ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার রোডম্যাপ জানাবেন শেখ হাসিনা বাল্টিক অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ন্যাটোকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি : ১ অক্টোবর ২০২৬ ফরিদপুরে দুর্গাপূজায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা নিশ্চিত করার নির্দেশ পুলিশ সুপারের মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা জাহরা প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন বিকেলে আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি :৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার কলকাতায় হদিশ মিললো এইচএমপিভি ভাইরাসের

চীন-মালয়েশিয়ার পর ভারতের বেঙ্গালুরুতে আগেই ধরা পড়েছিল হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস (এইচএমপিভি)। এবার বাংলাদেশের আরও কাছে, কলকাতায় হদিশ মিললো এই ভাইরাসের। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীতে ছয় মাসের এক শিশুর শরীরে শনাক্ত হয়েছে এইচএমপিভি। চিকিৎসার পর শিশুটি আপাতত সুস্থ রয়েছে।

জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুটির বাড়ি কলকাতার যাদবপুরে। কর্মসূত্রে তার বাবা-মা দুজনেই মুম্বাইয়ে থাকেন।

গত বছরের নভেম্বর মাস নাগাদ শিশুটি মুম্বাই থেকে কলকাতায় এসেছিল। কলকাতা নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে কলকাতার বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

শিশুটির পরিস্থিতি দেখে চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। হাসপাতালে ভর্তি করার পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তাকে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিশুটিকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।

কী হয়েছে জানার জন্য শিশুটির লালারস সংগ্রহ করে পিসিআর চ্যানেলে পরীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা যায়, শিশুটির হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস পজিটিভ। পরবর্তীতে, ভেন্টিলেশন থেকে বের করেও প্রায় দিন দশেক তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

হাসপাতালে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে শিশুটির চিকিৎসা করা হয়। বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে। তাকে মুম্বাইয়ে নিয়ে গেছে বাবা-মা।

শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া সহেলী দাশগুপ্ত জানান, শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে হাই ফিভার ছিল, সঙ্গে হচ্ছিল কাশি। তারপর শুরু হয় তীব্র শ্বাসকষ্ট। ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছিল। তার লালারস সংগ্রহ করে আমরা টেস্টের জন্য পাঠাই। সেই টেস্টে ধরা পড়ে এইচএমপিভি। এখন সে সুস্থ।

এসএন পোদ্দার নামে আরেক চিকিৎসক জানান, যেহেতু এই মুহূর্তে এই ভাইরাসের কোনো টিকা নেই, তাই প্রতিরোধই একমাত্র পন্থা। হাই ফিভার (উচ্চমাত্রায় জ্বর), শ্বাসকষ্ট, কাশি, গায়ে ছোট ছোট দানা দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রাথমিকভাবে কী করা যাবে সে বিষয়ে এই চিকিৎসক জানিয়েছেন, সাবান এবং পানি দিয়ে নিয়মিত হাত ধুতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, বাড়ির বাইরে থেকে এসে সবসময় হাত স্যানিটাইজ করা আবশ্যক। সাবান হাতের কাছে না থাকলে অ্যালকোহল-বেসড হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যায়। মূলত শিশু এবং প্রবীণ ব্যক্তিরাই এই ভাইরাসের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে ভয়ের কিছু নেই। এমন কোন উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Tag :

ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

এবার কলকাতায় হদিশ মিললো এইচএমপিভি ভাইরাসের

Update Time : ০৫:২২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫

চীন-মালয়েশিয়ার পর ভারতের বেঙ্গালুরুতে আগেই ধরা পড়েছিল হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস (এইচএমপিভি)। এবার বাংলাদেশের আরও কাছে, কলকাতায় হদিশ মিললো এই ভাইরাসের। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীতে ছয় মাসের এক শিশুর শরীরে শনাক্ত হয়েছে এইচএমপিভি। চিকিৎসার পর শিশুটি আপাতত সুস্থ রয়েছে।

জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুটির বাড়ি কলকাতার যাদবপুরে। কর্মসূত্রে তার বাবা-মা দুজনেই মুম্বাইয়ে থাকেন।

গত বছরের নভেম্বর মাস নাগাদ শিশুটি মুম্বাই থেকে কলকাতায় এসেছিল। কলকাতা নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে কলকাতার বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

শিশুটির পরিস্থিতি দেখে চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। হাসপাতালে ভর্তি করার পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তাকে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিশুটিকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।

কী হয়েছে জানার জন্য শিশুটির লালারস সংগ্রহ করে পিসিআর চ্যানেলে পরীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা যায়, শিশুটির হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস পজিটিভ। পরবর্তীতে, ভেন্টিলেশন থেকে বের করেও প্রায় দিন দশেক তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

হাসপাতালে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে শিশুটির চিকিৎসা করা হয়। বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে। তাকে মুম্বাইয়ে নিয়ে গেছে বাবা-মা।

শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া সহেলী দাশগুপ্ত জানান, শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে হাই ফিভার ছিল, সঙ্গে হচ্ছিল কাশি। তারপর শুরু হয় তীব্র শ্বাসকষ্ট। ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছিল। তার লালারস সংগ্রহ করে আমরা টেস্টের জন্য পাঠাই। সেই টেস্টে ধরা পড়ে এইচএমপিভি। এখন সে সুস্থ।

এসএন পোদ্দার নামে আরেক চিকিৎসক জানান, যেহেতু এই মুহূর্তে এই ভাইরাসের কোনো টিকা নেই, তাই প্রতিরোধই একমাত্র পন্থা। হাই ফিভার (উচ্চমাত্রায় জ্বর), শ্বাসকষ্ট, কাশি, গায়ে ছোট ছোট দানা দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রাথমিকভাবে কী করা যাবে সে বিষয়ে এই চিকিৎসক জানিয়েছেন, সাবান এবং পানি দিয়ে নিয়মিত হাত ধুতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, বাড়ির বাইরে থেকে এসে সবসময় হাত স্যানিটাইজ করা আবশ্যক। সাবান হাতের কাছে না থাকলে অ্যালকোহল-বেসড হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যায়। মূলত শিশু এবং প্রবীণ ব্যক্তিরাই এই ভাইরাসের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে ভয়ের কিছু নেই। এমন কোন উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।