ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর কোনো আগ্রহ ইসরায়েলের নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। তার মতে, নতুন দফায় শুরু হওয়া এ যুদ্ধে অংশ না নিয়েই ইসরায়েলে বেশি লাভবান হচ্ছে। ইরানের ওপর চলতে থাকা ক্রমবর্ধমান মার্কিন চাপের সুফলই ভোগ করছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ইসরায়েলী গণমাধ্যম কান নিউজে স্মোট্রিচের এ মন্তব্য প্রচারিশিত হয়। স্মোট্রিচ বলেন, ইসরায়েলের কোনো আগ্রহ নেই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুরু করা ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নেয়ার। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত এবং তেহরানের ওপর অব্যাহত অর্থনৈতিক চাপ ইসরায়েলের জন্যই লাভজনক।
কাতিফ কনফারেন্স ফর ন্যাশনাল রেসপনসিবিলিটিতে স্মোট্রিচ এ মন্তব্য করেন। এটি একটি বার্ষিক সম্মেলন, যেখানে গাজায় ইসরায়েলের অবৈধ বসতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়।
স্মোট্রিচ স্পষ্ট করে বলেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল এখনো তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য—যা যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নাও হতে পারে—হলো ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল ও ক্ষয়িষ্ণু করে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে সেটি উৎখাত করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ওই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ইরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়া।
তিনি বলেন, বর্তমানে ইরানে মূল্যস্ফীতির হার ৮৫ শতাংশ। মাত্র চার মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৩৪ শতাংশের বেশি হয়েছে। আর ইরানী রিয়ালের বিনিময় হার এখন প্রতি ডলারে ১৯ লাখ রিয়াল, এবং তা আরও বাড়ছে।
এরপর স্মোট্রিচ আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের এই নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধে যোগ দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের জন্য ভালো, তাই এতে নিজেদের জড়ানোর কোনো অর্থ নেই।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিতভাবে ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। ইসরায়েলই ওয়াশিংটনকে এই সংঘাতে যুক্ত করতে তদবির করেছিল। এর জবাবে তেহরান পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং এর জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যুদ্ধ নতুন করে শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল এই লড়াইয়ে যোগ দেয়নি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

















