ঢাকা ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দনবাসের অন্তত ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রুশদের হাত থেকে পুনরুদ্ধার

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দনবাসের সেভেরোদোনেৎস্ক শিল্পাঞ্চলের অন্তত ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রুশদের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন। এমনটাই দাবি করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। অন্যদিকে রাশিয়া বলছে, পশ্চিমা দেশগুলোর পাঠানো অস্ত্র রুশ বাহিনীর বিশেষ অভিযান থামাতে পারবে না। তাদের দাবি, তারা ইউক্রেনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ভূমি দখল করেছে।

দনবাসের অঞ্চলে এখন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সেভেরোদোনেৎস্কের। মারিউপোলের মতো এটিও কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর। রাশিয়ার থেকে এটিকে বাঁচাতে প্রাণপণে লড়ছে ইউক্রেন। একই রণকৌশলে মারিউপোলের মতো এটিকেও গুঁড়িয়ে, মাটিতে মিশিয়ে দেয়ার চেষ্টায় ওঠে পড়ে লেগেছে রুশ সেনারা। জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরেই এ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল মস্কো। সাম্প্রতি লুহানস্কের গভর্নর সেরি হাইডাই জানান, শহরের ৭০ শতাংশ রাশিয়ার হাতে চলে গেছে। কিন্তু আজ তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রুশ বাহিনীর হাত থেকে পুনরুদ্ধার করেছেন তারা।

হাইডাই বলেন, আমাদের হাতে যতক্ষণ পশ্চিমের পাঠানো দূরপাল্লার যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে, ততক্ষণ আমরা ওদের সামনে যেতে দেব না। আমার বিশ্বাস, ওরা এক সময় পালাতে বাধ্য হবে।

পূর্ব দনবাসের অন্য জায়গায় আকাশপথে রুশ হামলা বাড়ছে। একের পর এক সেতু ওড়িয়ে দিচ্ছে রুশ বাহিনী। কৃষ্ণসাগরে আজ ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর একটি পণ্যবাহী বিমান গুলি করে পেলে দিয়েছে রাশিয়া। দনবাসের একটি গির্জায় গোলা বর্ষণ করে তারা। কাঠের তৈরি গির্জায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ইউক্রেনের অর্থোডক্স গির্জা কর্তৃপক্ষ জানায়, ধর্মস্থানের মূল গম্বুজটি পুরোপুরি ছাই হয়ে গেছে।

এক ইউক্রেনীয় সেনা অফিসার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আগুনের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, আবার এক জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করছে রুশ বাহিনী। তাদের কাছে পবিত্র বলেও কিছু নেই।

প্রাচীন ওই গির্জা গত শতকে কমিউনিস্ট শাসন আমলে বন্ধ হয়েছিল। ১৯৯২ সালে সোভিয়েত পতনের পরে আবারো খুলে দেয়া হয়। এ দিনের ঘটনাতে রাশিয়া যথারীতি কিভের কাঁধেই দায় চাপিয়েছে।

সূত্র : আনন্দবাজার

Tag :
জনপ্রিয়

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দনবাসের অন্তত ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রুশদের হাত থেকে পুনরুদ্ধার

Update Time : ০৫:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুন ২০২২

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দনবাসের সেভেরোদোনেৎস্ক শিল্পাঞ্চলের অন্তত ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রুশদের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন। এমনটাই দাবি করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। অন্যদিকে রাশিয়া বলছে, পশ্চিমা দেশগুলোর পাঠানো অস্ত্র রুশ বাহিনীর বিশেষ অভিযান থামাতে পারবে না। তাদের দাবি, তারা ইউক্রেনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ভূমি দখল করেছে।

দনবাসের অঞ্চলে এখন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সেভেরোদোনেৎস্কের। মারিউপোলের মতো এটিও কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর। রাশিয়ার থেকে এটিকে বাঁচাতে প্রাণপণে লড়ছে ইউক্রেন। একই রণকৌশলে মারিউপোলের মতো এটিকেও গুঁড়িয়ে, মাটিতে মিশিয়ে দেয়ার চেষ্টায় ওঠে পড়ে লেগেছে রুশ সেনারা। জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরেই এ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল মস্কো। সাম্প্রতি লুহানস্কের গভর্নর সেরি হাইডাই জানান, শহরের ৭০ শতাংশ রাশিয়ার হাতে চলে গেছে। কিন্তু আজ তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রুশ বাহিনীর হাত থেকে পুনরুদ্ধার করেছেন তারা।

হাইডাই বলেন, আমাদের হাতে যতক্ষণ পশ্চিমের পাঠানো দূরপাল্লার যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে, ততক্ষণ আমরা ওদের সামনে যেতে দেব না। আমার বিশ্বাস, ওরা এক সময় পালাতে বাধ্য হবে।

পূর্ব দনবাসের অন্য জায়গায় আকাশপথে রুশ হামলা বাড়ছে। একের পর এক সেতু ওড়িয়ে দিচ্ছে রুশ বাহিনী। কৃষ্ণসাগরে আজ ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর একটি পণ্যবাহী বিমান গুলি করে পেলে দিয়েছে রাশিয়া। দনবাসের একটি গির্জায় গোলা বর্ষণ করে তারা। কাঠের তৈরি গির্জায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ইউক্রেনের অর্থোডক্স গির্জা কর্তৃপক্ষ জানায়, ধর্মস্থানের মূল গম্বুজটি পুরোপুরি ছাই হয়ে গেছে।

এক ইউক্রেনীয় সেনা অফিসার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আগুনের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, আবার এক জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করছে রুশ বাহিনী। তাদের কাছে পবিত্র বলেও কিছু নেই।

প্রাচীন ওই গির্জা গত শতকে কমিউনিস্ট শাসন আমলে বন্ধ হয়েছিল। ১৯৯২ সালে সোভিয়েত পতনের পরে আবারো খুলে দেয়া হয়। এ দিনের ঘটনাতে রাশিয়া যথারীতি কিভের কাঁধেই দায় চাপিয়েছে।

সূত্র : আনন্দবাজার