ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রার্থনার নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করেছে ইসরায়েলের একটি আদালত

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রার্থনার নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া নিম্ন আদালতের বিতর্কিত রায় বাতিল করেছে ইসরায়েলের একটি আদালত। খবর আল জাজিরা।

গত মঙ্গলবার আদালত ইহুদিদের প্রার্থনায় অনুমতি দিলে ফিলিস্তিন ও মুসলিম বিশ্ব প্রতিবাদ জানায়।

মাস খানেক আগে আরেহ লিপ্পো নামের এক ইসরায়েলি রাব্বি ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্র স্থানে প্রার্থনা করতে গেলে পুলিশ বাধা দিলে তিনি আদালতে যান। এর প্রেক্ষিতে নিম্ন আদালত প্রার্থনার অনুমতি দেয়।

ইহুদিরা আল-আকসা পরিদর্শন করতে পারলেও প্রার্থনা বা কোনো ধরনের ধর্মীয় আচার পালন অনুমোদিত নয়।

গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি আদালতের রায়ের প্রতিবাদ জানায় ফিলিস্তিনিরা। কারণ চুক্তি অনুসারে ইহুদিরা শুধু কাছের পশ্চিম দেওয়ালে প্রার্থনা করতে পারবো।

ইসরায়েলি পুলিশ মঙ্গলবার নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। এরপর শুক্রবার জেরুজালেম জেলা আদালতের বিচারক আরেহ রোমানফ আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা যথার্থ কাজ করেছেন।

ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি জর্ডান, মিশর ও সৌদি আরবের কর্মকর্তারা নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছিল।

অবশ্য ইসরায়েলের কোন আইনই আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রার্থনায় নিষেধ করে না। কিন্তু ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ উত্তেজনা রোধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

শুক্রবার পুলিশের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের জননিরাপত্তা মন্ত্রী ওমর বার-লেভ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্থিতাবস্থায় পরিবর্তন জনসাধারণের শান্তি বিপন্ন করবে।

১৯৪৮ সাল থেকে জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদ আল-আকসার দেখভাল করছে জর্ডান। ১৯৯৪ সালে আম্মান ও তেল আবিবের মধ্য এ বিষয়ে শান্তি চুক্তি হয়।

এর আগে ইসরায়েলি নিম্ন আদালতের রায়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল জর্ডান সরকার পরিচালিত জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াক্ফ। তারা বলেছিল, আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদার গুরুতর লঙ্ঘন এটি।

তখন আরও বলা হয়, ইসরায়েলের বিচার বিভাগের এ রায়ে মুসলমানদের পবিত্রতম স্থানটিতে ইহুদি অধিগ্রহণের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

ইহুদিদের আল-আকসায় প্রবেশের কারণে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। ফিলিস্তিনিরা ইহুদিদের প্রবেশকে উসকানি হিসেবে দেখে। যাকে চুক্তি লঙ্ঘনের পরিকল্পিত চেষ্টা বলা হয়।

জেরুজালেমের প্রাচীর ঘেরা পুরোনো শহর ও এ অঞ্চলের অনেকটা অংশ ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে দখল করে নেয় ইসরায়েল। এরপর ১৯৮০ সালে পূর্ব জেরুজালেমে দখল সম্প্রসারিত করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনো এর স্বীকৃতি দেয়নি।

Tag :

আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রার্থনার নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করেছে ইসরায়েলের একটি আদালত

Update Time : ০৪:৩৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অক্টোবর ২০২১

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রার্থনার নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া নিম্ন আদালতের বিতর্কিত রায় বাতিল করেছে ইসরায়েলের একটি আদালত। খবর আল জাজিরা।

গত মঙ্গলবার আদালত ইহুদিদের প্রার্থনায় অনুমতি দিলে ফিলিস্তিন ও মুসলিম বিশ্ব প্রতিবাদ জানায়।

মাস খানেক আগে আরেহ লিপ্পো নামের এক ইসরায়েলি রাব্বি ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্র স্থানে প্রার্থনা করতে গেলে পুলিশ বাধা দিলে তিনি আদালতে যান। এর প্রেক্ষিতে নিম্ন আদালত প্রার্থনার অনুমতি দেয়।

ইহুদিরা আল-আকসা পরিদর্শন করতে পারলেও প্রার্থনা বা কোনো ধরনের ধর্মীয় আচার পালন অনুমোদিত নয়।

গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি আদালতের রায়ের প্রতিবাদ জানায় ফিলিস্তিনিরা। কারণ চুক্তি অনুসারে ইহুদিরা শুধু কাছের পশ্চিম দেওয়ালে প্রার্থনা করতে পারবো।

ইসরায়েলি পুলিশ মঙ্গলবার নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। এরপর শুক্রবার জেরুজালেম জেলা আদালতের বিচারক আরেহ রোমানফ আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা যথার্থ কাজ করেছেন।

ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি জর্ডান, মিশর ও সৌদি আরবের কর্মকর্তারা নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছিল।

অবশ্য ইসরায়েলের কোন আইনই আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রার্থনায় নিষেধ করে না। কিন্তু ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ উত্তেজনা রোধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

শুক্রবার পুলিশের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের জননিরাপত্তা মন্ত্রী ওমর বার-লেভ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্থিতাবস্থায় পরিবর্তন জনসাধারণের শান্তি বিপন্ন করবে।

১৯৪৮ সাল থেকে জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদ আল-আকসার দেখভাল করছে জর্ডান। ১৯৯৪ সালে আম্মান ও তেল আবিবের মধ্য এ বিষয়ে শান্তি চুক্তি হয়।

এর আগে ইসরায়েলি নিম্ন আদালতের রায়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল জর্ডান সরকার পরিচালিত জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াক্ফ। তারা বলেছিল, আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদার গুরুতর লঙ্ঘন এটি।

তখন আরও বলা হয়, ইসরায়েলের বিচার বিভাগের এ রায়ে মুসলমানদের পবিত্রতম স্থানটিতে ইহুদি অধিগ্রহণের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

ইহুদিদের আল-আকসায় প্রবেশের কারণে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। ফিলিস্তিনিরা ইহুদিদের প্রবেশকে উসকানি হিসেবে দেখে। যাকে চুক্তি লঙ্ঘনের পরিকল্পিত চেষ্টা বলা হয়।

জেরুজালেমের প্রাচীর ঘেরা পুরোনো শহর ও এ অঞ্চলের অনেকটা অংশ ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে দখল করে নেয় ইসরায়েল। এরপর ১৯৮০ সালে পূর্ব জেরুজালেমে দখল সম্প্রসারিত করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনো এর স্বীকৃতি দেয়নি।