প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রংপুর অঞ্চলের মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে বলেই এই অঞ্চল থেকে মঙ্গা উধাও হয়েছে। এখন আর এখানকার মানুষকে না খেয়ে থাকতে হয় না। কৃষিক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়নের কারণে মঙ্গা হারিয়ে এখন মানুষ স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে।’
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রংপুরের তারাগঞ্জ সরকারি মহাবিদ্যালয় মাঠে আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বাবলু, সহ-সভাপতি আফজালুল হক সরকার, বদরগঞ্জ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহসেনা বেগম, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী লতিফা শওকত।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, প্রধানন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল ক্ষমতায় এসে ভর্তুকির মধ্য দিয়ে কৃষককে কৃষি উপকরণ বিতরণ করছে বলেই আজ সবজি, মাছ মাংসসহ সব উপকরণের দাম হাতের নাগালে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ায় দেশের উন্নয়ন হয়েছে। তাই আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে সকাল বেলা উঠে ভোট দিতে যাবেন, নৌকায় ভোট দেবেন। আপনাদের সেবা করার জন্য আর একটিবার সুযোগ চাই।
তিনি বলেন, ‘নৌকা উন্নয়নের মার্কা, নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই স্বাধীনতা পেয়েছেন। জীবনমানসহ রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। দারিদ্র্য ও গৃহহীনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৮ সালেও এই মাঠে এসেছিলাম। নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন বলে তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ উত্তরবঙ্গে মঙ্গা দুর্ভিক্ষ নেই। আমার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান দেশ দিয়েছে, পরিচয় দিয়েছে। আর আমরা উত্তরবঙ্গসহ গোটা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেছি।
সরকারপ্রধান বলেন, নৌকা ক্ষমতায় থাকায় দেশের উন্নয়ন হয়েছে। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের খাবার ছিল না, চিকিৎসা ছিল না, আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা দিচ্ছি। মানুষ যাতে দুইবেলা খেতে পারে সেজন্য খাদ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। ভর্তুকি দিয়ে চাল ডাল চিনি দেওয়া হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে একটি মানুষও অনাহারে থাকবে না।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ১০ টাকায় কৃষকের ব্যাংক একাউন্ট খুলে বিভিন্ন সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি সার বীজসহ উপকরণ ভর্তুকিমূল্যে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের আধুনিক যন্ত্রপাতিও ভর্তুকিমূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মুজিববর্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের কেউ গৃহহীন থাকবে না, দুই কাঠা জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। আপনাদের তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জেও এখন আর কেউ গৃহহীন নেই।
সরকার প্রধান বলেন, ৩য় দফায় ক্ষমতায় থেকে রাস্তাঘাটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ফায়ার স্টেশন, মডেল মসজিদ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাগার স্থাপন, ভূমিহীন-গৃহহীনদের ঘর ও জমি প্রদান, মুক্তিযোদ্ধা প্রতিবন্ধী বিধবা ভাতা প্রদানসহ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমিহীন-গৃহহীন আর দারিদ্র্য থাকবে না। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করছি। আগামীতে ক্ষমতায় আসলে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন করবো।
সভা শেষ করে মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নৌকার প্রার্থী রাশেক রহমানের নির্বাচনী পথসভায় যোগ দেওয়ার জন্য সড়কপথে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী শ্বশুরবাড়ি পীরগঞ্জের ফতেহপুর জয় সদনে যাবেন। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ সেরে বিকেল তিনটায় পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রংপুর-৬ আসনের নৌকার প্রার্থী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
অনলাইন ডেস্ক 











