ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে সাড়ে ৪ কোটি মানুষ, খাবারের মূল্য ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি বা ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, বিশ্বের ৪৩টি দেশে অন্তত ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সোমবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর আল জাজিরার।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির খাদ্য নিরাপত্তা মূল্যায়নে বলা হয়, আফগানিস্তানে ইতোমধ্যে দুর্ভিক্ষের কবলে রয়েছেন ৩০ লাখ মানুষ।

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেন, ‘লাখো মানুষ অতলে তলিয়ে যাচ্ছে। চরম ক্ষুধার্তের সংখ্যা বাড়ছে সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিড-১৯ এর কারণে।’

আফগানিস্তানে এক সফরের পর তিনি বলেন, ‘নতুন নথি থেকে জানা গেছে, আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

বিশ্বে খাবারের মূল্য ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ:

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, এক দশকের মধ্যে বিশ্বে খাবারের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর খাবারের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ। শুক্রবার বিবিসি এ খবর জানায়।

খাদ্যশস্য ও ভোজ্য তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করছে বিশ্ব সংস্থাটি। গত অক্টোবরে ভোজ্য তেলের ১০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়।

সরবরাহের অভাব, নিত্যপণ্যের উচ্চ মূল্য, কারখানা বন্ধ হওয়া এবং দেশে দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে খাবারের দাম বাড়ছে। জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, এক বছর আগের তুলনায় খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে ২২ শতাংশ।

এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে গমের দাম বেড়ে যাওয়াটা মূল ভূমিকায় রয়েছে। গত এক বছরে গমের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ।

এর কারণ হিসেবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান রপ্তানিকারক দেশ কানাডা, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে গমের আবাদ কম হয়েছে।

খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে গেলো কেনো? এর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকেও দায়ী করেছে এফএও।

অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিজনেস স্কুল-এর কৃষিবাণিজ্য বিশেষজ্ঞ পিটার ব্যাট বলেন, ‘খাদ্যশস্য উৎপাদনের প্রসঙ্গ এলে বলতে হয়, আমরা এমন একটা পরিস্থিতিতে রয়েছি যখন কেউ বলতে পারে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ উৎপাদন কমে গেছে।’

খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক স্থানে আমরা যথেষ্ট খারাপ বছর পার করেছি।’ এফএও বলছে, পাম, সয়াবিন, সূর্যমূখী তেল ও সরিষার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোজ্য তেলের দাম বাড়ছে। তাছাড়া, শ্রমিক সংকটের কারণে খাবার উৎপাদন ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তা পরিবহনের ব্যয় বেড়েও খাবারের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমিক সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। সেইসঙ্গে উৎপাদিত খাবার বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌঁছানোর খরচও বেড়েছে।

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনটি করতে তাদের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সি (আইআরইএনএ) কাজ করেছে। এতে বিশ্বজুড়ে মাংসের যোগান দেয়া পোল্ট্রি ও ভেড়ার দাম বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

Tag :

দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে সাড়ে ৪ কোটি মানুষ, খাবারের মূল্য ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

Update Time : ০৪:১২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর ২০২১

জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি বা ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, বিশ্বের ৪৩টি দেশে অন্তত ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সোমবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর আল জাজিরার।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির খাদ্য নিরাপত্তা মূল্যায়নে বলা হয়, আফগানিস্তানে ইতোমধ্যে দুর্ভিক্ষের কবলে রয়েছেন ৩০ লাখ মানুষ।

ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেন, ‘লাখো মানুষ অতলে তলিয়ে যাচ্ছে। চরম ক্ষুধার্তের সংখ্যা বাড়ছে সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিড-১৯ এর কারণে।’

আফগানিস্তানে এক সফরের পর তিনি বলেন, ‘নতুন নথি থেকে জানা গেছে, আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

বিশ্বে খাবারের মূল্য ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ:

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, এক দশকের মধ্যে বিশ্বে খাবারের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর খাবারের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ। শুক্রবার বিবিসি এ খবর জানায়।

খাদ্যশস্য ও ভোজ্য তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করছে বিশ্ব সংস্থাটি। গত অক্টোবরে ভোজ্য তেলের ১০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়।

সরবরাহের অভাব, নিত্যপণ্যের উচ্চ মূল্য, কারখানা বন্ধ হওয়া এবং দেশে দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে খাবারের দাম বাড়ছে। জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, এক বছর আগের তুলনায় খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে ২২ শতাংশ।

এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে গমের দাম বেড়ে যাওয়াটা মূল ভূমিকায় রয়েছে। গত এক বছরে গমের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ।

এর কারণ হিসেবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান রপ্তানিকারক দেশ কানাডা, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে গমের আবাদ কম হয়েছে।

খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে গেলো কেনো? এর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকেও দায়ী করেছে এফএও।

অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিজনেস স্কুল-এর কৃষিবাণিজ্য বিশেষজ্ঞ পিটার ব্যাট বলেন, ‘খাদ্যশস্য উৎপাদনের প্রসঙ্গ এলে বলতে হয়, আমরা এমন একটা পরিস্থিতিতে রয়েছি যখন কেউ বলতে পারে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ উৎপাদন কমে গেছে।’

খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক স্থানে আমরা যথেষ্ট খারাপ বছর পার করেছি।’ এফএও বলছে, পাম, সয়াবিন, সূর্যমূখী তেল ও সরিষার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোজ্য তেলের দাম বাড়ছে। তাছাড়া, শ্রমিক সংকটের কারণে খাবার উৎপাদন ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তা পরিবহনের ব্যয় বেড়েও খাবারের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমিক সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। সেইসঙ্গে উৎপাদিত খাবার বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌঁছানোর খরচও বেড়েছে।

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনটি করতে তাদের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সি (আইআরইএনএ) কাজ করেছে। এতে বিশ্বজুড়ে মাংসের যোগান দেয়া পোল্ট্রি ও ভেড়ার দাম বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।