ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউজিল্যান্ডে ‘সন্ত্রাসী হামলা’র জেরে সবগুলো সুপার মার্কেটের তাক থেকে ছুরি-কাঁচি সরিয়ে নেয়া হয়েছে

নিউজিল্যান্ডে ‘সন্ত্রাসী হামলা’র জেরে দেশটির সবগুলো সুপার মার্কেটের তাক থেকে ছুরি-কাঁচি আপাতত সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শনিবার এগুলো তাক থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। খবর সিনহুয়ার।

অকল্যান্ড শহরে শুক্রবার বিকেলে একটি সুপারমার্কেটে প্রবেশ করে এক ব্যক্তি ছুরি নিয়ে অন্তত ছয়জনকে জখম করে। পরে পুলিশ গুলি করে ওই হামলাকারীকে হত্যা করেছে। বিবিসির খবরে বলা হয়, জখম হওয়াদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডের্ন এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বর্ণনা করেন। হামলাকারী শ্রীলঙ্কান বংশদ্ভূত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি কয়েক বছর ধরে পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। জেসিন্ডা বলেন, হামলাকারী জঙ্গি গোষ্ঠি আইএস (ইসলামিক স্ট্যাট) দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার এক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আজ যা ঘটলো, তা বর্ণনাতীত। এটা নিন্দনীয় এবং এটা অপরাধ।’ তিনি বলেন, ‘এটা এক ব্যক্তি ঘটিয়েছেন, কোনো বিশ্বাস ঘটনায়নি।’

অকল্যান্ডে হামলাকারী যে ছুরিটি ব্যবহার করেছিল, সেটি ওই সুপারমার্কেটের একটি দোকানের তাক থেকে নেয়া। এ প্রেক্ষাপটে নিউজিল্যান্ডের এক কর্মকর্তা জানান, তারা দোকানের তাকে ছুরি-কাঁচির প্রদর্শন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ হামলার জেরে নিউজিল্যান্ডে প্রকাশ্যে ছুরি-কাঁচি বিক্রির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকার বিবেচনা করছে তারা সুপার মার্কেটগুলোকে এগুলো বিক্রির অনুমতি দেবে কিনা।

হামলা শুরু কীভাবে? শুক্রবার বিকেলে নিউ লিন জেলার লিন মলে কাউন্টডাউন সুপারমার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারী যখন দোকানের তাকের ভেতর থেকে বিক্রির জন্য রাখা বড় একটা ছুরি নিয়ে আশপাশের লোকজনকে এলোপাথাড়ি ছুরি মারতে শুরু করে, তখন পুলিশের নজরদারি দল কাছাকাছিই ছিল।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ডের সংবাদ চ্যানেল স্টাফ এনজেডকে বলেন, সুপারমার্কেটের ভেতর একটা ত্রাসের সৃষ্টি হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের গুলির আওয়াজ শোনার আগেই উদভ্রান্ত মানুষ ছুটে পালাচ্ছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘(লোকজন) ছুটে পালাচ্ছিল, পাগলের মত ছুটছিল, শুধু চিৎকার করছিল, ভীত সন্ত্রস্ত মানুষের আর্ত চিৎকার শোনা যাচ্ছিল।’ তিনি বলেন, ছুরিকাহত বয়স্ক এক ব্যক্তিকে তিনি মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন।

হামলাকারীর পরিচয় আদালতের নির্দেশ থাকায় প্রকাশ করা যায়নি। তবে ওই ব্যক্তি ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে নিউজিল্যান্ডে যান। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে ২০১৬ সাল থেকে তিনি পুলিশের নজরদারির আওতায় আসেন।

তার মতাদর্শের কারণে তৈরি উদ্বেগ থেকে ২৪ ঘণ্টা তার গতিবিধি নজরে রাখা হচ্ছিল এবং তার ওপর কড়া নজরদারি ছিল। একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা তার সম্পর্কে অবহিত ছিল এবং নজরদারিতে থাকা সন্ত্রাসীদের তালিকায় তার নাম ছিল।সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

Tag :

নিউজিল্যান্ডে ‘সন্ত্রাসী হামলা’র জেরে সবগুলো সুপার মার্কেটের তাক থেকে ছুরি-কাঁচি সরিয়ে নেয়া হয়েছে

Update Time : ১২:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

নিউজিল্যান্ডে ‘সন্ত্রাসী হামলা’র জেরে দেশটির সবগুলো সুপার মার্কেটের তাক থেকে ছুরি-কাঁচি আপাতত সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শনিবার এগুলো তাক থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। খবর সিনহুয়ার।

অকল্যান্ড শহরে শুক্রবার বিকেলে একটি সুপারমার্কেটে প্রবেশ করে এক ব্যক্তি ছুরি নিয়ে অন্তত ছয়জনকে জখম করে। পরে পুলিশ গুলি করে ওই হামলাকারীকে হত্যা করেছে। বিবিসির খবরে বলা হয়, জখম হওয়াদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডের্ন এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বর্ণনা করেন। হামলাকারী শ্রীলঙ্কান বংশদ্ভূত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি কয়েক বছর ধরে পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। জেসিন্ডা বলেন, হামলাকারী জঙ্গি গোষ্ঠি আইএস (ইসলামিক স্ট্যাট) দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার এক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আজ যা ঘটলো, তা বর্ণনাতীত। এটা নিন্দনীয় এবং এটা অপরাধ।’ তিনি বলেন, ‘এটা এক ব্যক্তি ঘটিয়েছেন, কোনো বিশ্বাস ঘটনায়নি।’

অকল্যান্ডে হামলাকারী যে ছুরিটি ব্যবহার করেছিল, সেটি ওই সুপারমার্কেটের একটি দোকানের তাক থেকে নেয়া। এ প্রেক্ষাপটে নিউজিল্যান্ডের এক কর্মকর্তা জানান, তারা দোকানের তাকে ছুরি-কাঁচির প্রদর্শন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ হামলার জেরে নিউজিল্যান্ডে প্রকাশ্যে ছুরি-কাঁচি বিক্রির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকার বিবেচনা করছে তারা সুপার মার্কেটগুলোকে এগুলো বিক্রির অনুমতি দেবে কিনা।

হামলা শুরু কীভাবে? শুক্রবার বিকেলে নিউ লিন জেলার লিন মলে কাউন্টডাউন সুপারমার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারী যখন দোকানের তাকের ভেতর থেকে বিক্রির জন্য রাখা বড় একটা ছুরি নিয়ে আশপাশের লোকজনকে এলোপাথাড়ি ছুরি মারতে শুরু করে, তখন পুলিশের নজরদারি দল কাছাকাছিই ছিল।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ডের সংবাদ চ্যানেল স্টাফ এনজেডকে বলেন, সুপারমার্কেটের ভেতর একটা ত্রাসের সৃষ্টি হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের গুলির আওয়াজ শোনার আগেই উদভ্রান্ত মানুষ ছুটে পালাচ্ছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘(লোকজন) ছুটে পালাচ্ছিল, পাগলের মত ছুটছিল, শুধু চিৎকার করছিল, ভীত সন্ত্রস্ত মানুষের আর্ত চিৎকার শোনা যাচ্ছিল।’ তিনি বলেন, ছুরিকাহত বয়স্ক এক ব্যক্তিকে তিনি মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন।

হামলাকারীর পরিচয় আদালতের নির্দেশ থাকায় প্রকাশ করা যায়নি। তবে ওই ব্যক্তি ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে নিউজিল্যান্ডে যান। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে ২০১৬ সাল থেকে তিনি পুলিশের নজরদারির আওতায় আসেন।

তার মতাদর্শের কারণে তৈরি উদ্বেগ থেকে ২৪ ঘণ্টা তার গতিবিধি নজরে রাখা হচ্ছিল এবং তার ওপর কড়া নজরদারি ছিল। একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা তার সম্পর্কে অবহিত ছিল এবং নজরদারিতে থাকা সন্ত্রাসীদের তালিকায় তার নাম ছিল।সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল