ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে তীব্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় কেঁপে উঠেছে তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহান শহর। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই হামলার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরবৈরী দেশের মধ্যে এই নতুন সংঘাতে যুদ্ধ আবারও চরম মাত্রায় পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, রাজধানী তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহানে একাদিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, তেহরানে অন্তত দুটি এবং ইসফাহান শহরে অন্তত তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানে সুনির্দিষ্ট ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ এই হামলা চালিয়েছে। তবে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
গত কয়েক দিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত ছিল। লেবাননে ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সম্প্রতি উত্তর ইসরায়েল অভিমুখে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এর জবাব দিতেই ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হন, যা পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেয়।
নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোন
এদিকে ইরান-ইসরায়েল এই সংঘাত যেন আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয়, সে জন্য আন্তর্জাতিক মহলে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, পুরো পরিস্থিতি তিনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনিই সব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
সৌদি ও কাতারের উদ্বেগ
ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি আলোচনা করেছেন সৌদি আরব ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
ফোনালাপে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং এর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্র: আল-জাজিরা
আন্তজার্তিক ডেস্ক 


















