ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ফরিদপুরে মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষে যৌন উত্তেজক ঔষধ ও সরঞ্জাম, অপসারনের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।। মানববন্ধন ওবিক্ষোভ ইরান যতদিন ইচ্ছা ততদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে: আইআরজিসি উপদেষ্টা ওয়াশিংটন ইরান নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেবে এবং এর ফলাফল আসবে ‘সহজ অথবা কঠিন’: ট্রাম্প মদিনার বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার নিন্দা বাংলাদেশের সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় আগুন, আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি : ৪ অক্টোবর ২০২৬ ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৬০৮ শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়, প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী ফরিদপুরের সবজাননেছা কামিল মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৩৫:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ এপ্রিল ২০২২
  • ৩১২ Time View
করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্থান অটুট রাখার ক্ষেত্রে এ অর্থায়ন সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এতে করোনার ধকল সামলে দেশের প্রবৃদ্ধির ধারাও থাকবে অব্যাহত। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশকে ফাস্ট রিকভারি অ্যান্ড রেজিলেন্স ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিটের আওতায় বিশাল অংকের এ অর্থ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
আন্তর্জাতিক এ আর্থিক সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটনে বোর্ড সভায় এ ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (০১ এপ্রিল) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তী প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকবে। ভবিষ্যৎ ধাক্কাগুলোর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আর্থিক খাতের নীতিসমূহ শক্তিশালী করতে সহায়তার অংশ হিসেবে ২৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়েছে৷
এ অর্থ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে এবং প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সক্ষমতা বাড়াবে। এটি দক্ষতা উন্নত করতে এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনসহ ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে টেকসই উন্নয়ন করবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেছেন, ২০২০ সাল থেকে জরুরি সহায়তা, টিকাদান এবং অন্যান্য করোনা সংকট পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য বাংলাদেশকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন করা হয়েছে। এ ঋণে সবুজায়ন, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার করা হবে। কম কার্বন বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করার জন্য তার নীতি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
এ প্রোগ্রামটি জাতীয় ট্যারিফ নীতির উন্নয়নে সহায়তা করে, যা বাণিজ্য কর আধুনিকীকরণে সহায়তা করবে। অনাবাসিক ডিজিটাল পরিষেবা সংস্থাসমূহসহ বিদেশী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। যেমন- অনুসন্ধান, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ক্লাউড পরিষেবা সংস্থাগুলো আধুনিক হবে। ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে এবং অর্থ দেওয়ার কাজকে সহজ করা হবে। জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) সিস্টেমের সম্প্রসারিত কভারেজ সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়াবে। এ অর্থায়ন ব্যাংক কাঠামো সংস্কারে ব্যবহার হবে। পেমেন্ট এবং সেটেলমেন্ট সিস্টেমের উন্নয়ন এবং দক্ষতা জোরদার করতে নতুন আইন প্রস্তুত করা হবে, যা ডিজিটাল এবং মোবাইল আর্থিক পরিষেবাগুলোকেও উৎসাহিত করবে। প্রোগ্রামটি বিভিন্ন পাবলিক সেভিংস সুদের হারের সমন্বয় সাপোর্ট করবে।
এ কর্মসূচি সরকারের নগদ স্থানান্তর কর্মসূচিকে তরান্বিত করতে সাহায্য করবে। যা ভবিষ্যতের ধাক্কা মোকাবিলায় এবং নগদ-ভিত্তিক প্রোগ্রামের জন্য সরকার-টু-ব্যক্তি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়াবে। জরুরি সহায়তার জন্য নতুন এবং বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়সহ জলবায়ু-সম্পর্কিত সংকটকালে আরও দ্রুত সহায়তা দেওয়ার কাজ সহজ করবে।
এছাড়াও এ কর্মসূচি বাংলাদেশকে স্বল্প-কার্বন অর্থনীতিতে উত্তরণে সহায়তা করবে। সংশোধিত জাতীয় বিল্ডিং কোড ভবনগুলোতে শক্তি দক্ষতা উন্নত করবে, যেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে পরিকল্পিত বিনিয়োগের ৮ হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট বাতিল করার কাজকে সহায়তা করবে।
এ অর্থায়ন বাংলাদেশকে সবুজ এবং টেকসই করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করবে দাবি করে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট বার্নার্ড হ্যাভেন বলেন, আর্থিক ও আর্থিক খাতের নীতিসমূহ প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। যখন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কভারেজ এবং দক্ষতা বাড়ে তখন অর্থনৈতিক ধাক্কা এমনিতেই মোকাবিলা করা যায়। এ ঋণ অনুমোদন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় সহায়তা করবে।
Tag :
জনপ্রিয়

ফরিদপুরে মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষে যৌন উত্তেজক ঔষধ ও সরঞ্জাম, অপসারনের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।। মানববন্ধন ওবিক্ষোভ

করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

Update Time : ১০:৩৫:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ এপ্রিল ২০২২
করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্থান অটুট রাখার ক্ষেত্রে এ অর্থায়ন সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এতে করোনার ধকল সামলে দেশের প্রবৃদ্ধির ধারাও থাকবে অব্যাহত। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশকে ফাস্ট রিকভারি অ্যান্ড রেজিলেন্স ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিটের আওতায় বিশাল অংকের এ অর্থ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
আন্তর্জাতিক এ আর্থিক সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটনে বোর্ড সভায় এ ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (০১ এপ্রিল) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তী প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকবে। ভবিষ্যৎ ধাক্কাগুলোর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আর্থিক খাতের নীতিসমূহ শক্তিশালী করতে সহায়তার অংশ হিসেবে ২৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়েছে৷
এ অর্থ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে এবং প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সক্ষমতা বাড়াবে। এটি দক্ষতা উন্নত করতে এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনসহ ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে টেকসই উন্নয়ন করবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেছেন, ২০২০ সাল থেকে জরুরি সহায়তা, টিকাদান এবং অন্যান্য করোনা সংকট পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য বাংলাদেশকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন করা হয়েছে। এ ঋণে সবুজায়ন, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার করা হবে। কম কার্বন বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করার জন্য তার নীতি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
এ প্রোগ্রামটি জাতীয় ট্যারিফ নীতির উন্নয়নে সহায়তা করে, যা বাণিজ্য কর আধুনিকীকরণে সহায়তা করবে। অনাবাসিক ডিজিটাল পরিষেবা সংস্থাসমূহসহ বিদেশী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। যেমন- অনুসন্ধান, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ক্লাউড পরিষেবা সংস্থাগুলো আধুনিক হবে। ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে এবং অর্থ দেওয়ার কাজকে সহজ করা হবে। জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) সিস্টেমের সম্প্রসারিত কভারেজ সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়াবে। এ অর্থায়ন ব্যাংক কাঠামো সংস্কারে ব্যবহার হবে। পেমেন্ট এবং সেটেলমেন্ট সিস্টেমের উন্নয়ন এবং দক্ষতা জোরদার করতে নতুন আইন প্রস্তুত করা হবে, যা ডিজিটাল এবং মোবাইল আর্থিক পরিষেবাগুলোকেও উৎসাহিত করবে। প্রোগ্রামটি বিভিন্ন পাবলিক সেভিংস সুদের হারের সমন্বয় সাপোর্ট করবে।
এ কর্মসূচি সরকারের নগদ স্থানান্তর কর্মসূচিকে তরান্বিত করতে সাহায্য করবে। যা ভবিষ্যতের ধাক্কা মোকাবিলায় এবং নগদ-ভিত্তিক প্রোগ্রামের জন্য সরকার-টু-ব্যক্তি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়াবে। জরুরি সহায়তার জন্য নতুন এবং বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়সহ জলবায়ু-সম্পর্কিত সংকটকালে আরও দ্রুত সহায়তা দেওয়ার কাজ সহজ করবে।
এছাড়াও এ কর্মসূচি বাংলাদেশকে স্বল্প-কার্বন অর্থনীতিতে উত্তরণে সহায়তা করবে। সংশোধিত জাতীয় বিল্ডিং কোড ভবনগুলোতে শক্তি দক্ষতা উন্নত করবে, যেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে পরিকল্পিত বিনিয়োগের ৮ হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট বাতিল করার কাজকে সহায়তা করবে।
এ অর্থায়ন বাংলাদেশকে সবুজ এবং টেকসই করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করবে দাবি করে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট বার্নার্ড হ্যাভেন বলেন, আর্থিক ও আর্থিক খাতের নীতিসমূহ প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। যখন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কভারেজ এবং দক্ষতা বাড়ে তখন অর্থনৈতিক ধাক্কা এমনিতেই মোকাবিলা করা যায়। এ ঋণ অনুমোদন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় সহায়তা করবে।