ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বৃহস্পতিবার চালু হচ্ছে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:২৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০২৩
  • ২১০ Time View

চাঁপাইনবাবগঞ্জ (রহনপুর)-ঢাকা রুটে আজ বৃহস্পতিবার চালু হচ্ছে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষিপণ্যবাহী (পার্সেল) ট্রেনটি উদ্বোধন করবেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এরইমধ্যে উদ্বোধনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশনে এসে পৌঁছেছে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন।

উদ্বোধনের পর ট্রেনটি চলে যাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর স্টেশনে। সেখানে বুকিং হওয়া আম নিয়ে বিকেল ৪টায় ট্রেনটি যাত্রা শুরু করবে। পথের ১৪টি স্টেশনে আম নিয়ে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন ঢাকার তেজগাঁওতে পৌঁছাবে রাত ১টা ১৫ মিনিটে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পরিবহনে খরচ হবে প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৩২ পয়সা। রাজশাহী থেকে এই ভাড়া হবে ১ টাকা ১৭ পয়সা।

সূত্র মতে, ২০২০ সালের ৫ মে আম পরিবহনের জন্য প্রথমবারের মতো ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন চালু হয়। ট্রেনটি ওই বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত আম পরিবহন করে। ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন থেকে ওই বছর রেলওয়ের আয় হয় ২ লাখ ১১ হাজার ৪৫৮ টাকা।

২০২১ সালের ২৭ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ম্যাংগো ট্রেনে আম পরিবহন করা হয়। দ্বিতীয় বারের মতো চলা এই ট্রেন থেকে রেলের আয় হয় ১৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯২০ টাকা।

তৃতীয় বারের মতো ২০২২ সালের ১৩ জুন ম্যাংগো ট্রেন চালু হয়। আমের ভরা মৌসুমে তখন ট্রেনটি মাত্র ১১ দিন চলে। তখন রেলওয়ের আয় হয় ৩ লাখ ১৯ হাজার ২৬৫ টাকা।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, গত তিন বছররে মতো এবারো কম ভাড়ায় রাজধানীতে আম পরিবহনের জন্য ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন চালু করা হবে। গত বছর ম্যাংগো ট্রেনে পণ্যবাহী ওয়াগন ছিল ৫টি, এবার ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ট্রেনটিতে ওয়াগন থাকবে ৭-৯টি। প্রয়োজনে আরও ওয়াগন বাড়ানো হবে।

আম পরিবহনের সুবিধা বিবেচনায় এবার দুটি ট্রেন থাকবে। ট্রেনে আম ছাড়াও বিভিন্ন ফলমূল ও কৃষিপণ্য পাঠাতে পারবেন কৃষক ও উদ্যোক্তারা।

এদিকে ব্যবসায়ী ও আম চাষিরা বলছেন, ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটির সুবিধা আছে।

কিন্তু বড় ব্যবসায়ীদের ট্রেনে আম পরিবহনে ট্রাকের তুলনায় বেশি খরচ হয়। ফলে গত বছর মাত্র ১১ দিন পরই বন্ধ হয়ে যায় ট্রেনটি। ট্রেনেরও লোকসান

রাজশাহী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একটিসহ) থেকে ঢাকা রুটে প্রতিদিন চারটি ট্রেন চলাচল করে।

রাজশাহী বানিয়াত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেনে কৃষিপণ্যবাহী একটি করে বগি থাকা উচিত। তাতে সব ধরনের কৃষিপণ্য পরিবহন করা যাবে। কিন্তু একটি করে ট্রেন (ম্যাংগো স্পেশাল) চালু রেখে কৃষিতে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং রেলের লোকসান হবে।

ট্রেনে প্রতি কেজি আম বা কাঁচামালের (পার্সেল) ভাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে জয়দেবপুরসহ ঢাকার সব স্টেশনে এক টাকা ৩০ পয়সা, যা রাজশাহী থেকে এক টাকা ১৭ পয়সা। এ ছাড়া রেলওয়ের নিজস্ব কুলির জন্য খরচ নির্ধারিত।

 

Tag :
জনপ্রিয়

আজ বৃহস্পতিবার চালু হচ্ছে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন

Update Time : ০৬:২৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০২৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ (রহনপুর)-ঢাকা রুটে আজ বৃহস্পতিবার চালু হচ্ছে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষিপণ্যবাহী (পার্সেল) ট্রেনটি উদ্বোধন করবেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এরইমধ্যে উদ্বোধনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশনে এসে পৌঁছেছে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন।

উদ্বোধনের পর ট্রেনটি চলে যাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর স্টেশনে। সেখানে বুকিং হওয়া আম নিয়ে বিকেল ৪টায় ট্রেনটি যাত্রা শুরু করবে। পথের ১৪টি স্টেশনে আম নিয়ে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন ঢাকার তেজগাঁওতে পৌঁছাবে রাত ১টা ১৫ মিনিটে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পরিবহনে খরচ হবে প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৩২ পয়সা। রাজশাহী থেকে এই ভাড়া হবে ১ টাকা ১৭ পয়সা।

সূত্র মতে, ২০২০ সালের ৫ মে আম পরিবহনের জন্য প্রথমবারের মতো ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন চালু হয়। ট্রেনটি ওই বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত আম পরিবহন করে। ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন থেকে ওই বছর রেলওয়ের আয় হয় ২ লাখ ১১ হাজার ৪৫৮ টাকা।

২০২১ সালের ২৭ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ম্যাংগো ট্রেনে আম পরিবহন করা হয়। দ্বিতীয় বারের মতো চলা এই ট্রেন থেকে রেলের আয় হয় ১৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯২০ টাকা।

তৃতীয় বারের মতো ২০২২ সালের ১৩ জুন ম্যাংগো ট্রেন চালু হয়। আমের ভরা মৌসুমে তখন ট্রেনটি মাত্র ১১ দিন চলে। তখন রেলওয়ের আয় হয় ৩ লাখ ১৯ হাজার ২৬৫ টাকা।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, গত তিন বছররে মতো এবারো কম ভাড়ায় রাজধানীতে আম পরিবহনের জন্য ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন চালু করা হবে। গত বছর ম্যাংগো ট্রেনে পণ্যবাহী ওয়াগন ছিল ৫টি, এবার ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ট্রেনটিতে ওয়াগন থাকবে ৭-৯টি। প্রয়োজনে আরও ওয়াগন বাড়ানো হবে।

আম পরিবহনের সুবিধা বিবেচনায় এবার দুটি ট্রেন থাকবে। ট্রেনে আম ছাড়াও বিভিন্ন ফলমূল ও কৃষিপণ্য পাঠাতে পারবেন কৃষক ও উদ্যোক্তারা।

এদিকে ব্যবসায়ী ও আম চাষিরা বলছেন, ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটির সুবিধা আছে।

কিন্তু বড় ব্যবসায়ীদের ট্রেনে আম পরিবহনে ট্রাকের তুলনায় বেশি খরচ হয়। ফলে গত বছর মাত্র ১১ দিন পরই বন্ধ হয়ে যায় ট্রেনটি। ট্রেনেরও লোকসান

রাজশাহী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একটিসহ) থেকে ঢাকা রুটে প্রতিদিন চারটি ট্রেন চলাচল করে।

রাজশাহী বানিয়াত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেনে কৃষিপণ্যবাহী একটি করে বগি থাকা উচিত। তাতে সব ধরনের কৃষিপণ্য পরিবহন করা যাবে। কিন্তু একটি করে ট্রেন (ম্যাংগো স্পেশাল) চালু রেখে কৃষিতে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং রেলের লোকসান হবে।

ট্রেনে প্রতি কেজি আম বা কাঁচামালের (পার্সেল) ভাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে জয়দেবপুরসহ ঢাকার সব স্টেশনে এক টাকা ৩০ পয়সা, যা রাজশাহী থেকে এক টাকা ১৭ পয়সা। এ ছাড়া রেলওয়ের নিজস্ব কুলির জন্য খরচ নির্ধারিত।