ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দামই আবার বেড়েছে, কমেছে ডিম ও মুরগির বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ১৮ জুন ২০২৬ আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৮ জুন ২০২৬ ফরিদপুরে পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন-সিবিএ -এর শিল্প বিরোধ উত্থাপন সভা জিয়া সৈনিক দলের কেন্দ্রীয় নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি’র ফরিদপুর জেলা ও বিভাগীয় সম্মেলন -কে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে সাবেক মন্ত্রী ও সংবিধান রচয়িতা গৌর চন্দ্র বালার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তির পরও হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের দারুণ শুরু

সাধারণ রোগে পরিণত হবে করোনা, ছোট শিশুরাও আক্রান্ত হবে

কয়েক বছরের মধ্যে সর্দি-কাশির মতোই ‘সাধারণ রোগে’ পরিণত হবে করোনা। যাদের মধ্যে অনাক্রম্যতা (ডিপ্লোম্যাটিক ইমুনিটি) তৈরি হয়নি অর্থাৎ ছোট শিশুরা, তারাই আক্রান্ত হবে এ রোগে— সম্প্রতি পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। গবেষকরা জানান, গবেষণার ফলাফলগুলো বলছে, সংক্রমণের ঝুঁকি সম্ভবত ছোট বাচ্চাদের রয়েছে। কারণ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ টিকা বা ভাইরাসের সংস্পর্শের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

প্রধান গবেষক বিজর্নস্ট্যাড বলেন, যে সমস্ত অতিরিক্ত করোনা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দেখা দিয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে অ্যান্ডেমিক হয়ে গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘উদাহরণস্বরূপ, চলমান জিনোমিক কাজ থেকে বোঝা যায় যে ১৮৮৯-৯০ মহামারি, যা এশিয়াটিক বা রাশিয়ান ফ্লু নামে পরিচিত- এক মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ৭০ বছরের বেশি বয়স্করা আক্রান্ত হয়েছিল হকব-ওসি৪৩ ভাইরাসের কারণে। যা এখন একটি স্থানীয়, মৃদু, পুনরাবৃত্তি-সংক্রামক ঠান্ডা ভাইরাস যা বেশির ভাগ ৭-১২ মাস বয়য়ের শিশুদের মধ্যে ছড়ায়।

এদিকে, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের মহামারি রোগ বিষয়ক প্রফেসর ড. আর্নল্ড মন্টো বলেছেন, কোনটা মহামারিতুল্য (এপিডেমিক) আর কোনটা মহামারি তা নির্ধারণের কোনো মাপকাঠি নেই। বিষয়টি নির্ধারণ করা হয় চোখের দেখার ওপর ভিত্তি করে। তিনি বলেন, মহামারি নির্ধারণের কোনো মৌলিক আইন বা নিয়ম নেই। কোনো একটি রোগের প্রাদুর্ভাব আপনি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন তার ওপর ভিত্তি করে একে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এক্ষেত্রে পার্থক্য হলো আগের তুলনায় আমাদের টিকাগুলো অধিক কার্যকর। ভাল খবর হলো টিকার শক্তি। খারাপ খবর হলো ভাইরাসটির রূপান্তর ও বিবর্তিত হওয়ার ক্ষমতা। কেউই পূর্বাভাস দিতে পারেন না যে, করোনা ভাইরাসের ভবিষ্যত কি রকম হতে পারে। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট, বিশেষ করে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট রূপ পরিবর্তন করেছে।

‘করোনাভাইরাসের সঙ্গে আবহাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই’
শীত মৌসুমের সঙ্গে করোনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না- জানতে চাইলে ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, করোনাভাইরাসের সঙ্গে আবহাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা দেখেছি গরমকালেও সংক্রমণ অনেক বেড়েছে, শীতেও বেড়েছে। সুতরাং বলা যায় যে শীতকালের সঙ্গে করোনা সংক্রমণ বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে করোনা সংক্রমণ বাড়ান অন্যতম একটি রিচ ফ্যাক্টর (বড় কারণ) হলো আবদ্ধ পরিবেশ। এটি সম্ভবত শীতকালেই বেশি তৈরি হয়। কারণ, শীতকালে মানুষ খুব বেশি একটা ঘরের বাইরে বের হন না। আবার বেশি গরম পড়লেও মানুষ ঘর থেকে বের হতে চায় না এবং সারাক্ষণ এসির মধ্যে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আর তখনও বদ্ধ ঘরের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ঘোরাফেরা করে এবং ইনফেকশনটা বেড়ে যায়। সবমিলিয়ে বলা যায় যে, আবন্ধ ঘরে ভাইরাসটি দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে এবং ঝুঁকিটা এখানেই বেশি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আসলে টিকা প্রয়োগের হার খুবই কম। আমরা যদি ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পারতাম, তখন হয়তো একটু দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারতাম যে, আমাদের সংক্রমণের এতটা ঝুঁকি নেই। কিন্তু আমরা তো এ মুহূর্তে ২০ শতাংশের কিছু ওপরে মানুষকে প্রথম ডোজের টিকার আওতায় আনতে পেরেছি। দুই ডোজ হিসেব করলে সেটি আরও কম হবে। সুতরাং এই অবস্থায় আমাদের একমাত্র অবলম্বন হলো স্বাস্থ্যবিধিসহ সামাজিক রীতিগুলো পালন করা। আর সেগুলো হলো, হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।

‘সর্দি-জ্বরে’ রূপ নিচ্ছে করোনাভাইরাস!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে এসেছে কিন্তু আর বিদায় নেয়নি, এমন অনেক মহামারিই আমরা দেখছি। করোনাভাইরাসও সেরকমটিই হতে যাচ্ছে। করোনা থেকে গেলেও সেটি মহামারি আকারে থাকবে না। পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না। এমনকি হাসপাতালও ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীতে উপচে পড়বে না। তাদের দাবি, সাধারণ সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই ছড়াবে এ ভাইরাস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে থাকলে সেটি অন্যান্য সাধারণ রোগের মতো গণ্য হবে। তবে ন্যূনতম ১৪ দিন এই হার বজায় থাকতে হবে। গত ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে তা পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে আসে। এরপর থেকে টানা ৪৫ দিন ধরে শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে রয়েছে৷ ৩ অক্টোবর থেকে শনাক্তের হার তিন শতাংশের নিচে নেমে আসে৷ এরপর থেকে আর দুই শতাংশের উপরে উঠেনি৷

’করোনা আসবে-যাবে, আবারও আসবে, তারপর যাবে’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, এখন প্রতিনিয়তই করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসছে। সারা পৃথিবীতে আগে যেমন প্যানডেমিক বা অতিমারি ছিল, এখন সেটা হয়ে যাচ্ছে অ্যানডেমিক। এরমানে রোগটি এই থাকবে, আবার থাকবে না। এই বাড়বে, আবার কমে যাবে ঠিক যেন ইনফ্লুয়েঞ্জার মত।

তিনি বলেন, উত্তর-পশ্চিমা দেশগুলোতে ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য প্রতি বছরই একটি করে ভ্যাকসিন নেওয়া হয়ে থাকে। কারণ দেখা যায় যে, সারা বছরই ইনফ্লুয়েঞ্জা পরিস্থিতি ঠিক আছে, কিন্তু শীতকালে আবার একটু বেড়ে গেছে, তাই শীত আসার সময় যেন এই সংক্রমণ না বাড়ে, সে লক্ষ্যে প্রত্যেকে একটি করে ভ্যাকসিন নিয়ে নেয় করোনাভাইরাসও এ অবস্থায় চলে এসেছে।

দেশে করোনার দক্ষিণ আফ্রিকান ধরন ওমিক্রনসহ সংক্রমণ রোধে ১৫ দফা পদক্ষেপ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথা বলেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এতে সব ধরনের (সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয়/অন্যান্য) জনসমাগম নিরুৎসাহিত করা, বাড়ির বাইরে গেলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সর্বদা সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা, রেস্তোরাঁতে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম করতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও সব জনসমাবেশ, পর্যটন স্থান, বিনোদন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল/থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে (বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি) ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কমসংখ্যক লোক অংশগ্রহণ, মসজিদসহ সব উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

Tag :

খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দামই আবার বেড়েছে, কমেছে ডিম ও মুরগির

সাধারণ রোগে পরিণত হবে করোনা, ছোট শিশুরাও আক্রান্ত হবে

Update Time : ০৪:২৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১

কয়েক বছরের মধ্যে সর্দি-কাশির মতোই ‘সাধারণ রোগে’ পরিণত হবে করোনা। যাদের মধ্যে অনাক্রম্যতা (ডিপ্লোম্যাটিক ইমুনিটি) তৈরি হয়নি অর্থাৎ ছোট শিশুরা, তারাই আক্রান্ত হবে এ রোগে— সম্প্রতি পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। গবেষকরা জানান, গবেষণার ফলাফলগুলো বলছে, সংক্রমণের ঝুঁকি সম্ভবত ছোট বাচ্চাদের রয়েছে। কারণ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ টিকা বা ভাইরাসের সংস্পর্শের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

প্রধান গবেষক বিজর্নস্ট্যাড বলেন, যে সমস্ত অতিরিক্ত করোনা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দেখা দিয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে অ্যান্ডেমিক হয়ে গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘উদাহরণস্বরূপ, চলমান জিনোমিক কাজ থেকে বোঝা যায় যে ১৮৮৯-৯০ মহামারি, যা এশিয়াটিক বা রাশিয়ান ফ্লু নামে পরিচিত- এক মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ৭০ বছরের বেশি বয়স্করা আক্রান্ত হয়েছিল হকব-ওসি৪৩ ভাইরাসের কারণে। যা এখন একটি স্থানীয়, মৃদু, পুনরাবৃত্তি-সংক্রামক ঠান্ডা ভাইরাস যা বেশির ভাগ ৭-১২ মাস বয়য়ের শিশুদের মধ্যে ছড়ায়।

এদিকে, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের মহামারি রোগ বিষয়ক প্রফেসর ড. আর্নল্ড মন্টো বলেছেন, কোনটা মহামারিতুল্য (এপিডেমিক) আর কোনটা মহামারি তা নির্ধারণের কোনো মাপকাঠি নেই। বিষয়টি নির্ধারণ করা হয় চোখের দেখার ওপর ভিত্তি করে। তিনি বলেন, মহামারি নির্ধারণের কোনো মৌলিক আইন বা নিয়ম নেই। কোনো একটি রোগের প্রাদুর্ভাব আপনি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন তার ওপর ভিত্তি করে একে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এক্ষেত্রে পার্থক্য হলো আগের তুলনায় আমাদের টিকাগুলো অধিক কার্যকর। ভাল খবর হলো টিকার শক্তি। খারাপ খবর হলো ভাইরাসটির রূপান্তর ও বিবর্তিত হওয়ার ক্ষমতা। কেউই পূর্বাভাস দিতে পারেন না যে, করোনা ভাইরাসের ভবিষ্যত কি রকম হতে পারে। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট, বিশেষ করে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট রূপ পরিবর্তন করেছে।

‘করোনাভাইরাসের সঙ্গে আবহাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই’
শীত মৌসুমের সঙ্গে করোনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না- জানতে চাইলে ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, করোনাভাইরাসের সঙ্গে আবহাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা দেখেছি গরমকালেও সংক্রমণ অনেক বেড়েছে, শীতেও বেড়েছে। সুতরাং বলা যায় যে শীতকালের সঙ্গে করোনা সংক্রমণ বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে করোনা সংক্রমণ বাড়ান অন্যতম একটি রিচ ফ্যাক্টর (বড় কারণ) হলো আবদ্ধ পরিবেশ। এটি সম্ভবত শীতকালেই বেশি তৈরি হয়। কারণ, শীতকালে মানুষ খুব বেশি একটা ঘরের বাইরে বের হন না। আবার বেশি গরম পড়লেও মানুষ ঘর থেকে বের হতে চায় না এবং সারাক্ষণ এসির মধ্যে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আর তখনও বদ্ধ ঘরের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ঘোরাফেরা করে এবং ইনফেকশনটা বেড়ে যায়। সবমিলিয়ে বলা যায় যে, আবন্ধ ঘরে ভাইরাসটি দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে এবং ঝুঁকিটা এখানেই বেশি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আসলে টিকা প্রয়োগের হার খুবই কম। আমরা যদি ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পারতাম, তখন হয়তো একটু দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারতাম যে, আমাদের সংক্রমণের এতটা ঝুঁকি নেই। কিন্তু আমরা তো এ মুহূর্তে ২০ শতাংশের কিছু ওপরে মানুষকে প্রথম ডোজের টিকার আওতায় আনতে পেরেছি। দুই ডোজ হিসেব করলে সেটি আরও কম হবে। সুতরাং এই অবস্থায় আমাদের একমাত্র অবলম্বন হলো স্বাস্থ্যবিধিসহ সামাজিক রীতিগুলো পালন করা। আর সেগুলো হলো, হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।

‘সর্দি-জ্বরে’ রূপ নিচ্ছে করোনাভাইরাস!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে এসেছে কিন্তু আর বিদায় নেয়নি, এমন অনেক মহামারিই আমরা দেখছি। করোনাভাইরাসও সেরকমটিই হতে যাচ্ছে। করোনা থেকে গেলেও সেটি মহামারি আকারে থাকবে না। পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না। এমনকি হাসপাতালও ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীতে উপচে পড়বে না। তাদের দাবি, সাধারণ সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই ছড়াবে এ ভাইরাস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে থাকলে সেটি অন্যান্য সাধারণ রোগের মতো গণ্য হবে। তবে ন্যূনতম ১৪ দিন এই হার বজায় থাকতে হবে। গত ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে তা পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে আসে। এরপর থেকে টানা ৪৫ দিন ধরে শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে রয়েছে৷ ৩ অক্টোবর থেকে শনাক্তের হার তিন শতাংশের নিচে নেমে আসে৷ এরপর থেকে আর দুই শতাংশের উপরে উঠেনি৷

’করোনা আসবে-যাবে, আবারও আসবে, তারপর যাবে’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, এখন প্রতিনিয়তই করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসছে। সারা পৃথিবীতে আগে যেমন প্যানডেমিক বা অতিমারি ছিল, এখন সেটা হয়ে যাচ্ছে অ্যানডেমিক। এরমানে রোগটি এই থাকবে, আবার থাকবে না। এই বাড়বে, আবার কমে যাবে ঠিক যেন ইনফ্লুয়েঞ্জার মত।

তিনি বলেন, উত্তর-পশ্চিমা দেশগুলোতে ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য প্রতি বছরই একটি করে ভ্যাকসিন নেওয়া হয়ে থাকে। কারণ দেখা যায় যে, সারা বছরই ইনফ্লুয়েঞ্জা পরিস্থিতি ঠিক আছে, কিন্তু শীতকালে আবার একটু বেড়ে গেছে, তাই শীত আসার সময় যেন এই সংক্রমণ না বাড়ে, সে লক্ষ্যে প্রত্যেকে একটি করে ভ্যাকসিন নিয়ে নেয় করোনাভাইরাসও এ অবস্থায় চলে এসেছে।

দেশে করোনার দক্ষিণ আফ্রিকান ধরন ওমিক্রনসহ সংক্রমণ রোধে ১৫ দফা পদক্ষেপ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথা বলেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এতে সব ধরনের (সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয়/অন্যান্য) জনসমাগম নিরুৎসাহিত করা, বাড়ির বাইরে গেলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সর্বদা সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা, রেস্তোরাঁতে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম করতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও সব জনসমাবেশ, পর্যটন স্থান, বিনোদন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল/থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে (বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি) ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কমসংখ্যক লোক অংশগ্রহণ, মসজিদসহ সব উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।