ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দান করার পরও আজীবন বাবা-মায়ের ভোগদখল করার অধিকার দিয়ে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস ইরানে আক্রমণ হলে হামলা তীব্রতর হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ে ১১ দল আজ রাজপথে নেমেছে: ডা. শফিকুর রহমান ইরানের সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ আঘাত হানবে মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানিলন্ডারিং মামলায় জিকে শামীমের ১০ বছর কারাদণ্ড

মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় যুবলীগের কথিত নেতা ও আলোচিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমের ১০ বছর ও তার ৭ দেহরক্ষীর ৪ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৭ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

মানি লন্ডারিং আইন ২০১২ এর ৪(২) ধারায় এ কারাদণ্ড দেয়া হয়। একইসঙ্গে আসামিদের ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮১৪ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এ অর্থ ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে না দিলে আরো ১ বছরের কারাভোগ করতে হবে।

এ রায়ের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান বলেন, এ রায়ে আমরা খুশি। বিচারক বলেছেন দলের ভিতর লেবাসধারী টেন্ডারবাজ, অর্থপাচারকারীদের সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবো। তারা দেশের শত্রু।

এর আগে দুপুর ১১ টা ৩০ মিনিটের দিকে জিকে শামীম সহ তার সাত দেহরক্ষীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় জিকে শামীম বাদে বাকি আসামিদের ডান্ডাবেরি পরিয়ে আদালতের কাটগড়ায় তোলা হয়।

রায়কে ঘিরে আদালতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায়। বেলা ১১ টা ৫৮ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন-আদালত। রায় ঘোষণা শেষে আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ১৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। যুক্তিতর্ক শেষে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ১২ বছরের কারাদণ্ডের প্রত্যাশা করেছিলেন রাষ্ট্রপক্ষ।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পাবেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. মোরাদ হোসেন, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহীদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন ও মো. আনিছুল ইসলাম। তারা সকলে জিকে শামীমের দেহরক্ষী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সাত সশস্ত্র দেহরক্ষীসহ জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে আটক করে র‍্যাব। এসময় সেখান থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরের ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এরপর র‍্যাব বাদী হয়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখা এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আরো তিনটি মামলা দায়ের করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু সাঈদ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৪ আগস্ট আদালতে জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় জিকে শামীমসহ তার ৭ দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

Tag :

দান করার পরও আজীবন বাবা-মায়ের ভোগদখল করার অধিকার দিয়ে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস

মানিলন্ডারিং মামলায় জিকে শামীমের ১০ বছর কারাদণ্ড

Update Time : ০৮:২১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩

মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় যুবলীগের কথিত নেতা ও আলোচিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমের ১০ বছর ও তার ৭ দেহরক্ষীর ৪ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৭ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

মানি লন্ডারিং আইন ২০১২ এর ৪(২) ধারায় এ কারাদণ্ড দেয়া হয়। একইসঙ্গে আসামিদের ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮১৪ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এ অর্থ ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে না দিলে আরো ১ বছরের কারাভোগ করতে হবে।

এ রায়ের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান বলেন, এ রায়ে আমরা খুশি। বিচারক বলেছেন দলের ভিতর লেবাসধারী টেন্ডারবাজ, অর্থপাচারকারীদের সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবো। তারা দেশের শত্রু।

এর আগে দুপুর ১১ টা ৩০ মিনিটের দিকে জিকে শামীম সহ তার সাত দেহরক্ষীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় জিকে শামীম বাদে বাকি আসামিদের ডান্ডাবেরি পরিয়ে আদালতের কাটগড়ায় তোলা হয়।

রায়কে ঘিরে আদালতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায়। বেলা ১১ টা ৫৮ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন-আদালত। রায় ঘোষণা শেষে আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ১৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। যুক্তিতর্ক শেষে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ১২ বছরের কারাদণ্ডের প্রত্যাশা করেছিলেন রাষ্ট্রপক্ষ।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পাবেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. মোরাদ হোসেন, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহীদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন ও মো. আনিছুল ইসলাম। তারা সকলে জিকে শামীমের দেহরক্ষী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সাত সশস্ত্র দেহরক্ষীসহ জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে আটক করে র‍্যাব। এসময় সেখান থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরের ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এরপর র‍্যাব বাদী হয়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখা এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আরো তিনটি মামলা দায়ের করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু সাঈদ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৪ আগস্ট আদালতে জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় জিকে শামীমসহ তার ৭ দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।