ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

ভালো ফল পেতে আমের মুকুলে স্প্রে করার নিয়ম ও বিশেষ যত্ন

  • ফয়সাল হাসান
  • Update Time : ০৫:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৩৫ Time View

আমাদের দেশে আমের ফলন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । ৫ বছর আগেও, কেজিপ্রতি আমের দাম সাধারন মানুষদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ছিল । এখন অধিক মাত্রায় উৎপাদন এবং ফলনের কারনে, জনপ্রিয় এই দেশী ফল সকল মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আলে এসেছে ।
কিন্তুু, এই উৎপাদনের পরিমান বাড়াতে হলে, আমের যত্নের পাশাপাশি, সর্বপ্রথমে গাছের পরিচর্যা প্রয়োজন । আসুন, কিভাবে গাছসহ মুকুল এবং ফলের পরিচর্যা করতে হয়, বিস্তারিত জেনে নেই ।

✔️ভালো ফল পেতে আমের মুকুলে স্প্রে করার নিয়ম ও বিশেষ যত্ন ( জৈবসহ):

আজকে আমরা জানাবঃ
১. কয়বার স্প্রে করতে হবে
২. ফল ঝরা রোধে করণীয়
৩. জৈব পদ্ধতিতে হপার পোকা ও ফল ছিদ্র কারী মাছি পোকা দমন
৪. কখন সেচ দিবেন

তাহলে চলুন জেনে নেই,

১ম স্প্রেঃ ( জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে মুকুল আসার ১৫-২০ দিন আগে)

✔️ সাইপারমেথ্রিন অথবা ল্যামডা সাইহ্যালোথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ১ মিলি / লিটার পানিতে

✔️ ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে ।

✔️ একদিন পর সালফার অথবা ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন ।

>>তবে মুকুল আসার আগে স্প্রে করা জরুরি নয় । ঘন কুয়াশা অবস্থায় আগাম ব্যবস্থা হিসেবে এটি করলে ভালো ফল পাওয়া যায় ।

মুকুল আসার পরেঃ

২য় স্প্রেঃ (মুকুল ৪-৬ ইঞ্চি হওয়ার পর কিন্তু ফুল ফোটার আগে)

✔️ হপার পোকা দমনে ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে ।
✔️একদিন পর অ্যানথ্রাকনোজ রোগ দমনে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন ইন্ডোফিল / ডায়থেন এম ৪৬/নেমিস্পোর /এগ্রিজেব ৮০ ডাব্লিউ পি যে কোন একটি প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

জৈব পদ্ধতিঃ গাছে হপার পোকা দমনে মুকুল আসার পর পর, আঠালো হলুদ ও নীল ফাদ লাগিয়ে দিতে পারেন ।

➡ ভালো ফলন পেতেঃ
২য়বার স্প্রে করার ২-৩ দিন পরে, সলুবর বোরন লিটারে ১.৫ গ্রাম হারে এবং চিলেটেড জিংক লিটারে ০.২৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন ।

⛔ সতর্কতাঃ ফুল ফোটার পর কোন স্প্রে করা যাবে না । স্প্রে করার সময় গাছের পাতা, মুকুল, ও ডালপালা ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে ।

৩য় স্প্রেঃ (ফল মটরদানা আকৃতির হলে)

✔️ উপরের ২য় বার স্প্রে করার নিয়মে ইমিডাক্লোপ্রিড, ম্যানকোজেব অথবা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করবেন ।

ফল ঝরা রোধেঃ
✔️ প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে ফল মটরদানা অবস্থায় একবার এবং মার্বেল আকৃতির হলে দ্বিতীয়বার বার স্প্রে করতে হবে।

জৈব পদ্ধতিতে মাছি পোকা দমনেঃ

ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে ফল মার্বেল অবস্থা থেকে ম্যাজিক ফাদ জোনাট্র্যাক অথবা ফেরোমন ফাদ ব্যবহার করতে পারেন । এছাড়া ফল ব্যাগিং করে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায় ।

সেচ প্রদানঃ
√√ফলন্ত গাছে মুকুল আসার ৩ মাস আগে থেকে সেচ প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।
√√আমের মুকুল ফোটার শেষ পর্যায়ে কমপক্ষে একবার ও ফল মটর দানা হলে একবার সেচ দিতে হবে।
>তবে মুকুল অবস্থায় সেচ দেওয়া নিয়ে মতভেদ আছে । ফুল ফোটার আগে সেচ দেওয়া যাবে না ।

>>কলম করা গাছের বয়স ৪ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মুকুল ভেঙ্গে দেওয়া ভালো । এতে আম গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় ও দীর্ঘ দিন ফল দেয় । তবে গাছের বৃদ্ধি খুব ভালো হলে ৩ বছরের পর থেকে মুকুল রাখতে কেউ কেউ পরামর্শ দেন ।

>>গাছের গোড়া আগাছা মুক্ত ও পরিস্কার রাখতে হবে । মনে রাখবেন এসব আগাছায় পোকা বাসা বাঁধে ।

Tag :

আলজেরিয়ার গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ‘মাস্কম্যান’ কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান

ভালো ফল পেতে আমের মুকুলে স্প্রে করার নিয়ম ও বিশেষ যত্ন

Update Time : ০৫:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আমাদের দেশে আমের ফলন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । ৫ বছর আগেও, কেজিপ্রতি আমের দাম সাধারন মানুষদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ছিল । এখন অধিক মাত্রায় উৎপাদন এবং ফলনের কারনে, জনপ্রিয় এই দেশী ফল সকল মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আলে এসেছে ।
কিন্তুু, এই উৎপাদনের পরিমান বাড়াতে হলে, আমের যত্নের পাশাপাশি, সর্বপ্রথমে গাছের পরিচর্যা প্রয়োজন । আসুন, কিভাবে গাছসহ মুকুল এবং ফলের পরিচর্যা করতে হয়, বিস্তারিত জেনে নেই ।

✔️ভালো ফল পেতে আমের মুকুলে স্প্রে করার নিয়ম ও বিশেষ যত্ন ( জৈবসহ):

আজকে আমরা জানাবঃ
১. কয়বার স্প্রে করতে হবে
২. ফল ঝরা রোধে করণীয়
৩. জৈব পদ্ধতিতে হপার পোকা ও ফল ছিদ্র কারী মাছি পোকা দমন
৪. কখন সেচ দিবেন

তাহলে চলুন জেনে নেই,

১ম স্প্রেঃ ( জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে মুকুল আসার ১৫-২০ দিন আগে)

✔️ সাইপারমেথ্রিন অথবা ল্যামডা সাইহ্যালোথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ১ মিলি / লিটার পানিতে

✔️ ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে ।

✔️ একদিন পর সালফার অথবা ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন ।

>>তবে মুকুল আসার আগে স্প্রে করা জরুরি নয় । ঘন কুয়াশা অবস্থায় আগাম ব্যবস্থা হিসেবে এটি করলে ভালো ফল পাওয়া যায় ।

মুকুল আসার পরেঃ

২য় স্প্রেঃ (মুকুল ৪-৬ ইঞ্চি হওয়ার পর কিন্তু ফুল ফোটার আগে)

✔️ হপার পোকা দমনে ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে ।
✔️একদিন পর অ্যানথ্রাকনোজ রোগ দমনে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন ইন্ডোফিল / ডায়থেন এম ৪৬/নেমিস্পোর /এগ্রিজেব ৮০ ডাব্লিউ পি যে কোন একটি প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

জৈব পদ্ধতিঃ গাছে হপার পোকা দমনে মুকুল আসার পর পর, আঠালো হলুদ ও নীল ফাদ লাগিয়ে দিতে পারেন ।

➡ ভালো ফলন পেতেঃ
২য়বার স্প্রে করার ২-৩ দিন পরে, সলুবর বোরন লিটারে ১.৫ গ্রাম হারে এবং চিলেটেড জিংক লিটারে ০.২৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন ।

⛔ সতর্কতাঃ ফুল ফোটার পর কোন স্প্রে করা যাবে না । স্প্রে করার সময় গাছের পাতা, মুকুল, ও ডালপালা ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে ।

৩য় স্প্রেঃ (ফল মটরদানা আকৃতির হলে)

✔️ উপরের ২য় বার স্প্রে করার নিয়মে ইমিডাক্লোপ্রিড, ম্যানকোজেব অথবা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করবেন ।

ফল ঝরা রোধেঃ
✔️ প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে ফল মটরদানা অবস্থায় একবার এবং মার্বেল আকৃতির হলে দ্বিতীয়বার বার স্প্রে করতে হবে।

জৈব পদ্ধতিতে মাছি পোকা দমনেঃ

ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে ফল মার্বেল অবস্থা থেকে ম্যাজিক ফাদ জোনাট্র্যাক অথবা ফেরোমন ফাদ ব্যবহার করতে পারেন । এছাড়া ফল ব্যাগিং করে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায় ।

সেচ প্রদানঃ
√√ফলন্ত গাছে মুকুল আসার ৩ মাস আগে থেকে সেচ প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।
√√আমের মুকুল ফোটার শেষ পর্যায়ে কমপক্ষে একবার ও ফল মটর দানা হলে একবার সেচ দিতে হবে।
>তবে মুকুল অবস্থায় সেচ দেওয়া নিয়ে মতভেদ আছে । ফুল ফোটার আগে সেচ দেওয়া যাবে না ।

>>কলম করা গাছের বয়স ৪ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মুকুল ভেঙ্গে দেওয়া ভালো । এতে আম গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় ও দীর্ঘ দিন ফল দেয় । তবে গাছের বৃদ্ধি খুব ভালো হলে ৩ বছরের পর থেকে মুকুল রাখতে কেউ কেউ পরামর্শ দেন ।

>>গাছের গোড়া আগাছা মুক্ত ও পরিস্কার রাখতে হবে । মনে রাখবেন এসব আগাছায় পোকা বাসা বাঁধে ।