ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুম্বন করলে মাইগ্রেনের মতো মারাত্মক যন্ত্রণাও সহজেই কমে যেতে পারে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ১২:১৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ১০০৩ Time View
চুম্বনের কথা শুনলেই সকলে এর সঙ্গে যৌনতার গন্ধ পান। অথচ এর বাইরেও চুম্বনের সামাজিক গুরুত্ব আছে। চুম্বন ভালোবাসা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইউরোপের অনেক দেশেই গালে চুম্বন করাটা শুভেচ্ছা জানানোর একটি রীতি এবং কাউকে ‘হ্যালো’ বলার একটি প্রথা।
চুম্বন হল দুই ঠোঁটের স্পর্শ দিয়ে কাউকে আদর করা বা স্নেহ প্রকাশ করা। মানব সভ্যতার বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও উৎসবে চুম্বন প্রথা ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। এটি অভিবাদনের সাধারণ একটি রীতি।
গবেষকদের মতে চুম্বন শরীরের জন্যও বেশ উপকারী। উদাহরণস্বরূপ ধরুন আপনি খুব মানসিক চাপে আছেন কোনো কিছু নিয়ে। এই সময়ে ভালোবাসার মানুষটির একটি চুম্বনেই আপনার মানসিক চাপ অনেকখানি কমে যাবে। নিয়মিত চুম্বনে মানুষের যৌবনও বৃদ্ধি পায়। জেনে নেওয়া যাক চুম্বনের কিছু শারীরিক উপকারিতা।
দুজন ব্যক্তি পরস্পরকে চুম্বনের সময়ে মুখের প্রায় ৩০টি পেশি ব্যবহৃত হয়। এতে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং বয়সের কারণে সৃষ্ট মুখের বলিরেখা কমায়। প্রায় ২ মিনিট ধরে চুম্বন করলে অন্তত ৬ ক্যালোরি ক্ষয় হয়। চুম্বনে মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চুম্বনের জুড়ি নেই। চুমু খাওয়া দাঁতের জন্যও উপকারী। চুম্বনের সময় মুখের সালাইভা ফ্লো বাড়ে এবং এর ফলে দাঁত পরিষ্কার হয় ও ভালো থাকে।
যারা চুমু খেতে ভালোবাসেন এবং নিয়মিত চুমু খান তাদের ইনসোমনিয়ার সমস্যা হয় না। অন্যদের তুলনায় তারা মানসিক ভাবে স্থির প্রকৃতির হয়। চুম্বনের ফলে দেহে অক্সিটোসিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যা দেহকে প্রশান্ত রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত চুম্বনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং দাম্পত্য সম্পর্ক আরো মজবুত হয়।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, আধা ঘণ্টার চুম্বনে ৬৮ ক্যালরি বার্ন হয়। এমনকি একদল মার্কিন গবেষকরা দাবি করেছেন, চুম্বন যদি বেশি তীব্র হয় আর তখন যদি যদি খুব দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস চলে, তাহলে ৯০ ক্যালরি পর্যন্ত ঝরে পড়তে পারে।

ব্রিটেনের বাথ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা মনে করেন, চুম্বনের ফলে শরীরে অ্যান্ডরফিন হরমোন বেড়ে যায়, যা মাসিকের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, চুম্বনের একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। এসব নিচে উপস্থাপিত হলো-

১. ব্রিটেনের ‘নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড কগনিটিভ সায়েন্স’-এর বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, চুম্বন করলে মস্তিষ্কে অ্যান্ডরফিন হরমোনের ক্ষরণ হতে থাকে, যা শরীরের ব্যথা-বেদনা কমাতে সাহায্য করে। চুম্বন করলে মাইগ্রেনের মতো মারাত্মক যন্ত্রণাও সহজেই কমে যেতে পারে।

২. চুম্বনের সময় মানব মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে অবসাদ ও দুশ্চিন্তার হাত থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

৩. ব্রিটেনের বাথ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের মতে, চুম্বন আমাদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চরক্তচাপ ও অবসাদের মতো একাধিক সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে এই চুম্বন।

৪. বিশেষজ্ঞদের মতে, চুম্বনের সময় আইজিই অ্যান্টিবডি কমে যায়। শুধু তাই নয়, হিস্টারিন হরমোনের ক্ষরণও কমে যায়। ফলে অ্যালার্জির প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৫. চুম্বনের সময় মুখের ৩৪টি পেশি ও ১১২টি পস্ট্রুয়াল পেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ কারণে ফেসিয়াল পালসি, মাসকুলার ডিস্টোনিয়ার মতো সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

৬. মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও চুম্বন উপকারী। কারণ চুম্বনের সময় মুখের ভেতর প্রচুর পরিমাণে লালা নিঃসরণ হয়। একই সঙ্গে মুখের ভেতরে নানা ধরনের উৎসেচক ক্ষরিত হয়।

৭. চুম্বনের ফলে শক্তিশালী হয় ফুসফুস। নিয়মিত চুম্বনে ফুসফুস সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।

চুমু হচ্ছে ভালোবাসার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। তাই প্রেমিক-প্রেমিকারা চুমু খেয়ে থাকেন। এবার জেনে নিন কোন স্থানে চুমুর কী মানে।

Tag :

চুম্বন করলে মাইগ্রেনের মতো মারাত্মক যন্ত্রণাও সহজেই কমে যেতে পারে

Update Time : ১২:১৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
চুম্বনের কথা শুনলেই সকলে এর সঙ্গে যৌনতার গন্ধ পান। অথচ এর বাইরেও চুম্বনের সামাজিক গুরুত্ব আছে। চুম্বন ভালোবাসা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইউরোপের অনেক দেশেই গালে চুম্বন করাটা শুভেচ্ছা জানানোর একটি রীতি এবং কাউকে ‘হ্যালো’ বলার একটি প্রথা।
চুম্বন হল দুই ঠোঁটের স্পর্শ দিয়ে কাউকে আদর করা বা স্নেহ প্রকাশ করা। মানব সভ্যতার বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও উৎসবে চুম্বন প্রথা ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। এটি অভিবাদনের সাধারণ একটি রীতি।
গবেষকদের মতে চুম্বন শরীরের জন্যও বেশ উপকারী। উদাহরণস্বরূপ ধরুন আপনি খুব মানসিক চাপে আছেন কোনো কিছু নিয়ে। এই সময়ে ভালোবাসার মানুষটির একটি চুম্বনেই আপনার মানসিক চাপ অনেকখানি কমে যাবে। নিয়মিত চুম্বনে মানুষের যৌবনও বৃদ্ধি পায়। জেনে নেওয়া যাক চুম্বনের কিছু শারীরিক উপকারিতা।
দুজন ব্যক্তি পরস্পরকে চুম্বনের সময়ে মুখের প্রায় ৩০টি পেশি ব্যবহৃত হয়। এতে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং বয়সের কারণে সৃষ্ট মুখের বলিরেখা কমায়। প্রায় ২ মিনিট ধরে চুম্বন করলে অন্তত ৬ ক্যালোরি ক্ষয় হয়। চুম্বনে মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চুম্বনের জুড়ি নেই। চুমু খাওয়া দাঁতের জন্যও উপকারী। চুম্বনের সময় মুখের সালাইভা ফ্লো বাড়ে এবং এর ফলে দাঁত পরিষ্কার হয় ও ভালো থাকে।
যারা চুমু খেতে ভালোবাসেন এবং নিয়মিত চুমু খান তাদের ইনসোমনিয়ার সমস্যা হয় না। অন্যদের তুলনায় তারা মানসিক ভাবে স্থির প্রকৃতির হয়। চুম্বনের ফলে দেহে অক্সিটোসিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যা দেহকে প্রশান্ত রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত চুম্বনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং দাম্পত্য সম্পর্ক আরো মজবুত হয়।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, আধা ঘণ্টার চুম্বনে ৬৮ ক্যালরি বার্ন হয়। এমনকি একদল মার্কিন গবেষকরা দাবি করেছেন, চুম্বন যদি বেশি তীব্র হয় আর তখন যদি যদি খুব দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস চলে, তাহলে ৯০ ক্যালরি পর্যন্ত ঝরে পড়তে পারে।

ব্রিটেনের বাথ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা মনে করেন, চুম্বনের ফলে শরীরে অ্যান্ডরফিন হরমোন বেড়ে যায়, যা মাসিকের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, চুম্বনের একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। এসব নিচে উপস্থাপিত হলো-

১. ব্রিটেনের ‘নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড কগনিটিভ সায়েন্স’-এর বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, চুম্বন করলে মস্তিষ্কে অ্যান্ডরফিন হরমোনের ক্ষরণ হতে থাকে, যা শরীরের ব্যথা-বেদনা কমাতে সাহায্য করে। চুম্বন করলে মাইগ্রেনের মতো মারাত্মক যন্ত্রণাও সহজেই কমে যেতে পারে।

২. চুম্বনের সময় মানব মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে অবসাদ ও দুশ্চিন্তার হাত থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

৩. ব্রিটেনের বাথ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের মতে, চুম্বন আমাদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চরক্তচাপ ও অবসাদের মতো একাধিক সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে এই চুম্বন।

৪. বিশেষজ্ঞদের মতে, চুম্বনের সময় আইজিই অ্যান্টিবডি কমে যায়। শুধু তাই নয়, হিস্টারিন হরমোনের ক্ষরণও কমে যায়। ফলে অ্যালার্জির প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৫. চুম্বনের সময় মুখের ৩৪টি পেশি ও ১১২টি পস্ট্রুয়াল পেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ কারণে ফেসিয়াল পালসি, মাসকুলার ডিস্টোনিয়ার মতো সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

৬. মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও চুম্বন উপকারী। কারণ চুম্বনের সময় মুখের ভেতর প্রচুর পরিমাণে লালা নিঃসরণ হয়। একই সঙ্গে মুখের ভেতরে নানা ধরনের উৎসেচক ক্ষরিত হয়।

৭. চুম্বনের ফলে শক্তিশালী হয় ফুসফুস। নিয়মিত চুম্বনে ফুসফুস সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।

চুমু হচ্ছে ভালোবাসার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। তাই প্রেমিক-প্রেমিকারা চুমু খেয়ে থাকেন। এবার জেনে নিন কোন স্থানে চুমুর কী মানে।