জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়, আমরা মানুষ আমাদেরও ভুল ত্রুটি হয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।
নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, “আমরা একটা কথা পরিষ্কার বলেছি যে, অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসাথে চলে না। কিন্তু এর দ্বারা এটাও আমরা মিন করছি না, আমরা কোনো অন্যায় করি না । আমরা মানুষ আমাদের ভুল হয়, অন্যায় হয়, দোষ হয়, অপরাধ হয়।
“আমরা আহ্বান জানিয়েছি যারা দেশকে ভালোবাসেন, জাতিকে ভালোবাসেন, অন্যায় অপরাধ দেখলে আমাদেরকে ধরিয়ে দিন। কথা দিচ্ছি আমরা সংশোধন করব।’
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার উদ্যোগে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মাল্টিপারপাস হলে সদস্য (রুকন) সম্মেলনে কথা বলছিলেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গত বুধবার দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। এর আগে ‘নৈতিকতার প্রশ্নে’ গাজী নজরুলকে নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যে পড়ে দলটি।
রুকন সম্মেলনে শফিকুর রহমান সরাসরি ওই ঘটনা নিয়ে কিছু না বললেও তার বক্তব্যে সে ‘ইঙ্গিত’ ছিল বলেই মনে করছেন দলটির অনেকে। নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, “আমি সহকর্মীদের বলব, গায়ে যদি আপনার সাদা কাপড় থাকে আপনাকে যত্নশীল হতে হবে। সমাজে যে কথাটা আছে, সাদা কাপড়ে দাগ লাগা ঠিক না। সাদা কাপড়ে দাগ কম লাগে কিন্তু যা লাগে তা ভাসে বেশি। কেয়ারফুল, নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীতে কোনো ছাড় নাই।”
এ বক্তব্যের আগে সংবিধান ও গণভোটের ফল বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকারের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা। সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, “আমি বিনীতভাবে অনুরোধ জানাই, বেশি সংবিধান কচলাইতে যাইয়েন না। না হলে নিজেদের অস্তিত্ব আর খুঁজে পাবেন না।
“সংবিধানে অনেক কিছু আছে এখনো হাত দিতে পারেননি। হাত দিতে পারবেন কিনা তাও জানি না।”
সংবিধান ‘সংস্কার’ নাকি ‘সংশোধন’ প্রশ্নে তিনি বলেন, “তারা একটা গোজামিল নিয়ে আসলেন। বললেন যে, সংস্কার নয় সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি হবে, আপনারাও আসেন; আমরাও আসি; সবাই মিলে করি। আমরা বললাম, জনগণ সংস্কারের জন্য ভোট দিয়েছে সংবিধান সংশোধনের জন্য দেয়নি। ওই সংস্কার হলেই সংবিধান সংশোধন হবে। আর সংস্কার না হলে যে সংবিধান আপনারা সংশোধন করবেন, সেটার মতলব কি হবে ওটা আমরা জানি।”
সংবিধান সংশোধন কোনো দলের স্বার্থে হওয়া উচিত নয় বরং মানুষের স্বার্থে হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।
সংবিধান সংস্কারে দেরি করলে নিজেদের ও দেশের ক্ষতি হবে বলে সরকারকে সতর্ক করে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি তোলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা দেখতে চাই জনগণের রায়কে সরকার সম্মান করছে। আমরা এই দাবি পরিত্যক্ত ঘোষণা করব না। এই দাবি আদায় করার জন্য যা দরকার আমরা তাই করে যাব।”
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল।
অনলাইন ডেস্ক 

















