ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ছোঁয়াচে চর্মরোগ স্ক্যাবিস

দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ছোঁয়াচে চর্মরোগ স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর ভিড়। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষই এই সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা এটিকে নীরব মহামারি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

চর্মে লালচে র‌্যাশ, তীব্র চুলকানি এবং চামড়া ফেটে রক্ত বের হওয়া—স্ক্যাবিসের এমন লক্ষণে দিন কাটছে অনেক রোগীর। অনেকে গরমজনিত এলার্জি মনে করে অবহেলা করছেন, ফলে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

চার বছর বয়সী নূর ফাতেমার পুরো শরীরজুড়ে লালচে র‌্যাশ। মায়ের সঙ্গে চিকিৎসা নিতে এসেছে হাসপাতালে। মা বলেন, “আগেও চিকিৎসা করিয়েছিলাম, একবার ভালো হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পর আবার দেখা দিল। তাই আবার হাসপাতালে আসতে হলো।”

শুধু নূর ফাতেমা নয়, অনেক পরিবারেই একসঙ্গে একাধিক সদস্য আক্রান্ত হচ্ছেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখা যায়, একই পরিবারের চারজন সদস্য চিকিৎসা নিতে এসেছেন। প্রথমে গৃহবধূর শরীরে র‌্যাশ দেখা দেয়, পরে একে একে আক্রান্ত হন বাকি সদস্যরাও।

চিকিৎসকরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। রোগের প্রতি অবহেলা, ভুল চিকিৎসা এবং সচেতনতার অভাবেই বাড়ছে সংক্রমণের হার।

সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহেদ পারভেজ বলেন, “এটা নীরব মহামারি। মানুষ দুর্ভোগে থাকলেও সচেতন না। অনেকেই ফার্মেসি থেকে ভুল ওষুধ খেয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করছেন।”

ডা. মোহাম্মদ তারিকুজ্জামান মিয়া জানান, “হাতের আঙুলের ফাঁক, কব্জি, নাভি, গোপনাঙ্গ ও পেছনের অংশে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা যায়।”

রোগ প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা নয়, বরং একই ঘরে বসবাসকারী সব সদস্যের একসঙ্গে চিকিৎসা করা জরুরি—এমন পরামর্শই দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে স্ক্যাবিস দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগে পরিণত হতে পারে, এমনকি কিডনি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জনসচেতনতা এবং একসঙ্গে চিকিৎসা গ্রহণই হতে পারে এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

Tag :

দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ছোঁয়াচে চর্মরোগ স্ক্যাবিস

Update Time : ১০:৪৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ছোঁয়াচে চর্মরোগ স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর ভিড়। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষই এই সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা এটিকে নীরব মহামারি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

চর্মে লালচে র‌্যাশ, তীব্র চুলকানি এবং চামড়া ফেটে রক্ত বের হওয়া—স্ক্যাবিসের এমন লক্ষণে দিন কাটছে অনেক রোগীর। অনেকে গরমজনিত এলার্জি মনে করে অবহেলা করছেন, ফলে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

চার বছর বয়সী নূর ফাতেমার পুরো শরীরজুড়ে লালচে র‌্যাশ। মায়ের সঙ্গে চিকিৎসা নিতে এসেছে হাসপাতালে। মা বলেন, “আগেও চিকিৎসা করিয়েছিলাম, একবার ভালো হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পর আবার দেখা দিল। তাই আবার হাসপাতালে আসতে হলো।”

শুধু নূর ফাতেমা নয়, অনেক পরিবারেই একসঙ্গে একাধিক সদস্য আক্রান্ত হচ্ছেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখা যায়, একই পরিবারের চারজন সদস্য চিকিৎসা নিতে এসেছেন। প্রথমে গৃহবধূর শরীরে র‌্যাশ দেখা দেয়, পরে একে একে আক্রান্ত হন বাকি সদস্যরাও।

চিকিৎসকরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। রোগের প্রতি অবহেলা, ভুল চিকিৎসা এবং সচেতনতার অভাবেই বাড়ছে সংক্রমণের হার।

সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহেদ পারভেজ বলেন, “এটা নীরব মহামারি। মানুষ দুর্ভোগে থাকলেও সচেতন না। অনেকেই ফার্মেসি থেকে ভুল ওষুধ খেয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করছেন।”

ডা. মোহাম্মদ তারিকুজ্জামান মিয়া জানান, “হাতের আঙুলের ফাঁক, কব্জি, নাভি, গোপনাঙ্গ ও পেছনের অংশে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা যায়।”

রোগ প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা নয়, বরং একই ঘরে বসবাসকারী সব সদস্যের একসঙ্গে চিকিৎসা করা জরুরি—এমন পরামর্শই দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে স্ক্যাবিস দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগে পরিণত হতে পারে, এমনকি কিডনি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জনসচেতনতা এবং একসঙ্গে চিকিৎসা গ্রহণই হতে পারে এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।