ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দেশে পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: আসামি সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা; স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ২ জুন ২০২৬ আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩ জুন ২০২৬ আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে: হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মমতা ভাঙ্গায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, নিহত ৫ ফরিদপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

দেশের শাসনভার গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন তারেক রহমান

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১৩ Time View

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে আসা তারেক রহমান এখন দেশের শাসনভার গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাড়ি জমানোর পর দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তিনি। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হাল ধরেছেন এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

রয়টার্স বলছে, শেখ হাসিনার পতনের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতায় তারেক রহমানের এই উত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভাবনীয় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তারেক রহমান তার নির্বাচনি প্রচারে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে ক্ষমতায় গেলে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না—এমন সাংবিধানিক সংস্কার আনা হবে যাতে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধ করা যায়।

এছাড়া তিনি দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, দুর্নীতি দমন এবং কেবল তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো নতুন শিল্প বিকাশের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতি-নির্ভরশীল না হয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের নীতিতে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি দলের ক্ষমতায় আসা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণে এক বড় পরিবর্তন। একদিকে তিনি তার বাবা ও মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন, অন্যদিকে নিজেকে একজন ‘পলিসি মেকার’ বা নীতি-নির্ধারক হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছেন। মাঠপর্যায়ে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান এবং ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাকে এই নির্বাচনের ফ্রন্টরানার বা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নির্ধারিত হবে তারেক রহমানের এই ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতা’র সফর চূড়ান্ত পরিণতি পায় কি না।

Tag :

দেশে পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা

দেশের শাসনভার গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন তারেক রহমান

Update Time : ০৯:০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে আসা তারেক রহমান এখন দেশের শাসনভার গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাড়ি জমানোর পর দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তিনি। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হাল ধরেছেন এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

রয়টার্স বলছে, শেখ হাসিনার পতনের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতায় তারেক রহমানের এই উত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভাবনীয় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তারেক রহমান তার নির্বাচনি প্রচারে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে ক্ষমতায় গেলে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না—এমন সাংবিধানিক সংস্কার আনা হবে যাতে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধ করা যায়।

এছাড়া তিনি দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, দুর্নীতি দমন এবং কেবল তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো নতুন শিল্প বিকাশের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতি-নির্ভরশীল না হয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের নীতিতে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি দলের ক্ষমতায় আসা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণে এক বড় পরিবর্তন। একদিকে তিনি তার বাবা ও মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন, অন্যদিকে নিজেকে একজন ‘পলিসি মেকার’ বা নীতি-নির্ধারক হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছেন। মাঠপর্যায়ে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান এবং ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাকে এই নির্বাচনের ফ্রন্টরানার বা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নির্ধারিত হবে তারেক রহমানের এই ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতা’র সফর চূড়ান্ত পরিণতি পায় কি না।