ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
হামে শিশু মৃত্যু: ইউনূস ও নূর জাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ইরান থেকে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ভূখণ্ডের দিকে শনাক্ত: : আইডিএফ রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ব্যারেলপ্রতি তিন ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করেছে ইরান জেরুজালেমসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় অনবরত বাজছে যুদ্ধকালীন সতর্কতা সাইরেন, আকাশসীমা বন্ধ তেহরানসহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে তীব্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যুদ্ধ ফের তীব্র হওয়ার শঙ্কা ভুটানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশসহ এশিয়ার পাঁচটি দেশ ফিলিপাইনের ভূমিকম্পের জেরে প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে সুনামি

নতুন শিক্ষা কারিকুলাম বাতিল নয়, প্রশিক্ষণ-সংশোধন স্থগিত

নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল নয় বরং এর অধীনে কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, পরিমার্জন ও সংশোধন কাজ স্থগিত করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। শনিবার (১০ আগস্ট) এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ফরহাদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কারিকুলাম বাতিল হওয়ার যে সংবাদ একটি টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে তা সঠিক না। কারিকুলাম সংক্রান্ত একটি ওয়ার্কশপ (কর্মশালা) বাতিল করা হয়েছে। এটাকে তারা কারিকুলাম বাতিল বলে প্রচার করছে, যা সঠিক নয়। এর আগে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের নামে গুজব ছড়াতে থাকে।

তিনি জানান, কারিকুলাম বাতিল করার এখতিয়ার এনসিটিবির নয়। এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সরকারের সিদ্ধান্তে এই কারিকুলাম গ্রহণ করা হয়েছে, এখন এটি বাতিল করতে হলে সরকারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) স্কিম শাখার পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মাহফুজ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনও এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। এটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ‍সুযোগ নেই। তবে আমরা এখনও স্থগিতের কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি।

২০২২ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন শুরু হয়। চলতি বছর থেকে সব শ্রেণিতে এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কারিকুলামের শুরু থেকেই নানা বির্তক শুরু হয়। অভিভাবকরা এটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

নতুন কারিকুলামে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে ৬০ শতাংশ। আর সামষ্টিক মূল্যায়ন অর্থাৎ পরীক্ষা হবে ৪০ শতাংশ। এছাড়া শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্ম শিক্ষা, শিল্পকলায় শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে। আর ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিখনকালীন মূল্যায়ন ৬০ শতাংশ ও সামষ্টিক মূল্যায়ন বা বছর শেষে পরীক্ষায় থাকবে ৪০ শতাংশ। বাকি বিষয় জীবন ও জীবিকা, তথ্যপ্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্ম শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ।

চলতি বছরের প্রথমদিনেই নতুন শিক্ষাক্রমে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় পাঠদান শুরু হয়েছিল। শুরুতে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম এবং বাকি শ্রেণিগুলোতে ২০২৪ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এই শিক্ষাক্রম চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রচলিত শিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের মূল কারিগর অর্থাৎ শিক্ষকরা যাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঠিক ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার সঙ্গে পঠন-পাঠন সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য শুরুতেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এতে শিক্ষাক্রম ও অন্যান্য কার্যক্রমের তদারকি করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

শিক্ষার্থীদের এখন নবম ও দশম শ্রেণিতে অভিন্ন সিলেবাসে পড়ানো হবে। এর মধ্যে নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিখনকালীন মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ আর সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে ৫০ শতাংশ। বাকি বিষয়গুলোর শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ। একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক এবং বাণিজ্য- এই তিন বিভাগে ভাগ হবে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দমতো বিভাগ বেছে নেবে।

Tag :

হামে শিশু মৃত্যু: ইউনূস ও নূর জাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত

নতুন শিক্ষা কারিকুলাম বাতিল নয়, প্রশিক্ষণ-সংশোধন স্থগিত

Update Time : ০৯:৫৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৪

নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল নয় বরং এর অধীনে কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, পরিমার্জন ও সংশোধন কাজ স্থগিত করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। শনিবার (১০ আগস্ট) এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ফরহাদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কারিকুলাম বাতিল হওয়ার যে সংবাদ একটি টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে তা সঠিক না। কারিকুলাম সংক্রান্ত একটি ওয়ার্কশপ (কর্মশালা) বাতিল করা হয়েছে। এটাকে তারা কারিকুলাম বাতিল বলে প্রচার করছে, যা সঠিক নয়। এর আগে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের নামে গুজব ছড়াতে থাকে।

তিনি জানান, কারিকুলাম বাতিল করার এখতিয়ার এনসিটিবির নয়। এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সরকারের সিদ্ধান্তে এই কারিকুলাম গ্রহণ করা হয়েছে, এখন এটি বাতিল করতে হলে সরকারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) স্কিম শাখার পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মাহফুজ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনও এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। এটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ‍সুযোগ নেই। তবে আমরা এখনও স্থগিতের কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি।

২০২২ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন শুরু হয়। চলতি বছর থেকে সব শ্রেণিতে এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কারিকুলামের শুরু থেকেই নানা বির্তক শুরু হয়। অভিভাবকরা এটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

নতুন কারিকুলামে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে ৬০ শতাংশ। আর সামষ্টিক মূল্যায়ন অর্থাৎ পরীক্ষা হবে ৪০ শতাংশ। এছাড়া শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্ম শিক্ষা, শিল্পকলায় শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে। আর ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিখনকালীন মূল্যায়ন ৬০ শতাংশ ও সামষ্টিক মূল্যায়ন বা বছর শেষে পরীক্ষায় থাকবে ৪০ শতাংশ। বাকি বিষয় জীবন ও জীবিকা, তথ্যপ্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্ম শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ।

চলতি বছরের প্রথমদিনেই নতুন শিক্ষাক্রমে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় পাঠদান শুরু হয়েছিল। শুরুতে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম এবং বাকি শ্রেণিগুলোতে ২০২৪ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এই শিক্ষাক্রম চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রচলিত শিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের মূল কারিগর অর্থাৎ শিক্ষকরা যাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঠিক ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার সঙ্গে পঠন-পাঠন সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য শুরুতেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এতে শিক্ষাক্রম ও অন্যান্য কার্যক্রমের তদারকি করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

শিক্ষার্থীদের এখন নবম ও দশম শ্রেণিতে অভিন্ন সিলেবাসে পড়ানো হবে। এর মধ্যে নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিখনকালীন মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ আর সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে ৫০ শতাংশ। বাকি বিষয়গুলোর শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ। একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক এবং বাণিজ্য- এই তিন বিভাগে ভাগ হবে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দমতো বিভাগ বেছে নেবে।