তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের সাতদিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শত শত মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা এরইমধ্যে ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত লাখেরও বেশি।
সিএনএনের তথ্যমতে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ১৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তুরস্কের ২৯ হাজার ৬০৫ এবং সিরিয়ায় ৪ হাজার ৫৭৫ জন। তবে, জাতিসংঘ বলছে, নিহতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সিরিয়ায় ৫৩ লাখের মতো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া দুই দেশে ৯ লাখ মানুষের জরুরি গরম খাবার প্রয়োজন। এ ঘটনায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দাতব্য সংস্থাগুলো বলছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে সিরিয়ায়। অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া হাজার হাজার ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে তুরস্কে ভূমিকম্পে ভেঙে পড়া অনেক ভবনের নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১১৩টি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, পুলিশ এরই মধ্যে ভবন নির্মাণ ঠিকাদারসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। যদিও অনেকে মনে করছেন, এই বিপর্যয়ের সার্বিক দায় অন্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ এসব করছে।
অন্যদিকে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত তুরস্কে ভেঙে পড়া ভবন থেকে লুটপাট ও ডাকাতি এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে ৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
পরিচয় প্রকাশ না করা শর্তের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের হাতায়ে প্রদেশের ৪২ সন্দেহভাজনকে ঘিরে তদন্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে লুটের অভিযোগ রয়েছে।
ওই সূত্রের বরাতে আনাদুলু জানিয়েছে, ৪০ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরাপত্তা দল ছয়টি বন্দুক, তিনটি রাইফেল, স্বর্ণালঙ্কার, ব্যাংক কার্ড, নগদ ১১ হাজার ডলার ও ৭০ হাজার লিরা জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সিরিয়ায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো নিয়ে বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্রোহী অধুষ্যিত এলাকায় নানা বাধা রয়েছে। উদ্ধারকারী দল এবং ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে আসাদ সরকারের সহায়তা চেয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ধসে গেছে কয়েক হাজার ঘর-বাড়ি। বাস্তচ্যুত লাখ লাখ মানুষ।
অনলাইন ডেস্ক 


















