ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রায় সব ধরনের সবজি, মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দুপুরে দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ পদত্যাগ করছেন মোদীর আশ্বাসে থামছে না দেশব্যাপী আন্দোলন; অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোজ জনতা পার্টি ব্রাজিলের পণ্যের উপর আরোপিত শুল্ককে স্বেচ্ছাচারী ও অযৌক্তিক আখ্যা দিয়েছে ব্রাজিল ট্রাম্প প্রশাসনের ৮০টির বেশি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের ঘোষণা শিক্ষা সচিব বিনীত জোশীকে সরিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার মধ্যরাতে ভিডিও বার্তায় মোদীর প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১৩তম রাতের সামরিক অভিযান সম্পন্ন, বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

নতুন এক মহাকাব্য লিখল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সফরকারী পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে দুই টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করলো নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই সিরিজে ব্যাক-টু-ব্যাক হোয়াইটওয়াশের অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। এর আগে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে স্বাগতিকদের ধবলধোলাই করেছিল টাইগাররা। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জয়ের সাফল্যে ভাসছে টাইগাররা।

সিলেটে পঞ্চম ও শেষ দিনে ৪৩৮ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নামে পাকিস্তান। তাদের হাতে ছিল তিন উইকেট। পাকিস্তানের লোয়ার-অর্ডারদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

এমন সমীকরণ নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই নাহিদ রানা, তাসকিনদের ওপর চড়াও হন পাকিস্তানি স্পিনার সাজিদ খান। কিন্তু ২৮ রানে এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরান তাইজুল ইসলাম। সঙ্গীকে হারিয়ে ৯৪ রান করে মোহাম্মদ রিজওয়ান কাটা পড়েন শরিফুল ইসলামের পেসে। ৩৫৮ রানে নবম উইকেট হারায় পাকিস্তান। এরপর ৯৮তম ওভারে বল করতে এসে স্বাগতিকদের কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। খুররাম শাহজাদকে নিজের ষষ্ঠ শিকারে পরিণত করলে ৩৫৮ রানেই অলআউট হয় পাকিস্তান।

পঞ্চম দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মোহাম্মিদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই এই জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। নাহিদ রানার করা বলে স্লিপে ক্যাচও তুলে দিয়েছিলেন রিজওয়ান। কিন্তু হাতের ক্যাচ মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এই সুযোগ মিস করার পর বাংলাদেশিদের ভোগাতে থাকেন রিজওয়ান ও সাজিদ খান। এই দুই ব্যাটারের কল্যাণে জয়ের স্বপ্নও দেখতে থাকে পাকিস্তানিরা। কিন্তু সেই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে আউট করার মাধ্যমে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ২৮ রান করেন সাজিদ।
এদিকে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন পাকিস্তানি উইরেটকিপার ব্যাটার রিজওয়ান। কিন্তু তাকে শতক পূর্ণ করতে দেননি শরিফুল ইসলাম। মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ৯৪ রান করেন রিজওয়ান। ১৬৬ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি ১০টি চারে সাজানো। এছাড়া শূন্য রানে আউট হন খুররাম শেহজাদ। আর শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ আব্বাস।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ছয়টি নেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৩৪.২ ওভার বল করে ১২০ রানের খরচায় ছয়টি উইকেট পেয়েছেন তিনি। এছাড়া দুটি উইকেট নেন নাহিদ রানা। আর একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
সিলেট টেস্টের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসের সেঞ্চুরি নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ২৩২ রানে থামে পাকিস্তান। ফলে ৪৬ রানে লিড পায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৯০ রান করলে টার্গেট দাঁড়ায় ৪৩৭ রানে। কিন্তু পাকিস্তান অলআউট হয়েছে ৩৫৮ রানেই।
প্রায় বছর দুয়েক আগে পাকিস্তানের মাটিতে তাদেরকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে পাকবাহিনীদের ধবলধোলাই করলো টাইগাররা। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা পাঁচটি টেস্ট সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সবশেষ টানা চার টেস্টেই জয়ের দেখা পেলো টাইগাররা, যা এবারই প্রথম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০।
পাকিস্তান: ২৩২ ও ৯৭.২ ওভারে ৩৫৮ (রিজওয়ান ৯৪, মাসুদ ৭১, বাবর ৪৭; তাইজুল ৬/১২০, নাহিদ ২/৭১, মিরাজ ১/৬২)।
ফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: লিটন দাস।
সিরিজসেরা: মুশফিকুর রহিম।
সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ ২–০ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ।
Tag :
জনপ্রিয়

প্রায় সব ধরনের সবজি, মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

Update Time : ০৬:০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

নতুন এক মহাকাব্য লিখল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সফরকারী পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে দুই টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করলো নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই সিরিজে ব্যাক-টু-ব্যাক হোয়াইটওয়াশের অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। এর আগে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে স্বাগতিকদের ধবলধোলাই করেছিল টাইগাররা। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জয়ের সাফল্যে ভাসছে টাইগাররা।

সিলেটে পঞ্চম ও শেষ দিনে ৪৩৮ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নামে পাকিস্তান। তাদের হাতে ছিল তিন উইকেট। পাকিস্তানের লোয়ার-অর্ডারদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

এমন সমীকরণ নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই নাহিদ রানা, তাসকিনদের ওপর চড়াও হন পাকিস্তানি স্পিনার সাজিদ খান। কিন্তু ২৮ রানে এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরান তাইজুল ইসলাম। সঙ্গীকে হারিয়ে ৯৪ রান করে মোহাম্মদ রিজওয়ান কাটা পড়েন শরিফুল ইসলামের পেসে। ৩৫৮ রানে নবম উইকেট হারায় পাকিস্তান। এরপর ৯৮তম ওভারে বল করতে এসে স্বাগতিকদের কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। খুররাম শাহজাদকে নিজের ষষ্ঠ শিকারে পরিণত করলে ৩৫৮ রানেই অলআউট হয় পাকিস্তান।

পঞ্চম দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মোহাম্মিদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই এই জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। নাহিদ রানার করা বলে স্লিপে ক্যাচও তুলে দিয়েছিলেন রিজওয়ান। কিন্তু হাতের ক্যাচ মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এই সুযোগ মিস করার পর বাংলাদেশিদের ভোগাতে থাকেন রিজওয়ান ও সাজিদ খান। এই দুই ব্যাটারের কল্যাণে জয়ের স্বপ্নও দেখতে থাকে পাকিস্তানিরা। কিন্তু সেই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে আউট করার মাধ্যমে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ২৮ রান করেন সাজিদ।
এদিকে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন পাকিস্তানি উইরেটকিপার ব্যাটার রিজওয়ান। কিন্তু তাকে শতক পূর্ণ করতে দেননি শরিফুল ইসলাম। মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ৯৪ রান করেন রিজওয়ান। ১৬৬ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি ১০টি চারে সাজানো। এছাড়া শূন্য রানে আউট হন খুররাম শেহজাদ। আর শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ আব্বাস।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ছয়টি নেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৩৪.২ ওভার বল করে ১২০ রানের খরচায় ছয়টি উইকেট পেয়েছেন তিনি। এছাড়া দুটি উইকেট নেন নাহিদ রানা। আর একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
সিলেট টেস্টের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসের সেঞ্চুরি নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ২৩২ রানে থামে পাকিস্তান। ফলে ৪৬ রানে লিড পায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৯০ রান করলে টার্গেট দাঁড়ায় ৪৩৭ রানে। কিন্তু পাকিস্তান অলআউট হয়েছে ৩৫৮ রানেই।
প্রায় বছর দুয়েক আগে পাকিস্তানের মাটিতে তাদেরকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে পাকবাহিনীদের ধবলধোলাই করলো টাইগাররা। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা পাঁচটি টেস্ট সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সবশেষ টানা চার টেস্টেই জয়ের দেখা পেলো টাইগাররা, যা এবারই প্রথম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০।
পাকিস্তান: ২৩২ ও ৯৭.২ ওভারে ৩৫৮ (রিজওয়ান ৯৪, মাসুদ ৭১, বাবর ৪৭; তাইজুল ৬/১২০, নাহিদ ২/৭১, মিরাজ ১/৬২)।
ফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: লিটন দাস।
সিরিজসেরা: মুশফিকুর রহিম।
সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ ২–০ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ।