ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর সড়কে অসন্তোষ, , নৌপরিবহনেও অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল ২০২১
  • ৩৭৪ Time View

রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় বাসে উঠতে না পেরে বিক্ষোভ করেছেন কর্মস্থলগামী যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় যাত্রীরা কয়েকটি বাস আটকে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনার কারণে গতকাল থেকেই বিপাকে পড়তে হয়েছে যাত্রী ও বাস মালিকদের। রাজধানীর মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক যাত্রীকে বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। অগ্রিম টিকিট নেওয়া যাত্রীদের সামাল দিতে বেগ পেতে হয়েছে বাস পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকদের।

ঢাকা মহানগরে চলাচলকারী পরিবহনগুলোর বেশ কয়েকটি পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার ঘটনা পাওয়া গেছে। বেশির ভাগ পরিবহনেই যাত্রীদের আচরণ ছিল অসহিষ্ণু, বাস কর্তৃপক্ষের দেওয়া স্যানিটাইজার ও মাস্ক ব্যবহারে আপত্তি জানিয়েছে যাত্রীরা।

মিরপুরের কালশী এলাকায় প্রজাপতি পরিবহনের একটি বাসে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক আসন খালি থাকলেও দুই কিশোর একটি আসনে পাশাপাশি বসে গল্প করছে। একজনের মাস্ক থুঁতনিতে নামানো, আরেকজনেরটা হাতে। তারা নির্দেশনা না মেনে কেন পাশাপাশি বসল জানতে চাইলে তাদের আগেই বাসের সহকারী জবাব দেন, ‘ভাই উনাদের অনেক অনুরোধ করেছি খালি আসনে গিয়ে বসতে। তারা ধমক দিয়ে বলে করোনা হলে আমাদের হবে, তোমার কি?’ তাদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা  প্রতিবেদককেও একই জবাব দেয়।

সকাল ১১টার দিকে কল্যাণপুর বাস স্টপেজে দেখা যায়, বেশ কিছু যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এক ঘণ্টা ধরে বাস পাচ্ছে না বলে জানায় তারা। আয়েশা হুমায়রা নামের একজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি স্বল্প বেতনে চাকরি করি। এত বেশি ভাড়া দিয়ে প্রতিদিন অফিসে কী করে যাব?’

মিরপুর থেকে মাওয়াগামী স্বাধীন পরিবহনের যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৬০ শতাংশ বেশি নয়, বাসের লোকেরা ভাড়া নিচ্ছে দ্বিগুণ। ৪০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৮০ টাকা।’

দুপুর আড়াইটার দিকে কাকরাইল মোড় থেকে বসুন্ধরা এলাকায় যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন বাসযাত্রী ওমর ফারুক। কিন্তু তিনি কোনো বাসেই উঠতে পারছিলেন না। একের পর এক বাস এলেও সেগুলোর গেট বন্ধ দেখতে পান। তাঁর মতো আরো অর্ধশতাধিক যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। বিকেল ৪টার দিকে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস যানজটে আটকে গেলে তিনি গিয়ে ওঠার সুযোগ পান। প্রতি আসনেই যাত্রী ছিল ওই বাসে। এর পরও তাঁকে পেছনের আসনে গিয়ে বসতে বলেন ওই বাসের কর্মী। তিনি পেছনের আসনে বসতে গেলে সেখানে বসে থাকা এক যাত্রী প্রতিবাদ করেন। পরে অন্য দুই যাত্রীর সহায়তায় তিনি বসার সুযোগ পান। ভাড়া নিতে এসে বাসকর্মী ৪০ টাকা চান। কিন্তু নিয়মিত ভাড়া ২০ টাকা। ৬০ শতাংশ বেশি হলে ভাড়া হয় ৩২ টাকা। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটিও হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি ৩৫ টাকা দেন।

গাবতলী থেকে ফরিদপুরগামী গোন্ডেন লাইন পরিবহনের বাসে অনেক যাত্রীরই অগ্রিম টিকিট নেওয়া ছিল। অর্ধেক যাত্রী বহনের নির্দেশনা মেনে তাদের পরবর্তী সময়ে ছেড়ে যাওয়া অন্য বাসে ভাগ ভাগ করে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

মহাখালী থেকে নেত্রকোনাগামী বিরিশিরি সার্ভিসের বাসযাত্রী আলম হোসেন বলেন, বাসের লোকেরা জানিয়েছেন যে দুই আসনে এক যাত্রী নেওয়া হবে, সে জন্য বাস পেতে দেরি হবে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও দেখা যায় অনেক যাত্রী বাসের জন্য অপক্ষো করছে। তবে যেসব যাত্রী দল বেঁধে অপেক্ষা করছে তাদের বেশির ভাগেরই মুখে মাস্ক নেই। মাস্কবিহীন অনেক যাত্রী দেখা গেছে বাসেও।

রেল :

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ১১ এপ্রিলের পরের সব আন্তনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে রেলওয়ে।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদাত আলী বলেন, আন্তনগর ট্রেন ছাড়া অন্য সব কয়টিতে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এখানে অগ্রিম টিকিটের বিষয়টি না থাকায় সমস্যা হচ্ছে না।

তবে গতকাল লোকাল মেইল ট্রেনের চিত্র ছিল ভয়ংকর। বিকেল সাড়ে ৩টায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এই ট্রেনের টিকিট বুকিং ক্লার্ক জিল্লু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এগুলোতে কোনো আসন নম্বর নাই। তাই অর্ধেক টিকিট বিক্রির কোনো সুযোগ নাই। আর এখান থেকেও যদি কম তোলা হয়, গেণ্ডারিয়া যাওয়ার পর সেটা এমনেই ভরে যাবে, ওখানে তো ঠেকানোর কোনো ব্যবস্থা নাই।’

নৌপরিবহন :

স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের শর্তে যাত্রীপ্রতি ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। গতকাল সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এক সভার পর বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক স্বাক্ষরিত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবের চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

রাজধানীর সড়কে অসন্তোষ, , নৌপরিবহনেও অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

Update Time : ০৮:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল ২০২১

রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় বাসে উঠতে না পেরে বিক্ষোভ করেছেন কর্মস্থলগামী যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় যাত্রীরা কয়েকটি বাস আটকে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনার কারণে গতকাল থেকেই বিপাকে পড়তে হয়েছে যাত্রী ও বাস মালিকদের। রাজধানীর মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক যাত্রীকে বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। অগ্রিম টিকিট নেওয়া যাত্রীদের সামাল দিতে বেগ পেতে হয়েছে বাস পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকদের।

ঢাকা মহানগরে চলাচলকারী পরিবহনগুলোর বেশ কয়েকটি পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার ঘটনা পাওয়া গেছে। বেশির ভাগ পরিবহনেই যাত্রীদের আচরণ ছিল অসহিষ্ণু, বাস কর্তৃপক্ষের দেওয়া স্যানিটাইজার ও মাস্ক ব্যবহারে আপত্তি জানিয়েছে যাত্রীরা।

মিরপুরের কালশী এলাকায় প্রজাপতি পরিবহনের একটি বাসে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক আসন খালি থাকলেও দুই কিশোর একটি আসনে পাশাপাশি বসে গল্প করছে। একজনের মাস্ক থুঁতনিতে নামানো, আরেকজনেরটা হাতে। তারা নির্দেশনা না মেনে কেন পাশাপাশি বসল জানতে চাইলে তাদের আগেই বাসের সহকারী জবাব দেন, ‘ভাই উনাদের অনেক অনুরোধ করেছি খালি আসনে গিয়ে বসতে। তারা ধমক দিয়ে বলে করোনা হলে আমাদের হবে, তোমার কি?’ তাদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা  প্রতিবেদককেও একই জবাব দেয়।

সকাল ১১টার দিকে কল্যাণপুর বাস স্টপেজে দেখা যায়, বেশ কিছু যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এক ঘণ্টা ধরে বাস পাচ্ছে না বলে জানায় তারা। আয়েশা হুমায়রা নামের একজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি স্বল্প বেতনে চাকরি করি। এত বেশি ভাড়া দিয়ে প্রতিদিন অফিসে কী করে যাব?’

মিরপুর থেকে মাওয়াগামী স্বাধীন পরিবহনের যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৬০ শতাংশ বেশি নয়, বাসের লোকেরা ভাড়া নিচ্ছে দ্বিগুণ। ৪০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৮০ টাকা।’

দুপুর আড়াইটার দিকে কাকরাইল মোড় থেকে বসুন্ধরা এলাকায় যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন বাসযাত্রী ওমর ফারুক। কিন্তু তিনি কোনো বাসেই উঠতে পারছিলেন না। একের পর এক বাস এলেও সেগুলোর গেট বন্ধ দেখতে পান। তাঁর মতো আরো অর্ধশতাধিক যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। বিকেল ৪টার দিকে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস যানজটে আটকে গেলে তিনি গিয়ে ওঠার সুযোগ পান। প্রতি আসনেই যাত্রী ছিল ওই বাসে। এর পরও তাঁকে পেছনের আসনে গিয়ে বসতে বলেন ওই বাসের কর্মী। তিনি পেছনের আসনে বসতে গেলে সেখানে বসে থাকা এক যাত্রী প্রতিবাদ করেন। পরে অন্য দুই যাত্রীর সহায়তায় তিনি বসার সুযোগ পান। ভাড়া নিতে এসে বাসকর্মী ৪০ টাকা চান। কিন্তু নিয়মিত ভাড়া ২০ টাকা। ৬০ শতাংশ বেশি হলে ভাড়া হয় ৩২ টাকা। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটিও হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি ৩৫ টাকা দেন।

গাবতলী থেকে ফরিদপুরগামী গোন্ডেন লাইন পরিবহনের বাসে অনেক যাত্রীরই অগ্রিম টিকিট নেওয়া ছিল। অর্ধেক যাত্রী বহনের নির্দেশনা মেনে তাদের পরবর্তী সময়ে ছেড়ে যাওয়া অন্য বাসে ভাগ ভাগ করে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

মহাখালী থেকে নেত্রকোনাগামী বিরিশিরি সার্ভিসের বাসযাত্রী আলম হোসেন বলেন, বাসের লোকেরা জানিয়েছেন যে দুই আসনে এক যাত্রী নেওয়া হবে, সে জন্য বাস পেতে দেরি হবে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও দেখা যায় অনেক যাত্রী বাসের জন্য অপক্ষো করছে। তবে যেসব যাত্রী দল বেঁধে অপেক্ষা করছে তাদের বেশির ভাগেরই মুখে মাস্ক নেই। মাস্কবিহীন অনেক যাত্রী দেখা গেছে বাসেও।

রেল :

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ১১ এপ্রিলের পরের সব আন্তনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে রেলওয়ে।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদাত আলী বলেন, আন্তনগর ট্রেন ছাড়া অন্য সব কয়টিতে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এখানে অগ্রিম টিকিটের বিষয়টি না থাকায় সমস্যা হচ্ছে না।

তবে গতকাল লোকাল মেইল ট্রেনের চিত্র ছিল ভয়ংকর। বিকেল সাড়ে ৩টায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এই ট্রেনের টিকিট বুকিং ক্লার্ক জিল্লু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এগুলোতে কোনো আসন নম্বর নাই। তাই অর্ধেক টিকিট বিক্রির কোনো সুযোগ নাই। আর এখান থেকেও যদি কম তোলা হয়, গেণ্ডারিয়া যাওয়ার পর সেটা এমনেই ভরে যাবে, ওখানে তো ঠেকানোর কোনো ব্যবস্থা নাই।’

নৌপরিবহন :

স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের শর্তে যাত্রীপ্রতি ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। গতকাল সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এক সভার পর বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক স্বাক্ষরিত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবের চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।