ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গতকাল এক হাজার এক মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে বিপিডিবিকে

দেশে বিদ্যুতের রেকর্ড ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদা ছিল গতকাল রবিবার। উৎপাদনে রেকর্ড করলেও এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব ছিল না। গতকাল সর্বোচ্চ উৎপাদন করা হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৯ মেগাওয়াট। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড করেছিল বাংলাদেশ—১৫ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট।

এই অবস্থায় সারা দেশে চলা দাবদাহের মধ্যে গতকাল এক হাজার এক মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি)। তবে রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিং কম হলেও গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হয়েছে। বিপিডিবি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পুরো দেশ। এতে বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই অবস্থা চলবে আরো কয়েক দিন। ফলে উৎপাদন না বাড়লে সমান তালে চলবে লোডশেডিংও। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে চেষ্টা করছে বিপিডিবি।

বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলে দিনে চার থেকে আট ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং করা হয়েছে। ফলে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ অফিস-আদালতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে। গরম সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ বাড়িয়েছে রোজাদারদের। কষ্ট পেয়েছে শিশু ও বয়স্করা।

জানতে চাইলে বিপিডিবির পরিচালক (জনসংযোগ পরিদপ্তর) মো. শামীম হাসান গতকাল  বলেন, ‘তীব্র দাবদাহের কারণে মানুষ এখন এসির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে, যার কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বিদ্যুতের উৎপাদন আরো বাড়িয়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার জন্য বিপিডিবি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

রাজধানীতে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ডিপিডিসি)—এই দুটি প্রতিষ্ঠান। ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাওসার আমীর আলী গতকাল  বলেন, ‘অতিরিক্ত চাহিদার কারণে আমাদের বিতরণ এলাকায় দিনের বেলা এক-দুই ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হয়েছে। সন্ধ্যায় চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ সরবরাহ করা গেছে। আজ (গতকাল) আমাদের বিতরণ এলাকায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল এক হাজার ২৯১ মেগাওয়াট। এযাবৎকালে এটিই সর্বোচ্চ চাহিদা। এর আগে গত বছর সর্বোচ্চ চাহিদা হয়েছিল এক হাজার ১৪৩ মেগাওয়াট।’

টঙ্গী-উত্তরা, বনানী-মহাখালী, গুলশান-বাড্ডা থেকে মিরপুর-পল্লবীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা ডেসকোর অধীন। ডিপিডিসির অধীনে আছে ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, কারওয়ান বাজার, পুরান ঢাকা ও মতিঝিল হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এলাকা।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিকাশ দেওয়ান  বলেন, ‘আজ (গতকাল) আমাদের বিতরণ এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ এক হাজার ৮৬৫ মেগাওয়াটের চাহিদা ছিল। এর আগে কখনো এত চাহিদা হয়নি। তার পরও আমাদের সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে না। তবে পাওয়ার গ্রিড কম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি) কয়েকটি এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ লাইনের কাজ করছে, সেসব এলাকায় এক-দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে।’

Tag :
জনপ্রিয়

গতকাল এক হাজার এক মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে বিপিডিবিকে

Update Time : ০২:২৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৩

দেশে বিদ্যুতের রেকর্ড ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদা ছিল গতকাল রবিবার। উৎপাদনে রেকর্ড করলেও এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব ছিল না। গতকাল সর্বোচ্চ উৎপাদন করা হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৯ মেগাওয়াট। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড করেছিল বাংলাদেশ—১৫ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট।

এই অবস্থায় সারা দেশে চলা দাবদাহের মধ্যে গতকাল এক হাজার এক মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি)। তবে রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিং কম হলেও গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হয়েছে। বিপিডিবি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পুরো দেশ। এতে বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই অবস্থা চলবে আরো কয়েক দিন। ফলে উৎপাদন না বাড়লে সমান তালে চলবে লোডশেডিংও। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে চেষ্টা করছে বিপিডিবি।

বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলে দিনে চার থেকে আট ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং করা হয়েছে। ফলে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ অফিস-আদালতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে। গরম সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ বাড়িয়েছে রোজাদারদের। কষ্ট পেয়েছে শিশু ও বয়স্করা।

জানতে চাইলে বিপিডিবির পরিচালক (জনসংযোগ পরিদপ্তর) মো. শামীম হাসান গতকাল  বলেন, ‘তীব্র দাবদাহের কারণে মানুষ এখন এসির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে, যার কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বিদ্যুতের উৎপাদন আরো বাড়িয়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার জন্য বিপিডিবি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

রাজধানীতে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ডিপিডিসি)—এই দুটি প্রতিষ্ঠান। ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাওসার আমীর আলী গতকাল  বলেন, ‘অতিরিক্ত চাহিদার কারণে আমাদের বিতরণ এলাকায় দিনের বেলা এক-দুই ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হয়েছে। সন্ধ্যায় চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ সরবরাহ করা গেছে। আজ (গতকাল) আমাদের বিতরণ এলাকায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল এক হাজার ২৯১ মেগাওয়াট। এযাবৎকালে এটিই সর্বোচ্চ চাহিদা। এর আগে গত বছর সর্বোচ্চ চাহিদা হয়েছিল এক হাজার ১৪৩ মেগাওয়াট।’

টঙ্গী-উত্তরা, বনানী-মহাখালী, গুলশান-বাড্ডা থেকে মিরপুর-পল্লবীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা ডেসকোর অধীন। ডিপিডিসির অধীনে আছে ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, কারওয়ান বাজার, পুরান ঢাকা ও মতিঝিল হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এলাকা।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিকাশ দেওয়ান  বলেন, ‘আজ (গতকাল) আমাদের বিতরণ এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ এক হাজার ৮৬৫ মেগাওয়াটের চাহিদা ছিল। এর আগে কখনো এত চাহিদা হয়নি। তার পরও আমাদের সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে না। তবে পাওয়ার গ্রিড কম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি) কয়েকটি এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ লাইনের কাজ করছে, সেসব এলাকায় এক-দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে।’