ফরিদপুর জিলা স্কুলের ইতিহাস
- ১৮৪০: ফরিদপুর জিলা স্কুলের যাত্রা শুরু হয় ‘ইংলিশ সেমিনারি স্কুল’ নামে, যা তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এডগার এফ লুথার প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৫১: ব্রিটিশ সরকার স্কুলটির দায়িত্ব নেয় এবং এর নামকরণ করা হয় ফরিদপুর জিলা স্কুল।
- ব্রিটিশ শাসনামলে এটি সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হাতেগোনা কয়েকটি বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম ছিল।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি ফরিদপুর অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক আন্দোলন ও সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
- স্কুলটি বর্তমানে দুটি শিফটে (সকাল ও দিন) পরিচালিত হয় এবং এর রয়েছে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও কম্পিউটার ল্যাব।
- ফরিদপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই স্কুলের ক্যাম্পাসে একটি ছাত্রাবাস, জিমনেসিয়াম, তিনটি খেলার মাঠ, একটি বাস্কেটবল কোর্ট এবং দুটি পুকুর রয়েছে।
- ১৮৫ বছরের দীর্ঘ পথচলায় ফরিদপুর জিলা স্কুল শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, বরং এটি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একটি সুতোয় গেঁথে রেখেছে এবং সম্প্রতি ১৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এর বর্ণাঢ্য উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শিক্ষা কার্যক্রম
১৯৯০ সাল থেকে ফরিদপুর জিলা স্কুলে প্রভাতী ও দিবা দুইটি শাখায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের মোট ছাত্র সংখ্যা ১৫০০ এবং শিক্ষকশিক্ষিকার সংখ্যা ৫০ জন। এ ছাড়া অফিস সহকারী, এমএলএস ও নৈশ প্রহরী মিলে ১০ জন প্রশাসনিক কর্মচারীর রয়েছে। বিদ্যালয়ে ছাত্রদের সুযোগ-সুবিধার মধ্যে আছে গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ও ল্যাবরেটরি। স্কুল গ্রন্থাগারে গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় দশ হাজার এবং কম্পিউটারের সংখ্যা ১০টি।
শিক্ষার্থীদের পোশাক
স্কুলের নির্দিষ্ট পোশাক হল আকাশী বা নীল শার্ট, নেভি ব্লু প্যান্ট ও সাদা জুতো। শার্ট ফুল হাতা গ্রহণযোগ্য। শার্টের পকেটের উপর স্কুলের লোগো থাকা এবং গলায় ঝুলানো ফিতাযুক্ত আইডি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া শীতকালে নীল রঙের সোয়েটারও ইউনিফরমের অন্তর্ভুক্ত।
সহশিক্ষা কার্যক্রম
জিলা স্কুলের সহশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছেঃ
- ফরিদপুর জিলা স্কুল ডিবেটিং ক্লাব (FZSDC)
- ফরিদপুর জিলা স্কুল ক্রিকেট দল
- বাংলাদেশ স্কাউট
- বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর(বিএনসিসি)
- বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট
উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- জসীম উদ্দীন – পল্লীকবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক ও লেখক
- আ.ন.ম বজলুর রশীদ – বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, কবি, ঔপন্যাসিক
- অম্বিকাচরণ মজুমদার – রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং সমাজসেবী
- জলধর সেন – লেখক, সাংবাদিক এবং পরিব্রাজক
- এটিএম সামছুল হুদা – বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার
- কাজী দীন মোহাম্মদ – বাংলাদেশী চিকিৎসক ও অধ্যাপক; পরিচালক জাতীয় স্নায়ুরোগ ইন্সটিটিউট।
- সুফি মোতাহার হোসেন – কবি, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন
- হাসনাত আব্দুল হাই – কথাসাহিত্যিক, রাস্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসাবে একুশে পদক (১৯৯৬), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৭)সহ দেশি-বিদেশি নানা পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
- হাবীবুল্লাহ সিরাজী – কবি ও লেখক, তিনি একুশে পদক (২০১৬), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১)সহ দেশ-বিদেশের নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
- রফিকুল ইসলাম – বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা
- আনিস উদ দৌলা – বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা, এসিআই গ্রুপ এর কর্ণধার
- মাহমুদুন্নবী – বিখ্যাত বাংলাদেশী কন্ঠশিল্পী
- মুস্তফা মনোয়ার – আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পকলার শিক্ষক, নাট্য নির্মাতা এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, পেয়েছেন একুশে পদকসহ বিভিন্ন স্বীকৃতি।
- রিয়াজ – বাংলাদেশী চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা
১৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনব্যাপী উৎসব ও পুনর্মিলনীর আয়োজন করেছে ফরিদপুর জিলা স্কুল
আগামীকাল উৎসবের সকালে জাতীয় পতাকা ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দুই দিনের এ অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শপথ গ্রহণ এবং বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িসহ র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করবে।
শুক্রবার রাতে র্যাফেল ড্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা জেমসের লাইভ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।
১৮৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরিদপুর জিলা স্কুল ব্রিটিশ শাসনামলে সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা হাতে গোনা কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি। ১৮৫ বছরের দীর্ঘ পথচলায় এ স্কুলটি এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক আন্দোলন ও সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সময়ের পরিক্রমায় স্কুলটি তার ঐতিহ্য ও মর্যাদা অটুট রেখে আজও এলাকার অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছে।
উৎসব সফল করতে ‘১৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও পুনর্মিলনী কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোস্তাফিজুর রহমান শামীম এবং সদস্য সচিব হিসেবে আছেন ওয়াহিদ মিয়া কুটি। এছাড়া সফল আয়োজন সম্পন্ন করতে আরও ২০টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শামীম বলেন, ‘এই উৎসবের মাধ্যমে স্কুলের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই গৌরবময় উত্তরাধিকার পরিচয় করিয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।’
সদস্য সচিব ওয়াহিদ মিয়া কুটি জানান, কোনো প্রধান বা বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ না জানিয়েই আয়োজকেরা নিজেদের মতো করে অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘স্কুলের বাইরে থেকে কাউকে আমরা আমন্ত্রণ জানাইনি বা সম্পৃক্ত করিনি। ফরিদপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরাই আমাদের প্রধান ও বিশেষ অতিথি।’
দুই দিনের অনুষ্ঠানসূচি
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর)
সকাল ৮াট উপস্থিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময়, সকাল ৯টা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সকাল ১০টা বর্ণিল আনন্দ র্যালি, বেলা ১১টা স্কুল উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিষয়ক আলোচনা, সাড়ে ১১টা স্মৃতিচারণ ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, ১টা মধ্যাহ্ন বিরতি, বিকেল ৩টা স্মৃতিচারণ ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা আতশবাশি উৎসব, সন্ধ্যা ৬টা স্কুলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং সাড়ে ৬টা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
দ্বিতীয় দিন শুক্রবার
সকাল ৮টা মিনি ম্যারাথন, সকাল ৯টা স্কুলের বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সকাল ১০টা পিঠা উৎসব ও সংগীতানুষ্ঠান, বেলা ১১টা স্মৃতিচারণ ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, বিকেল ৩টা স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান, ৬টা সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠান, সাড়ে ৬টা র্যাফেল ড্র, রাত সাড়ে ৭টা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা।
মো: রোকন উদ্দিন রুমন 

















