ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বলিউডের শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন আজকের নামাজের সময়সূচি : ৮ অক্টোবর ২০২৬ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অর্জনকে রোনালদোর শ্রদ্ধা ফরিদপুরে জসীম পল্লী মেলা পুনরায় আয়োজনের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি : ৭ অক্টোবর ২০২৬ ফুটবল শুধু একটি খেলা না, জীবনের গল্প, সেই গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়গুলোর একটির নাম লিওনেল মেসি লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখল আর্জেন্টিনা; জিতলো ৩-০ গোলে ফরিদপুরে ব্যবসায়ী ইউসুফ হত্যা: আড়াই মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা গ্রেফতার নেই,

দেশে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রকোপ থামছেই না; আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রকোপ থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ১০১ শিশু এই ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

আজ রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত হাম-বিষয়ক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর মেলেনি; মারা যাওয়া ছয় শিশুই হামের উপসর্গে ভুগছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ জনের শরীরে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর বাকি ১ হাজার ২১ শিশু হামের নানা উপসর্গ নিয়ে শয্যাশায়ী হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৮০৯ শিশু। এছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৯ জনের।

সব মিলিয়ে এই পাঁচ মাসে হাম ও সমজাতীয় উপসর্গে দেশে মোট ৯০৮ শিশুর করুণ মৃত্যু হলো।

দৈনিক বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের পাশাপাশি আরও ৯৬৩ শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৫০ জন। ফলে হাসপাতালগুলোতে এখনো রোগী ভর্তি ও চিকিৎসার ব্যাপক চাপ সামলাতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭। যার মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৮৮০ জনের।

এ সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা এবং হাসপাতালে ভর্তির হার এখনো বেশ উঁচুমুখী। বিশেষ করে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর এই ধারা অব্যাহত থাকা স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

Tag :
জনপ্রিয়

বলিউডের শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন

দেশে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রকোপ থামছেই না; আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

Update Time : ০১:২৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

দেশে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রকোপ থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ১০১ শিশু এই ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

আজ রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত হাম-বিষয়ক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর মেলেনি; মারা যাওয়া ছয় শিশুই হামের উপসর্গে ভুগছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ জনের শরীরে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর বাকি ১ হাজার ২১ শিশু হামের নানা উপসর্গ নিয়ে শয্যাশায়ী হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৮০৯ শিশু। এছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৯ জনের।

সব মিলিয়ে এই পাঁচ মাসে হাম ও সমজাতীয় উপসর্গে দেশে মোট ৯০৮ শিশুর করুণ মৃত্যু হলো।

দৈনিক বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের পাশাপাশি আরও ৯৬৩ শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৫০ জন। ফলে হাসপাতালগুলোতে এখনো রোগী ভর্তি ও চিকিৎসার ব্যাপক চাপ সামলাতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭। যার মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৮৮০ জনের।

এ সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা এবং হাসপাতালে ভর্তির হার এখনো বেশ উঁচুমুখী। বিশেষ করে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর এই ধারা অব্যাহত থাকা স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।