দেশে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ৩৬৪ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। যাদের মধ্যে ১৯৪ জনই ছিল স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপের এ তথ্য উঠে এসেছে। আগামীকাল (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ ভার্চুয়ালি এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
১৫০টি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার তথ্য থেকে এই সমীক্ষা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে দেখা গেছে প্রেমঘটিত কারণে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
সমীক্ষায় বলা হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যার ১৯৪ জনই স্কুল শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৬ জন আত্মহত্যা করেছে কলেজ শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৫০টি। আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৪৪ জন মাদরাসার শিক্ষার্থীও আছে।
আত্মহত্যা প্রবণতা বেশি পাওয়া গেছে ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের মধ্যে। এই বয়সী ১৬০ জন আত্মহত্যা করেছে। এমনকি ৭ বছরের এক শিশুও আত্মহত্যা করেছে বলে জানানো হয়।
জরিপে উঠে এসেছে, আত্মহত্যাকারীদের অবস্থান বিবেচনায় সবার শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। আত্মহননকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৫.২৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬.৪৮ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১৪.০১ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৮.৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছেন।
এছাড়া আত্মহননকারীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৯.৬২ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭.৪২ শতাংশ এবং রাজশাহী বিভাগে ১৪.০১ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছেন। অপরদিকে সিলেট বিভাগে তুলনামূলক কম সংখ্যক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন, যা ৪ শতাংশ।
আত্মহত্যায় এবারও এগিয়ে আছে মেয়ে শিক্ষার্থীরা, যা মোট আত্মহননকারীদের ৬০.৭১ শতাংশ বা ২২১ জন। অন্যদিকে ছেলে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩৯.২৯ শতাংশ বা ১৪৩ জন।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি ডিভিশন) আজিজুল হক মামুন এবং আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক 




















