ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে: হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মমতা ভাঙ্গায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, নিহত ৫ ফরিদপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কমেছে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে, ১ জুন থেকেই কার্যকর ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজায় মানুষের ঢল এসএসসি পরীক্ষার সূচি আবারও পরিবর্তন হতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আদালতে ন্যায় বিচার চাইলেন রামিসার বাবা ফরিদপুরে ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কা: নিহত বেড়ে ৫

কলকাতায় জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে ভর্তি থাকা শিশুরোগীদের শতকরা ৯০ ভাগই অ্যাডিনো ভাইরাসে সংক্রমিত

জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশুরোগীর ভিড় উপচে পড়ছে কলকাতা ও জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে। সাধারণ শয্যা থেকে শুরু পেডিয়াট্রিক ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিকু) শয্যার সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু শিশুর অবস্থা এতটাই নাজুক হচ্ছে যে, তাদের ভেন্টিলেশনে রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে ভর্তি থাকা শিশুরোগীদের মধ্যে শতকরা ৯০ ক্ষেত্রেই অ্যাডিনো ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ২০১৮-১৯ সালের পরে এই ভাইরাস নতুন করে ফিরে এসেছে। তবে এ বারের ভয়াবহতা আগের বারের পরিস্থিতিকেও ছাপিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন শিশু চিকিৎসকরা।

এদিকে অ্যাডিনো ভাইরাসের এমন প্রতিপত্তিতে শঙ্কায় সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসকেরাও। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা এই ধরনের অসুখের শিকার হচ্ছেন বেশি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি। কোভিডের কারণে ঘরবন্দি শিশুরা দীর্ঘ সময়ে মেলামেশা থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছে। ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমেছে। মাস্ক পরা বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকেই। শিশুরাও এখন আর স্কুলে মাস্ক পরছে না। তাই আবহাওয়া পরিবর্তনে অল্পেই কাবু হচ্ছে তারা।

চিকিৎসকদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এই ভাইরাসকে আয়ত্তে আনা যাচ্ছে না অনেক ক্ষেত্রেই। আগে এই ভাইরাস শরীরে বাসা বাঁধলে কেবল শ্বাসকষ্ট বা পেটের সমস্যা ঘটত জ্বরের সঙ্গে। কিন্তু এ বার ভেন্টিলেশন পর্যন্ত গড়াচ্ছে সমস্যা। অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার, ভুলভাল প্রয়োগ এই ভাইরাসের চরিত্র বদলের জন্য অনেকাংশেই দায়ী বলে মনে করছেন তারা।

সাধারণত শিশুরাই এই ভাইরাসের শিকার হচ্ছে বেশি। তবে বড়রাও আক্রান্ত হতেই পারেন। আক্রান্ত হওয়ার দুইদিন থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। বায়ুবাহিত অ্যাডিনোভাইরাস সাধারণত চোখ, অন্ত্র, মূত্রনালী ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে। এই ভাইরাসের আক্রমণ ঘটলে এতটুকু সময় নষ্ট করা উচিত নয়। যত তাড়তাড়ি সম্ভব চিকিৎসা শুরু করার পক্ষপাতী বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: আনন্দবাজার

Tag :

আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে: হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মমতা

কলকাতায় জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে ভর্তি থাকা শিশুরোগীদের শতকরা ৯০ ভাগই অ্যাডিনো ভাইরাসে সংক্রমিত

Update Time : ১২:৩৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশুরোগীর ভিড় উপচে পড়ছে কলকাতা ও জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে। সাধারণ শয্যা থেকে শুরু পেডিয়াট্রিক ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিকু) শয্যার সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু শিশুর অবস্থা এতটাই নাজুক হচ্ছে যে, তাদের ভেন্টিলেশনে রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে ভর্তি থাকা শিশুরোগীদের মধ্যে শতকরা ৯০ ক্ষেত্রেই অ্যাডিনো ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ২০১৮-১৯ সালের পরে এই ভাইরাস নতুন করে ফিরে এসেছে। তবে এ বারের ভয়াবহতা আগের বারের পরিস্থিতিকেও ছাপিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন শিশু চিকিৎসকরা।

এদিকে অ্যাডিনো ভাইরাসের এমন প্রতিপত্তিতে শঙ্কায় সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসকেরাও। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা এই ধরনের অসুখের শিকার হচ্ছেন বেশি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি। কোভিডের কারণে ঘরবন্দি শিশুরা দীর্ঘ সময়ে মেলামেশা থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছে। ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমেছে। মাস্ক পরা বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকেই। শিশুরাও এখন আর স্কুলে মাস্ক পরছে না। তাই আবহাওয়া পরিবর্তনে অল্পেই কাবু হচ্ছে তারা।

চিকিৎসকদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এই ভাইরাসকে আয়ত্তে আনা যাচ্ছে না অনেক ক্ষেত্রেই। আগে এই ভাইরাস শরীরে বাসা বাঁধলে কেবল শ্বাসকষ্ট বা পেটের সমস্যা ঘটত জ্বরের সঙ্গে। কিন্তু এ বার ভেন্টিলেশন পর্যন্ত গড়াচ্ছে সমস্যা। অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার, ভুলভাল প্রয়োগ এই ভাইরাসের চরিত্র বদলের জন্য অনেকাংশেই দায়ী বলে মনে করছেন তারা।

সাধারণত শিশুরাই এই ভাইরাসের শিকার হচ্ছে বেশি। তবে বড়রাও আক্রান্ত হতেই পারেন। আক্রান্ত হওয়ার দুইদিন থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। বায়ুবাহিত অ্যাডিনোভাইরাস সাধারণত চোখ, অন্ত্র, মূত্রনালী ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে। এই ভাইরাসের আক্রমণ ঘটলে এতটুকু সময় নষ্ট করা উচিত নয়। যত তাড়তাড়ি সম্ভব চিকিৎসা শুরু করার পক্ষপাতী বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: আনন্দবাজার