় কেমো বা রেডিও থেরাপির ক্ষেত্রেও। এ সব ক্ষেত্রে ভাইরাস সহজেই মিউটেশন ঘটিয়ে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সফলও হয়। ওমিক্রনের ক্ষেত্রেও তেমন ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র : এই সময়

Tag :

খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দামই আবার বেড়েছে, কমেছে ডিম ও মুরগির

গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস বাসা বাঁধলে মিউটেশনের আশঙ্কা বাড়ছে

Update Time : ০৩:৫৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১

তবে কি এইচআইভি রোগীর শরীর থেকেই নতুনতর রূপে প্রকাশিত হলো করোনাভাইরাস? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু যার নাম দিয়েছে ওমিক্রন! এমন আশঙ্কা কথা উড়িয়ে দিতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। এমনকী শুধু এইডস নয়, দীর্ঘস্থায়ী কোভিড-১৯-এর থেকেও ঘটে থাকতে পারে ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন, মনে করছেন গবেষকদের একটি দল।

খুব সহজ করে বলতে গেলে বলতে হয় এ যেন ছোটখাট ভুল যা লেখার সময় হামেশাই হয়ে যায় মানুষের। ভাইরাসও যখন নিজের প্রতিলিপি রেখে যায়, তখন কিছু ভুল যেন তার অজান্তেই হয়ে যায় জিনের গঠনগত ক্ষেত্রে। অনেক সময় এই পরিবর্তন তৈরি হয় ভাইরাসের প্রোটিনে। তার ফলে ভাইরাসটি যেকোনো একটি দিকে ব্যপক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হয় তার সংক্রামক ক্ষমতা বাড়ে, অথবা রোগের মারণ ক্ষমতা। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে এই ধরণের যেকোনো পরিবর্তনই মানব শরীরের ভিতরে ঘটছে। কারণ, বিজ্ঞানীরা দেখেছেন ধারক কোষের বাইরে কোনো রকম প্রতিলিপি তৈরি করতে পারছে না সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি।

এই দীর্ঘ সময়ে ২৩ বার ওই ব্যক্তির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক তাদের গবেষণায় দেখেছিলেন খুব সহজে ওই ব্যক্তির শরীরে একের পর এক মিউটেশন ঘটিয়েছিল ভাইরাস। অথবা তারা শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।

কিন্তু, কেন এমন হলো?

গবেষকদের দাবি, ওই ব্যক্তির শরীরের অবস্থাই এ জন্য দায়ী ছিল। ৭০ বছরের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে (লিম্ফোমা) ভুগছিলেন এবং সে জন্য তার কেমো চিকিৎসা চলছিল। লিম্ফোমা হলো রক্ত লসিকার ক্যানসার। লসিকা যা শরীরকে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতার যোগ সূত্র হিসাবে কাজ করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই যেখানে দুর্বল সেখানে মারাত্মক আঘাত হানে করোনা।

প্রায় ৫৭ দিন ধরে ওই রোগীর শরীরে দু’দফায় রেমডিসিভির প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু তা কোনো কাজে দেয়নি। তারপর তার ওপর প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। তখন পর্যন্ত করোনার চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির কার্যকারিতা সম্পর্কে নিঃসংশয় ছিলেন না চিকিৎসক গবেষকেরা। ওই ব্যক্তির ওপর প্লাজমা থেরাপি শুরু করার পর বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন ভাইরাস দ্রুত তার রূপ বদলাতে শুরু করছে। গবেষকদের দাবি, লিম্ফোমা ক্যানসার এবং তার চিকিৎসায় চলা কেমো থেরাপির কারণেই ওই ব্যক্তির রক্ত কোষগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। রক্ত যা শরীরে রোগ প্রতিরোধী শক্তি তৈরি করে, তা-ই দুর্বল হওয়ায় ভাইরাস সুযোগ পেয়ে যায় নিজেকে ক্রমশ বদলে আর ভয়াল রূপ ধারণ করার।

আবার গত বছর এনইজেএম (নিউ ইংল্যান্ড জর্নাল অব মেডিসিন)-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হাভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকেরা দাবি করেছিলেন, এক দুর্বল রোগ প্রতিরোধী রোগীর শরীরে ১৫২ দিন ধরে প্রায় ১২টি জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়েছে করোনা ভাইরাস। তার মধ্যে বেশির ভাগই ঘটেছিল স্পাইক প্রোটিনে। গবেষকরা দেখিয়েছিলেন, এই ১২টি পরিবর্তনের মধ্যে এমন বেশ কয়েকটি ছিল যারা মূলত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে তৈরি হয়েছিল।

নানা গবেষণা থেকে উঠে এসেছে, ইমিউনোসাপ্রেশনের বিষয়টি, যা ভাইরাসের মিউটেশনে সহায়ক হয়। ইমিউনোসাপ্রেশন হলো এমন ব্যবস্থা যা শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে দমিয়ে রাখে। হয়তো খানিকটা ইচ্ছাকৃতভাবেই। কেন এমন করা হয়? দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এমনটা করা হয়। যেমন ধরা যাক কোনো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের আগে ওষুধ প্রয়োগ করে শরীরকে এমন করে তোলা হয়। যাতে শরীর অন্যের অঙ্গকে সাদরে গ্রহণ করতে পারে। স্বাভাবিকভাবে একজনের শরীরে অন্যের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হলে শরীর তাকে শত্রু ভেবে ত্যাগ করতে চাইবে।

তা ছাড়া, ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রেও রোগ প্রতিরোধী শক্তি কমে যায়। কমে যায় কেমো বা রেডিও থেরাপির ক্ষেত্রেও। এ সব ক্ষেত্রে ভাইরাস সহজেই মিউটেশন ঘটিয়ে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সফলও হয়। ওমিক্রনের ক্ষেত্রেও তেমন ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র : এই সময়