ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডব্লিউএইচও-র অনুমোদন পেয়েছে ভারতের করোনাভাইরাসের টিকা কোভ্যাক্সিন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র অনুমোদন পেয়েছে ভারত বায়োটেকের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা কোভ্যাক্সিন। বুধবার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদনের তালিকায় ভারতের এই টিকাকে জায়গা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়ায় ভারতের এই টিকা এখন অন্যান্য দেশেও অনুমোদন পাবে। এছাড়া যেসব ভারতীয় এই টিকা নিয়েছেন বা নেবেন, তারাও বিদেশ সফরে গেলে আর কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে না অথবা করোনার অন্যান্য বিধি-নিষেধের আওতায় পড়বেন না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, ‘কোভ্যাক্সিনকে (ভারত বায়োটেকের তৈরি) জরুরি ব্যবহারের তালিকাভুক্ত করেছে ডব্লিউএইচও। এর ফলে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাকসিনের ক্রমবর্ধমান তালিকায় যুক্ত হলো কোভ্যাক্সিন’।

কার্যকারিতা ও মানের বিষয়ে দীর্ঘ এবং কঠোর পর্যালোচনার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেল ভারত বায়োটেকের তৈরি করোনার টিকা কোভ্যাক্সিন। এই প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরি টিকার অনুমোদনের জন্য গত এপ্রিলে প্রথমবারের মতো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে আবেদন করেছিল।

পরে জুলাই মাসে প্রয়োজনীয় ডেটা সরবরাহ করে ভারত বায়োটেক। দীর্ঘ এই সময়ে কোভ্যাক্সিনের সুরক্ষা, কার্যকারিতা এবং অ্যান্টিবডির স্থায়িত্বের পাশাপাশি ভ্যাকসিন উৎপাদন স্থাপনাও পর্যালোচনা করে ডব্লিউএইচও।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় লাখ লাখ ভারতীয়- বিশেষ করে বিদেশগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, করোনায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবার এবং অন্যান্যরা ভোগান্তিতে পড়েন।

গত সপ্তাহে কোভ্যাক্সিনের ‘চূড়ান্ত ঝুঁকি-উপকারিতা মূল্যায়ন’র জন্য ভারত বায়োটেকের কাছে অতিরিক্ত তথ্য-উপাত্ত চায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বতন্ত্র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ।

কোভ্যাক্সিনের অনুমোদনের পর এই টিকার কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক টুইট করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এক টুইটে সংস্থাটি বলেছে, ১৪ অথবা তারও বেশি দিনের ব্যবধানে দুই ডোজ নেওয়া হলে কোভিড-১৯ এর যেকোনও ধরনের তীব্রতার বিরুদ্ধে কোভ্যাক্সিন প্রায় ৭৮ শতাংশ কার্যকর বলে নিশ্চিত হয়েছে ডব্লিউএইচও। সংরক্ষণের ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এই টিকা।

ভারতের স্থানীয়ভাবে তৈরি একমাত্র টিকা হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেল কোভ্যাক্সিন। দেশটিতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচির মূলভিত্তি হিসেবে সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত কোভিশিল্ডের পাশাপাশি কোভ্যাক্সিনও ব্যবহার করা হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশটিতে ১২ কোটি ১৪ লাখ মানুষকে কোভ্যাক্সিন দেওয়া হয়েছে।

ভারত বায়োটেক বলছে, তাদের তৈরি টিকা উপসর্গযুক্ত করোনা প্রতিরোধে ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ কার্যকর। এছাড়া করোনার অতি-সংক্রামক ধরন ডেল্টার বিরুদ্ধে ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে কোভ্যাক্সিন।

কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিন ছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট ফাইজার, জনসন অ্যান্ড জনসন, মডার্না এবং চীনের সিনোফার্মের টিকার অনুমোদন দিয়েছে।

এদিকে, কোভ্যাক্সিনের গুণাগুণ অব্যবহৃত অবস্থায় ১ বছর পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকে বলে বুধবার জানিয়েছে ভারত বায়োটেক। দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্য সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও) এ বিষয়ে একটি সনদপত্র ভারত বায়োটেককে দিয়েছে।

সিডিএসসিওর সনদ অনুযায়ী, টিকা প্রস্তুতের দিন থেকে পরবর্তী ১২ মাস পর্যন্ত মেয়াদ ও গুণাগুণ অক্ষুণ্ন থাকে কোভ্যাক্সিনের।

বর্তমানে বাজারে যেসব করোনা টিকা পাওয়া যায়, সেসবের অধিকাংশেরই মেয়াদ ৬ মাস। অর্থাৎ প্রস্তুতের দিন থেকে ৬ মাসের মধ্যে ব্যবহার না করা হলে নষ্ট হয়ে যায় সেসব টিকার ডোজ। এছাড়া ফাইজার-মডার্নার করোনা টিকা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ তাপমাত্রার। সেই তাপমাত্রায় রাখা না হলে এমনিতেই টিকার প্রতিরোধী গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে, সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই কোভ্যাক্সিন সংরক্ষণ করা সম্ভব।

Tag :

ডব্লিউএইচও-র অনুমোদন পেয়েছে ভারতের করোনাভাইরাসের টিকা কোভ্যাক্সিন

Update Time : ০৪:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ নভেম্বর ২০২১

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র অনুমোদন পেয়েছে ভারত বায়োটেকের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা কোভ্যাক্সিন। বুধবার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদনের তালিকায় ভারতের এই টিকাকে জায়গা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়ায় ভারতের এই টিকা এখন অন্যান্য দেশেও অনুমোদন পাবে। এছাড়া যেসব ভারতীয় এই টিকা নিয়েছেন বা নেবেন, তারাও বিদেশ সফরে গেলে আর কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে না অথবা করোনার অন্যান্য বিধি-নিষেধের আওতায় পড়বেন না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, ‘কোভ্যাক্সিনকে (ভারত বায়োটেকের তৈরি) জরুরি ব্যবহারের তালিকাভুক্ত করেছে ডব্লিউএইচও। এর ফলে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাকসিনের ক্রমবর্ধমান তালিকায় যুক্ত হলো কোভ্যাক্সিন’।

কার্যকারিতা ও মানের বিষয়ে দীর্ঘ এবং কঠোর পর্যালোচনার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেল ভারত বায়োটেকের তৈরি করোনার টিকা কোভ্যাক্সিন। এই প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরি টিকার অনুমোদনের জন্য গত এপ্রিলে প্রথমবারের মতো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে আবেদন করেছিল।

পরে জুলাই মাসে প্রয়োজনীয় ডেটা সরবরাহ করে ভারত বায়োটেক। দীর্ঘ এই সময়ে কোভ্যাক্সিনের সুরক্ষা, কার্যকারিতা এবং অ্যান্টিবডির স্থায়িত্বের পাশাপাশি ভ্যাকসিন উৎপাদন স্থাপনাও পর্যালোচনা করে ডব্লিউএইচও।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় লাখ লাখ ভারতীয়- বিশেষ করে বিদেশগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, করোনায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবার এবং অন্যান্যরা ভোগান্তিতে পড়েন।

গত সপ্তাহে কোভ্যাক্সিনের ‘চূড়ান্ত ঝুঁকি-উপকারিতা মূল্যায়ন’র জন্য ভারত বায়োটেকের কাছে অতিরিক্ত তথ্য-উপাত্ত চায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বতন্ত্র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ।

কোভ্যাক্সিনের অনুমোদনের পর এই টিকার কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক টুইট করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এক টুইটে সংস্থাটি বলেছে, ১৪ অথবা তারও বেশি দিনের ব্যবধানে দুই ডোজ নেওয়া হলে কোভিড-১৯ এর যেকোনও ধরনের তীব্রতার বিরুদ্ধে কোভ্যাক্সিন প্রায় ৭৮ শতাংশ কার্যকর বলে নিশ্চিত হয়েছে ডব্লিউএইচও। সংরক্ষণের ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এই টিকা।

ভারতের স্থানীয়ভাবে তৈরি একমাত্র টিকা হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেল কোভ্যাক্সিন। দেশটিতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচির মূলভিত্তি হিসেবে সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত কোভিশিল্ডের পাশাপাশি কোভ্যাক্সিনও ব্যবহার করা হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশটিতে ১২ কোটি ১৪ লাখ মানুষকে কোভ্যাক্সিন দেওয়া হয়েছে।

ভারত বায়োটেক বলছে, তাদের তৈরি টিকা উপসর্গযুক্ত করোনা প্রতিরোধে ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ কার্যকর। এছাড়া করোনার অতি-সংক্রামক ধরন ডেল্টার বিরুদ্ধে ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে কোভ্যাক্সিন।

কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিন ছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট ফাইজার, জনসন অ্যান্ড জনসন, মডার্না এবং চীনের সিনোফার্মের টিকার অনুমোদন দিয়েছে।

এদিকে, কোভ্যাক্সিনের গুণাগুণ অব্যবহৃত অবস্থায় ১ বছর পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকে বলে বুধবার জানিয়েছে ভারত বায়োটেক। দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্য সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও) এ বিষয়ে একটি সনদপত্র ভারত বায়োটেককে দিয়েছে।

সিডিএসসিওর সনদ অনুযায়ী, টিকা প্রস্তুতের দিন থেকে পরবর্তী ১২ মাস পর্যন্ত মেয়াদ ও গুণাগুণ অক্ষুণ্ন থাকে কোভ্যাক্সিনের।

বর্তমানে বাজারে যেসব করোনা টিকা পাওয়া যায়, সেসবের অধিকাংশেরই মেয়াদ ৬ মাস। অর্থাৎ প্রস্তুতের দিন থেকে ৬ মাসের মধ্যে ব্যবহার না করা হলে নষ্ট হয়ে যায় সেসব টিকার ডোজ। এছাড়া ফাইজার-মডার্নার করোনা টিকা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ তাপমাত্রার। সেই তাপমাত্রায় রাখা না হলে এমনিতেই টিকার প্রতিরোধী গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে, সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই কোভ্যাক্সিন সংরক্ষণ করা সম্ভব।